ঢাকা শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

শত শত স্লিপার ভাঙা, ট্রেনের চাপে রেললাইনের ওঠানামা

* রেলপথের ৩৬৪/১ থেকে ৩৬৪/৪ এলাকার বিভিন্ন অংশে স্লিপার ভেঙে গেছে * ৩৬৫/৪ থেকে ৩৬৫/৫ দূরত্বের রেলপথ ঝুঁকিপূর্ণ
শত শত স্লিপার ভাঙা, ট্রেনের চাপে রেললাইনের ওঠানামা

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী থেকে বগুড়ার সান্তাহার পোতা রেলগেট পর্যন্ত রেলপথের দূরত্ব ৭৭ কিলোমিটার। এই অংশে পড়েছে দিনাজপুরের বিরামপুর ও হিলি (হাকিমপুর), জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার পাঁচবিবি, বাগজানা, আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর ও জামালগঞ্জ। রেলপথটির বিভিন্ন অংশে শত শত কংক্রিটের স্লিপার ভেঙে চলাচলে ঝুঁকি বেড়েছে। অনেক জায়গায় রেললাইন আটকানোর প্যান্ড্রল ক্লিপও নেই। রেললাইনের জোড়াগুলোর অবস্থাও নড়বড়ে।

চলাচলকারী ট্রেনের চাপে রেললাইন বিপজ্জনকভাবে ওঠানামা করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ মার্চ ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়। বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার বাগবাড়ী এলাকায় এই ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে দুই শতাধিক যাত্রী আহত হওয়ার পর থেকেই রেলপথের এই অংশে ট্রেনের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিনেও রেলপথটির সংস্কারে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

২৩ মার্চ সকালে ফুলবাড়ী-বিরামপুর রেলপথের ৩৫২/৫ থেকে ৩৫২/৬ কিলোমিটারের মাঝামাঝি এলাকার কংক্রিটের স্লিপার ভেঙে যায়। এটি চোখে পড়ে স্থানীয় কৃষক এনামুল হকের (৬৫)। তিনি তাৎক্ষণিক কলার মোচার লাল পাতা দেখিয়ে ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী আন্তঃনগর পঞ্চগড় এক্সপ্রেসটি থামিয়ে দেন। এতে রক্ষা পায় যাত্রীরা।

মোবারকপুর রেলগেটের মুদি দোকানি হামিদুল হকসহ কয়েকজন জানালেন, রেলপথের ৩৬৪/১ থেকে ৩৬৪/৪ এলাকার বিভিন্ন অংশে স্লিপার ভেঙে গেছে। কোনোটির কংক্রিট ভেঙে রড বেরিয়ে গেছে। ফলে রেললাইন আটকানোর প্যান্ড্রল ক্লিপও ছুটে গেছে। এখান দিয়ে ট্রেন চলাচলের সময় রেললাইন ওঠানামা করে।

রেলওয়ে সূত্রের ভাষ্য, ৭৭ কিলোমিটার রেললাইন দেখভালের অর্ধেকেরও বেশি পদ খালি। উপসহকারী প্রকৌশলী পদে কেউ নেই। কীম্যানের ১০টি পদ খালি। অথচ তাদের প্রতিদিন সকাল ৭টার মধ্যে রেললাইন চেক করে রিপোর্ট করার দায়িত্ব। ট্রলিম্যানের চার পদের বিপরীতে আছেন একজন। তিনজন নিরাপত্তাকর্মীর মধ্যে আছেন একজন। বেলোম্যানের দুটি পদই খালি। হ্যামারম্যান থাকার কথা তিনজন, আছেন একজন।

ফুলবাড়ী রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার আনন্দ চক্রবর্তী বলেন, এখান দিয়ে দিনে ডাউনে ১২টি ও আপে ১২টি ট্রেন চলাচল করে। ৩৬৫/৪ থেকে ৩৬৫/৫ দূরত্বের রেলপথ ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ওই এলাকায় দিয়ে ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চালাতে গত ২৫ এপ্রিল রেলওয়ের পার্বতীপুরের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (পিডব্লিউআই) (পথ) শেখ আল আমিন তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর থেকে গতি কমিয়ে ট্রেন চলাচল করছে।

বিষয়টি স্বীকার করে শেখ আল আমিন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কংক্রিট স্লিপার পর্যায়ক্রমে বদলাচ্ছেন তারা। তবে জনবলের অভাবে কাজে গতি কম। ঠিকাদারের মাধ্যমে এটি করলে দ্রুত করা যেত।

পাকশী রেলওয়ে বিভাগের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (পথ) ভবেশ চন্দ্র রাজবংশী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথ স্থায়ী সংস্কারে তিনটি দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব কাজ শুরুর আশা করছেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত