
অকাল বন্যা ও জলাবদ্ধতায় বোরো উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ক্ষত এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি নেত্রকোনার কেন্দুয়ার কৃষকেরা। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশায় এবার আমন ধানের দিকে তাকিয়ে আছেন তারা।
এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন কৃষক। উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে শুরু হয়েছে আমন চাষের তোড়জোড়। কেন্দুয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত চলছে একটানা কৃষিকাজ।
কোথাও ট্রাক্টর দিয়ে জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে, কোথাও বীজতলা থেকে চারা তুলে আঁটি বাঁধা হচ্ছে। আবার কোথাও কৃষক-শ্রমিক মিলে কাদামাটিতে সারিবদ্ধভাবে চারা রোপণ, সার প্রয়োগ এবং রোপণের জন্য চারা সরবরাহের কাজ চলছে। সান্দিকোনা ইউনিয়নসহ উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে চরাঞ্চল পর্যন্ত একই চিত্র সবখানেই আমন চাষের ব্যস্ততায় মাঠে ফিরেছে প্রাণ। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কেন্দুয়ায় ২০ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের ১ হাজার ৮৫০ হেক্টর, উফশী ১৮ হাজার ৭৫ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ৪১৫ হেক্টর জমি রয়েছে। এবার আমন ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৬ হাজার ২৬৫ মেট্রিক টন।
আমন চাষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মানসম্মত চারা। এ বছর এ দিক থেকেও স্বস্তিতে রয়েছেন কৃষকেরা।
উপজেলায় ৬ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে এবং সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতেও কোনো ক্ষতি হয়নি। ফলে পর্যাপ্ত চারা মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। এতে চারা সংকট বা অতিরিক্ত দামে চারা কেনার আশঙ্কা নেই। একসঙ্গে বিপুল জমিতে চারা রোপণ শুরু হওয়ায় কয়েকটি এলাকায় কৃষিশ্রমিকের চাহিদা বেড়েছে, ফলে কোথাও কোথাও মজুরিও বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
তবে তাদের মতে, আমন চাষে সেচের প্রয়োজন কম হওয়ায় বোরোর তুলনায় খরচ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়া গেলে বোরোর ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা তাদের।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বরুণ কুমার সাহা বলেন, “কেন্দুয়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে আমন চাষের প্রস্তুতি ভালো রয়েছে। কোথাও বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং পর্যাপ্ত চারা মজুত রয়েছে।
বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।” কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, মাঠপর্যায়ে কৃষকদের জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার প্রয়োগ ও রোগবালাই দমন বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কেন্দুয়ার কৃষকের কাছে আমন এখন শুধু একটি মৌসুমি ফসল নয়, বরং বোরো মৌসুমের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার বড় সুযোগ। মাঠে সবুজ চারার সারি আর কৃষকের একটানা কর্মব্যস্ততা সেই আশারই প্রতিচ্ছবি। তবে এই প্রত্যাশা বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন অনুকূল আবহাওয়া, কৃষি উপকরণের সহজলভ্যতা, উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মধ্য দিয়ে কেন্দুয়ার কৃষকের বোরোর ক্ষত অনেকটাই পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে এমনটাই প্রত্যাশা কৃষক ও কৃষি বিভাগের।