
কুমিল্লার তিতাসে ছোট ভাইয়ের কোদালের আঘাতে বড় ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ফাতেমা আক্তার এবং থানা গেটে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার মো. শাহ আলম বাদী হয়ে বুধবার রাতে তিতাস থানায় মামলা করেছে। দুটি মামলায় এজাহারভুক্ত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে বৃহস্পতিবার কারগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
থানা সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার দুপুরে উপজেলার নাগেরচর গ্রামের মো. শাহ আলম পূর্বঘটনা সংক্রান্ত একটি মামলা করতে আসলে তার প্রতিপক্ষ তাহের আলী লোকজন নিয়ে থানা গেটে হামলা চালায়। যা সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়। ওই ঘটনায় মো. শাহ আলম বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামি করে বুধবার রাতে একটি হামলা করে। উক্ত ঘটনায় অভিযুক্ত নাগেচর গ্রামের মো. কামাল হোসেনের ছেলে মো. তাহের আলী (৩০) ও সাগর মিয়া (২৬) এবং ফারুক মিয়ার ছেলে মো. ফাহিম মিয়া (২৫) কে আটক করেছে থানা পুলিশ।
এদিকে, একই দিন দুপুর আড়াইটায় উপজেলার কেশবপুর গ্রামের পূর্বপাড়ার ভূঁইয়া বাড়িতে টিউবওয়েল নষ্ট করাকে কেন্দ্র করে দুইভাইয়ের মধ্যে ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে ছোট ভাই রাজিব ইসলাম সাগর (৩৫) কোদাল দিয়ে বড় ভাই মো. ইসমাইল মানিক (৪৫) কে গলায় আঘাত করে। এতে তার মৃত্যু হয়। উক্ত ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ফাতেমা আক্তার বাদী হয়ে একমাত্র রাজিব ইসলাম সাগরকে আসামি করে বুধবার রাতে হত্যা মামলা করে। ঘটনার পর রাজিব পলাতক ছিল। পরে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে রাজিব গ্রাম সংলগ্ন ফসলী জমিতে লুকিয়ে আছে। তখন স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে থানা পুলিশ ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর তাকে আটক করে।
তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিরুল হক জানান, দুটি ঘটনার ৪ জন আসামিকে স্ব-স্ব মামলায় আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, থানা গেটে হামলার ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল; তাৎক্ষণিক পুলিশ ওই ঘটনায় জড়িত ৩ জনকে আটক করে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে তিনি তিতাসবাসীকে থানা থেকে সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল আচরণ করার অনুরোধ করেন।