
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) এক সপ্তাহের ব্যবধানে চারটি আবাসিক হলে দফায় দফায় সংঘর্ষ, হামলা, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনায় অন্তত ১৮ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাগবিতণ্ডা, ব্যক্তিগত বিরোধ এবং অঞ্চলভিত্তিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এসব ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। একের পর এক সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সর্বশেষ রোববার গভীর রাতে শহীদ শামসুল হক হল ও আশরাফুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত প্রায় ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফসিলের মোড় এলাকায় আশরাফুল হক হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এর জেরে উভয় হলের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেন। পরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একটি হলের গেটের লোগো, বৈদ্যুতিক বাতি ভাঙচুরের দৃশ্য দেখা যায়। আশরাফুল হক হলের শিক্ষার্থীদের দাবি, হামলাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। অন্যদিকে শহীদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্রুপাত্মক পোস্টকে কেন্দ্র করেই ঘটনার সূত্রপাত। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রক্টরিয়াল বডির ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।
এর আগে ২৩ ও ২৪ জুলাই দুই শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে একই দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন আহত হন। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
অন্যদিকে গত শনিবার (১ আগস্ট) গভীর রাতে মাওলানা ভাসানী হল ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, কৃষি অনুষদের একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে তুচ্ছ তর্ক-বিতর্ক থেকে শুরু হওয়া বিরোধ পরে আঞ্চলিক দ্বন্দ্বে রূপ নেয়। এতে দুই হলের শিক্ষার্থীরা মুখোমুখি অবস্থান নিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য প্রতিষেধক শাখার চিকিৎসক ডা. আমিনুল মতিন জানান, ওই ঘটনায় আহত পাঁচজন শিক্ষার্থী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। পরপর সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট হলগুলোর প্রাধ্যক্ষরা। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. বজলুর রহমান মোল্যা এবং মাওলানা ভাসানী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক শরীফ-আর-রাফি জানান, ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ ও প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি জানিয়েছে, প্রতিটি ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত নজরদারি জোরদার করা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ধারাবাহিক এসব ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে। তদন্তে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ধারাবাহিক সংঘর্ষের ঘটনায় শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে এবং আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।