ঢাকা সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

জলবায়ু সহনশীলতা অর্জনে গণমাধ্যমের সক্ষমতা বাড়াতে হবে

জলবায়ু সহনশীলতা অর্জনে গণমাধ্যমের সক্ষমতা বাড়াতে হবে

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং জলবায়ু সহনশীলতা অর্জনে গণমাধ্যমের ভূমিকা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে পটুয়াখালীতে তিনদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন হয়েছে। প্রশিক্ষণে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, দুর্যোগ মোকাবিলায় করণীয়, ঝুঁকি হ্রাসের কৌশল এবং জলবায়ু সহনশীল সমাজ গঠনে গণমাধ্যমের দায়িত্ব ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

গতকাল রোববার দুপুরে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রশিক্ষণের সমাপনী ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে কর্মশালার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়। জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের আয়োজনে 'বাংলাদেশে জলবায়ু সহনশীলতা অর্জনে গণমাধ্যমের সক্ষমতা বৃদ্ধি' শীর্ষক এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের ২৫ জন কর্মী অংশ নেন। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মো. হিরুজ্জামান এনডিসি। পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মো. শহীদ হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের পরিচালক মারুফ নেওয়াজসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বড় ইস্যু। এর বিরূপ প্রভাব শুধু বর্তমান প্রজন্ম নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এখন থেকেই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বিশ্বের বড় বড় দেশগুলোর দায় থাকলেও জলবায়ু ক্ষতিপূরণের অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা শর্ত ও জটিলতা রয়েছে।

ফলে শুধু আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভর না করে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রধান অতিথি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে। এসব এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, মৎস্য, স্বাস্থ্য, নিরাপদ পানি ও বসতভিটা নানা ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এসব সমস্যা মানুষের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সচেতনতা সৃষ্টিতেও সাংবাদিকদের দায়িত্ব রয়েছে। এর আগে ৪ সেপ্টেম্বর সকালে পটুয়াখালী কোডেক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়। জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মশালার উদ্বোধন করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা। প্রশিক্ষণে জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক ও স্থানীয় প্রেক্ষাপট, উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, জলবায়ু সহনশীলতা অর্জনের কৌশল এবং এসব বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী গণমাধ্যমকর্মীদের জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই, তথ্যনির্ভর প্রতিবেদন তৈরি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর বাস্তব সমস্যা গণমাধ্যমে তুলে ধরার বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার সম্পর্ক এবং দুর্যোগের আগে, চলাকালীন ও পরবর্তী সময়ে গণমাধ্যমের করণীয় নিয়েও আলোচনা হয়।

প্রশিক্ষণ আয়োজকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় শুধু সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এর সঙ্গে জনগণের অংশগ্রহণ ও সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর সাধারণ মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়া, ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনদিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত ২৫ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী অংশ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকদের আশা, প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অংশগ্রহণকারী গণমাধ্যমকর্মীরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, দুর্যোগ ঝুঁকি এবং উপকূলীয় মানুষের বাস্তব সমস্যা আরও গুরুত্বের সঙ্গে গণমাধ্যমে তুলে ধরবেন। এর মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় জনসচেতনতা তৈরির কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত