
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জীবন। দিন-রাত মিলিয়ে প্রায় ৪৭ শতাংশ সময়, অর্থাৎ প্রায় ১১ ঘণ্টা ১৭ মিনিট (প্রায় ১২ ঘণ্টা) বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলার বাসিন্দারা। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিকাজ ও স্বাস্থ্যসেবাসহ স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলায় একাধিকবার এবং রাতেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকছে। প্রচণ্ড গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। রাতের লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক পরিবারকে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে। মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ডায়রিয়া রোগী মিল্লাত হাসান বলেন, অসহ্য গরমের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ওয়ার্ডে থাকা খুব কষ্টকর হয়ে পড়ে। আমি ডায়রিয়ার রোগী, তাই আমার সমস্যা আরও বেশি হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ না থাকলে ঘুমানো যায় না। এতে অসুস্থ রোগীদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
এক রোগীর স্বজন বলেন, হাসপাতালে রোগীরা এমনিতেই কষ্টে থাকেন। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে তাদের ভোগান্তি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। অন্তত হাসপাতালের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা উচিত। সোনিয়া নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পরীক্ষার প্রস্তুতিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কম্পিউটার ব্যবসায়ী শাহিন মণ্ডল জানান, “বিদ্যুৎ না থাকায় কম্পিউটার, ফটোকপি, ইন্টারনেটনির্ভর সেবা ও অন্যান্য ব্যবসায়িক কার্যক্রম বারবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
এতে প্রতিদিন আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। কৃষক রোকন বলেন, সেচের সময় বিদ্যুৎ না থাকলে জমিতে ঠিকমতো পানি দেওয়া যায় না।
এতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে, উপজেলা সদরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের প্রভাব আরও বেশি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, গত এক সপ্তাহ ধরে একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজকর্ম থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।