ঢাকা শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

গৃহকর্মী নির্যাতনকারী পুলিশ দম্পতি গ্রেপ্তার

গৃহকর্মী নির্যাতনকারী পুলিশ দম্পতি গ্রেপ্তার

খুলনায় গৃহপরিচারিকার ওপর পাশবিক শারীরিক নির্যাতনকারী সেই নারী পুলিশ কর্মকর্তা এএসআই পপি মিত্র গ্রেপ্তার হওয়ার পরই হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ফলে আদালতের অনুমতি নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে ভর্তি করা হয়েছে। তবে, অপর আসামি তার স্বামী এএসআই সঞ্জয় মিত্রকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এর আগে গৃহপরিচারিকা মিলন চন্দ্র দাশের ওপর পাশবিক শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় তার মা মিনতি রানী দাশ বাদি হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। এর পরই আগে থেকে হেফাজতে থাকা একই থানায় কর্মরত পুলিশ দম্পতি আসামি এএসআই সঞ্জয় মিত্র ও তার স্ত্রী পপি মিত্রকে গ্রেফতার দেখানো হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সোনাডাঙ্গা থানার এসআই সাইফুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, পুলিশ দম্পতি আসামি এএসআই সঞ্জয় মিত্র ও তার স্ত্রী পপি মিত্রকে আদালতের অনুমতিক্রমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

তবে, পপি মিত্র অসুস্থ্যতাবোধ করায় তাকে প্রিজনসেলে রাখা হয়েছে। কি ধরণের অসুস্থ্যতাণ্ডজানতে চাইলে তিনি বলেন, তার ডান হাতে সমস্যা হয়েছে, যা ডাক্তার ভালো বলতে পারবে। এর আগে বুধবার দুপুুরে তরকারি পুড়ে যাওয়ার কারণে গৃহকর্মী মিলনকে মারধর করে সোনাডাঙ্গা থানার এএসআই সঞ্জয় মিত্রের স্ত্রী পপি মিত্র। তার শরীরে গরম কড়াইয়ের ছেক্যাও দেন তিনি। সোনাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো: রফিকুল ইসলাম জানান, নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার নিশ্চিন্তপুর এলাকার বাসিন্দা উকিল চন্দ্রের মেয়ে মিলন চন্দ্র দাশ। গত ৫ বছর যাবত সোনাডাঙ্গা থানার এএসআই সঞ্জয় মিত্রের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করে আসছেন। গত বুধবার বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে গৃহকর্মী মিলনকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার আনা হয়। বিকেলে পুলিশ কর্মকর্তাদের থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। রাতে গৃহকর্মী মিলনের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়। তারা সকালে খুলনার সোনাডাঙ্গা থানায় আসেন এবং ভিকটিমের মা মিনতি রানী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক রবিউল গাজী উজ্জ্বল জানান, বুধবার বিকালে খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিকের সোলার পার্কে একটি সেমিনারে অংশ নেওয়ার সময় তিনি পাশের একটি ভবনের ভেতরে এক ব্যক্তিকে নির্যাতিত হতে দেখে দূর থেকে ঘটনাটির ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। পরে তিনি জানতে পারেন, রান্না করার সময় একটি সবজি পুড়ে যাওয়ার পর গৃহকর্ত্রী এএসআই পপি মিত্র গরম কড়াই দিয়ে গৃহকর্মী মিলনের শরীরে ছ্যাঁকা দেন। এতে ভুক্তভোগী দগ্ধ হন। এ সময় প্রত্যক্ষদর্শীরা ট্রিপল নাইনে ফোন করে পুলিশকে খবর দিলে তাৎক্ষনিকভাবে পুলিশ ওই গৃহকর্মীকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করেন। তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী আইনজীবী মোমিনুল ইসলাম বলেন, গৃহকর্মী নির্যাতনকারী দু’জনই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। তারা যে এ ধরণের অপরাধ করবে তা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না। তাদের কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত। খুলনা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অজন্তা দাস এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, আসামিরা দুজনেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত