
ঢাকার সাভারে নব্য জেএমবির এক সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি ভবনে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও আইইডি তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে পাঠিয়েছে সাভার মডেল থানা পুলিশ। এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকা থেকে আরিফকে গ্রেপ্তার করে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার রাতে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকা থেকে আরিফকে গ্রেপ্তার করে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। এ সময় তার সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ থেকে কয়েকটি বোমা উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতেই সাভারের শ্যামপুর এলাকার একটি তিনতলা ভবনের একটি কক্ষে অভিযান চালায় সিটিটিসির কাউন্টার টেরোরিজম ইনভেস্টিগেশন ইউনিট ও সাভার থানা-পুলিশ। অভিযানে ককটেলসহ বেশকিছু শক্তিশালী বোমা এবং বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে এ ঘটনায় বুধবার কাউন্টার টেরোরিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় নব্য জেএমবির ছয় সদস্যের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ছয় থেকে সাতজনকে আসামি করা হয়। মামলার এজাহারে নাম থাকা আসামিরা হলো- কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি থানার ফেকামারা এলাকার মো. হানিফের ছেলে মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরান (২৬), সাভারের শ্যামপুরের মৃত ইসমাইলের ছেলে মো. নাজমুল হাসান মামুন (৩২), পাবনার সুজানগর থানার দুর্গাপুর এলাকার মো. আমিন উদ্দিন খানের ছেলে মো. আক্কাস আলী (৩০), আশুলিয়ার দিয়াখালী এলাকার কামাল হোসেন (৪৫), রাখী (৩০) ও রাকিব (৩০)। পুলিশের ভাষ্য, আরিফ ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছে। এজাহারে তাদের বিরুদ্ধে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন নব্য জেএমবির আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার চেষ্টা এবং মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।