ঢাকা বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বিয়ের ১০ বছর পর একসঙ্গে ৭ সন্তানের জন্ম, বাঁচেনি কেউ

বিয়ের ১০ বছর পর একসঙ্গে ৭ সন্তানের জন্ম, বাঁচেনি কেউ

দীর্ঘ ১০ বছরের অপেক্ষার পর একই সঙ্গে সাত সন্তানের জন্ম দিয়েছেন সালমা বেগম নামে এক গৃহবধূ। ওই দম্পতির ঘর আলো করে চারটি ছেলে ও তিনটি মেয়ে সন্তান এলেও শেষ পর্যন্ত কাউকেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি। নড়াইলের মাইজপাড়া ইউনিয়নের কালুখালী গ্রামে এই ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার বিকালের দিকে সাত নবজাতকদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্বজনরা জানান, গত সোমবার রাতে সালমা বেগমের প্রসব বেদনা উঠলে তাকে দ্রুত যশোরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে মঙ্গলবার রাতে প্রথমে দুটি এবং বুধবার রাতে একে একে আরও পাঁচটি সন্তান প্রসব করেন তিনি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অপরিণত বয়সে ভূমিষ্ঠ হওয়ায় তাদের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল এবং শেষ পর্যন্ত তাদের মৃত্যু হয়। বর্তমানে মা সালমা বেগম যশোরেরই একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের কালুখালী গ্রামের লতিফ মোল্যার ছেলে মহসিন মোল্যা ১০ বছর আগে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি পর্যায়ক্রমে সৌদি আরব ও মালয়েশিয়াতে ৭ বছর কাটান। মহসিন ৩ বছর আগে বাড়িতে ফিরে বর্তমানে তিনি ইজিবাইক চালান। মহসিন মোল্যা ও সালমা বেগম দম্পতির বিয়ের ১০ বছর পার হলেও তাদের কোনো সন্তান ছিল না। সম্প্রতি আল্ট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্টে ছয়টি সন্তানের কথা জানা গেলেও বাস্তবে সাতটি সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। তবে নির্দিষ্ট সময়ের অনেক আগে (সাড়ে পাঁচ মাস) জন্ম হওয়ায় নবজাতকদের বাঁচানো যায়নি।

বিগত ৫ বছর আগে একবার মহসিন মোল্যার স্ত্রী সন্তান সম্ভাবনা হয়েছিলেন। কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভপাতের কারণে বাচ্চাটি নষ্ট হয়ে যায়। দীর্ঘ ১০ বছর পর সালমা বেগম পুনরায় সন্তান-সম্ভাবনা হন। কয়েক মাস পর পরীক্ষা নিরীক্ষা করে চিকিৎসক জানান, সালমার গর্ভে ৬টি সন্তান রয়েছে। কিন্তু চিকিৎসকের রিপোর্ট ভুল প্রমাণিত করে সালমা বেগম ৭টি সন্তান প্রসব করেন। মহসিন মোল্যার মা জানান, ৬টি সন্তানের খবর জানতে পেরে তাদের পরিবারে আনন্দের জোয়ার বইছিল। তার পুত্রবধুর সেবাযত্নের কোনো কমতি ছিল না। গত সোমবার (৪ মে) বিকালে হঠাৎ করে তার পুত্রবধুর পেটে ব্যাথা শুরু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ভর্তি করার পর গত মঙ্গলবার রাতে প্রথমে একটি সন্তান প্রসব করে।

নবতাজক শিশুটি কিছুক্ষণ পর মারা গেলে মহসিনের বাবা লাশটি নিয়ে গ্রামেরবাড়িতে চলে আসেন। এরপর রাতে আরো একটি সন্তান প্রসব করে। কিছুক্ষণ পর দ্বিতীয় শিশুটিরও মৃত্যু হয়। এরপর রাতেই যশোরের একটি কবরস্থানে দাফন করা হয় দ্বিতীয় শিশুটিকে। পরের দিন বুধবার রাতে একে একে আরও ৫টি সন্তান প্রসব করেন সালমা বেগম। জন্মের বেশ কিছুক্ষণ পর শিশুগুলির মৃত্যু হয়।

নবজাতকদের দাদা আব্দুল লতিফ মোল্লা অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে আগে সৌদি আরবে থাকত। তিন বছর আগে দেশে এসে ইজিবাইক চালিয়ে সংসারের হাল ধরেছে। বিয়ের ১০ বছর পর নাতিনদের মুখ দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছিলাম আমরা। কিন্তু আল্লাহ আমাদের খুশি দিলেও তা আর রইল না। এই কষ্ট রাখার জায়গা নেই।

দাদি মঞ্জুরা খাতুন জানান, নাতিনদের মুখ দেখার আশায় তারা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছেন, কিন্তু এক নিমেষেই সব আনন্দ বিষাদে পরিণত হলো।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত