ঢাকা রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

চুয়াডাঙ্গায় লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত

চুয়াডাঙ্গায় লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত ঘেঁষা জেলা চুয়াডাঙ্গায় তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হঠাৎ করেই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বিদ্যুৎ সংকট। দিন-রাত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় জেলার চার উপজেলাজুড়ে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মাত্রা আরও বেশি হওয়ায় সবচেয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি ‘লাইন মেরামত’-এর দোহাই দিয়ে প্রতিদিনই টানা কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ রাখায় চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মনে।

প্রচণ্ড তাপদাহে শিশু, বয়োজ্যেষ্ঠ, অসুস্থ ব্যক্তি এবং চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। এছাড়া বিদ্যুতের এমন ভয়াবহ সংকটের কারণে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন পোল্ট্রি খামারি, মৎস্যচাষি, চার্জার ও অটোরিকশা চালক, ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ওয়ার্কশপের মালিকরা। লোডশেডিং ঘিরে স্থানীয় গ্রাহকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও প্রতিদিন আছড়ে পড়ছে প্রতিবাদ ও ক্ষোভের ঝড়।

ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশেষ করে রাতের বেলায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অসহনীয় গরমে ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। শিশুরা ঘুমাতে পারছে না, ফলে অনেক শিশু জ্বর, কাশি ও ঠাণ্ডাজনিত নানা ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থীসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করে জানান, সারাদিনে চুয়াডাঙ্গায় প্রয়োজনের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎও পাওয়া যাচ্ছে না। পৌর এলাকায় তাও কিছুটা পাওয়া গেলেও গ্রামাঞ্চলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হচ্ছে, যা গ্রামীণ জীবনের স্বাভাবিক গতি পুরোপুরি থামিয়ে দিয়েছে।

দামুড়হুদা সদরের শিক্ষার্থী অনিক হাসান বলেন, দিনে কতবার বিদ্যুৎ যায়, তার কোনো হিসাব নেই। শুধু রাতেই ছয় থেকে সাতবার লোডশেডিং হয়। ২০-২৫ মিনিট বিদ্যুৎ থাকার পর আবার দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা বিদ্যুৎ গায়েব! এমন পরিস্থিতিতে গরমে ঘুম তো দূরের কথা, টেবিলে বসাই অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

একই দুর্ভোগের কথা জানান জীবননগর উপজেলার পেয়ারাতলা গ্রামের গৃহবধূ সুমি খাতুন। তিনি বলেন, ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে খুব কষ্টে দিন পার করছি। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় অসহ্য গরমে ঘামতে ঘামতে ওরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

বিদ্যুৎ সংকটের এই প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়েছে নিম্নআয়ের মানুষের আয়েও। চুয়াডাঙ্গা সদরের বেগমপুর গ্রামের অটোরিকশাচালক জিন্টু জানান, সারারাত গাড়ির ব্যাটারি চার্জে বসিয়ে রেখেও বিদ্যুতের অভাবে তা পূর্ণ হয় না। ফলে দিনের বেলা গাড়ি নিয়ে বের হওয়া যাচ্ছে না এবং আয়-রোজগার প্রায় বন্ধের উপক্রম।

একই এলাকার বাসিন্দা ইশরাত ফারজানা আক্ষেপ করে বলেন, লোডশেডিং থেকে বাঁচতে আইপিএস কিনেছিলাম। কিন্তু বিদ্যুৎহীনতার সময় এত দীর্ঘ যে আইপিএসের চার্জও শেষ হয়ে যায়।

ব্যবসায়িক মন্দার কথা তুলে ধরে ‘আব্বাস মোটরস অ্যান্ড ওয়ার্কশপ’-এর মালিক আব্বাস বলেন, ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় কাজ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। কিন্তু শ্রমিকদের তো বসে বসেই বেতন দিতে হয়। এছাড়া সময়মতো ডেলিভারি দিতে না পারায় কাস্টমারদের কাছেও সুনাম নষ্ট হচ্ছে।

মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার স্বদেশ কুমার ঘোষ জানান, “জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় বর্তমানে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ লোডশেডিং চালাতে হচ্ছে। তবে আমরা বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছি, আশা করি খুব শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত