ঢাকা শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সিরাজগঞ্জে আমনের চারা রোপণে ব্যস্ত কৃষক

সিরাজগঞ্জে আমনের চারা রোপণে ব্যস্ত কৃষক

সিরাজগঞ্জে মৌসূমী রোপা আমন ধান চাষ পুরোদমে শুরু হয়েছে। এ চাষে জমিতে ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। অনেক স্থানে বর্ষণে বীজতলা বিনষ্ট হয়েছে। এতে চারা সংকট ও মূল্য বৃদ্ধিতে কৃষকদের মাঝে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এবার সিরাজগঞ্জের ৯টি উপজেলায় প্রায় ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরইমধ্যে এ চাষে বীজতলা থেকে চারা উত্তোলন করে রোপণ শুরু হয়েছে। প্রতি বছরের ন্যায় শস্যভাণ্ডার খ্যাত জেলার তাড়াশ, রায়গঞ্জ ও উল্লাপাড়া উপজেলাসহ সবকয়টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন জাতের রোপা আমন ধানের চারা জমিতে রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। এসব ধনের মধ্যে রয়েছে, ব্রি ধান ৭১, ৭৫, ৪৯, ১০৩ এবং দেশীয় জাতের ধানের চারাও রোপণ করছেন। এ চাষে খরচ কম লাভ বেশি হওয়ায় ঝুঁকে পড়েছে কৃষকেরা। স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, গত মাসের মাঝামাঝি থেকে রোপা আমন চাষাবাদে জমি প্রস্তুতে ট্রাক্টর দিয়ে হাল চাষ শুরু হয়েছে এবং সেইসাথে জমিতে ধানের চারা রোপণও শুরু করা হয়েছে। তবে দফায় দফায় ভারী বর্ষণে এ চাষ এগিয়ে চলছে এবং ভারী বর্ষণ জনিত কারণে অনেক কৃষকের বীজতলা বিনষ্ট হয়েছে। এতে অনেক স্থানে চারা সংকট ও তার মূল্য বৃদ্ধি ঘটেছে। বিশেষ করে শস্যভাণ্ডার খ্যাত উল্লেখিত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ চাষে কামলা সংকটের সৃষ্টি ও মজুরিও বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি চরাঞ্চলে এ রোপা আমন চাষও শুরু করা হয়েছে। এদিকে এ চাষের জন্য জেলার প্রায় সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে বীজ বপন করা হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন হাট বাজারে ১ পণ (৮০ তার) ধানের চারা সাড়ে ৪’শ থেকে ৫’শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে হতাশার সৃষ্টিও হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ জেরিন আহম্মেদ আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, এ জেলার বিভিন্ন স্থানে এরইমধ্যে রোপা আমন চাষ শুরু হয়েছে। টানা বর্ষণে অনেক স্থানে বীজতলা কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তবে এখন চারা সংকট ও মূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা নাই। এ চাষে জেলায় প্রায় ১৫ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্য ধানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে এবং প্রায় ৪০ হেক্টর জমিতে ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে এ চাষ শেষ হবে এবং এ চাষে সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত