
কথা দিয়ে কথা রাখলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য জোনায়েদ সাকি। প্রতিমন্ত্রী গত ১৩জুন বাঞ্ছারামপুরে এক সভায় জনতাকে দেয়া এক প্রতিশ্রুতিতে বলেছিলেন, কিছুদিনের মধ্যেই বাঞ্ছারামপুর সরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান ডেলিভারি শুরু হবে। গর্ভবতী প্রসূতি কে মোটা অংকের টাকা খরচ করে ঢাকায় যেতে হবে না। সেজন্য সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হবে। সে কথা রেখেছেন জোনায়েদ সাকি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ ৩ বছর পর সিজারিয়ান অপারেশন চালু হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে উপজেলার দরিয়াদৌলত গ্রামের সোমাইয়া আক্তার (২৫) নামে প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে সন্তানের জন্ম হয়। সিজারিয়ান অপারেশন চালু হওয়ায় বাঞ্ছারামপুরবাসীর মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আশির দশকে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল চালু করা হয়। পরবর্তীতে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। ২০০০ সালে প্রসূতি সেবা চালু করা হয়। অবকাঠামোগত সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা থাকার পর অ্যানেস্থেসিয়া ও গাইনি চিকিৎসকের অভাবে গত তিন বছর সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ ছিল। তবে নরমাল (স্বাভাবিক) প্রসব চালু ছিল।
গত সপ্তাহে ডা. হাবিবুর রহমান (এনেস্থিসিয়া) ও ডা. সুস্মিতা সাহা (গাইনি এন্ড অবস) নামে দু’জন চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হয়। তারাই সিজারিয়ান অপারেশনটি সফলভাবে সম্পন্ন করেন। বাঞ্ছারামপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোল্লা নাসির আহমেদ বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার প্রত্যন্ত উপজেলা বাঞ্ছারামপুর। চারদিকে নদী। সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ থাকায় ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে উপজেলার গর্ভবতী নারীদের।তাদের ঢাকায় বা নরসিংদী যেতে হতো।
বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশন করতে হতো। এখন থেকে সরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান ডেলিভারি চালু হওয়ায় সুবিধা হলো।
সমাজসেবী ফাতেমা বেগম বলেন, বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় বেশকিছু বেসরকারি ক্লিনিক আছে। যার ৪টিতে সিজারিয়ান অপারেশন হয়। বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনে ২০-২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। এছাড়া দালালদের খপ্পরে পড়ে হয়রানির শিকার হতে হতো রোগীদের। আমাদের এমপি ও প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি দু’জন ডাক্তার ত্বরিতগতিতে সরকারি হাসপাতালে নিয়োগ দেয়ায় ভাল লাগছে। প্রবাসী জুয়েল রানার স্ত্রী সোমাইয়া আক্তার ও তার স্বজনরা জানান, কোনো টাকা-পয়সা ছাড়াই ডাক্তার সিজার করেছেন। ওষুধের দামও দিতে হয়নি।
সেবার মান উন্নত হয়েছে। ২৮ জুন আমরা ডেলিভারির জন্যে ভর্তি হয়েছি। গতকাল (সোমবার) এক কন্যা সন্তান হয়েছে। এখানে বিনামূল্যে সিজার হওয়ায় আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য খুবই সুবিধা হয়েছে। সত্যি খুব ভাল লাগছে। বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রঞ্জন বর্মনের ভাষ্য, অপারেশনের সকল সরঞ্জাম থাকার পরও অ্যানেস্থেসিয়া ও গাইনি চিকিৎসক না থাকায় সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ ছিল। এখন থেকে নিয়মিত সব ধরনের ডেলিভারি এ হাসপাতালে হবে। তবে, রোগীকে একদিন আগে ভর্তি হতে হবে। যেসব রোগীদের বাইরে যেতে হতো তারা এখন এ হাসপাতালে সেবা পাবে বলে আশা করছি।