ঢাকা রোববার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

লটকন চাষে ফিরছে সচ্ছলতা

লটকন চাষে ফিরছে সচ্ছলতা

বাবার রোপণ করা লটকন গাছ থেকে উৎপাদিত লটকন ফলে সংসারের সচ্ছলতা ফিরে পেয়েছে পরিবার। টাঙ্গাইলের মধুপর উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের লাউফুলা গ্রামের মতিউর রহমান ৮ বছর আগে তার পরিত্যক্ত ৩৩ শতাংশ জমিতে শতাধিক লটকনের চারা রোপণ করে। প্রায় তিন বছর ধরে এ চারাগুলোতে ফল দেওয়া শুরু করে। এতে উৎপাদিত লটকন বিক্রি করে উপার্জিত টাকায় মতিউর রহমান মৃত্যু বরণ করলেও সংসারের সচ্ছলতা ফিরে পেয়েছে তার পরিবার।

জানা যায়, মতিউর তার জীবদ্দশায় একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতেন। ওই সময় তিনি নানা প্রতিকূলতার মধ্যে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করতেন। এরই মধ্যে গত ২ বছর আগে তিনি মৃত্যু বরণ করায় তার পরিবার সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খায়। কিন্তু এক সময় বাবার রোপণ করা লটকন গাছের উৎপাদিত লটকনে বাম্পার ফলনে আশার আলো দেখে তার কলেজ পড়ুয়া ছেলে লাম আলিফ। এ বছরও তার বাগানে আশানুরূপ ফলন হয়েছে। বাগানের থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা লটকনের আলোকরাশিতে স্বপ্ন বুনছেন তিনি। প্রতিদিন বাগান থেকে পাকা লটকন বিক্রি করে নগদ অর্থ উপার্জন করছেন তিনি। তাদের সংসারে এখন আর কোনো অভাব-অনটন নেই। লটকন বিক্রির টাকায় সুখে স্বাচ্ছন্দ্যে চলছে তাদের জীবিকা।

সরেজমিন দেখা যায়, মধুপুর উপজেলা সদর থেকে কয়েক কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে লাউফুলা গ্রামের ছায়া সুনিবীর একটি বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে রসালো লটকন। গাছে ঝুলে থাকা লটকনের সৌন্দর্য্যে দর্শনার্থীদের জিহব্বায় পানি এসে য়ায়। লটকন গাছ সাধারণত দোয়াশ মাটিতে ভালো জন্মে। ছায়া যুক্ত আবহাওয়া এফল চাষে বিশেষভাবে উপযোগী। বাগানে গিয়ে কথা হয় মতিউরের ছোট ভাই আবুল হোসেনের সাথে, তিনি জানান তার ভাই যখন শখের বশে লটকনের চারা রোপণ করেন, তখন স্থানীয়রা তাকে বিভিন্নভাবে নিরুৎসাহিত করেছে। কিন্তু আজ তার শখে গড়া বাগানই পরিবারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে দিয়েছে। তার ভাইয়ের পরিবারে স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। বড় ছেলে মধুপুর কলেজে অনার্সে অধ্যয়নরত। ছোট ছেলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। তিনি বলেন, পরিবারের উপার্জনের একটি সহজমাধ্যম তৈরি করে গেছেন তার ভাই মতিউর রহমান।

মতিউরের ছেলে লাম আলিফ জানান, তার বাবা ৮ বছর আগে ৩৩ শতাংশ জমিতে শতাধিক লটকন চারা রোপণ করেন। আজকে সেই লটকনের ফলনে তাদের পরিবারের উপার্জনের একটি সহজ উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাগান থেকে তিন বছর ধরে ফলন পাচ্ছেন। ৬ মাস আগে বাবা মারা গেলেও বাগানে এলে বার বার তার স্মৃতি মনে পড়ে।

তার বাবা নেই; কিন্তু তিনি যে আয়ের উৎস তৈরি করে গেছেন সেটি অত্যন্ত লাভজনক। বাবা একটি এনজিওতে চাকরি করতেন। পাশাপাশি এই বাগান গড়ে তুলেছিলেন। বাগান না থাকলে হয়তো তাদের জীবন-জীবিকা দুর্বিষহ হয়ে পড়ত।

টাঙ্গাইলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামার বাড়ির অতিরিক্ত উপ-পরিচালক রমজান আলী জানান, জেলায় লালমাটি পাহাড়ি ও উঁচু এলাকায় লটকন চাষ দিন দিন অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আবহাওয়া এবং মাটি উপযোগী হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু হয়েছে কয়েকটি উপজেলায়। ঘাটাইল ও মধুপুর উপজেলা এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে তারা। কৃষিবিভাগ কৃষকদের লটকন চাষে উদ্বুদ্ধ এবং নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত