ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ছেলে-নাতির হাত থেকে বাঁচতে ফের পুলিশের দ্বারস্ত ৯০ বছরের বৃদ্ধা

ছেলে-নাতির হাত থেকে বাঁচতে ফের পুলিশের দ্বারস্ত ৯০ বছরের বৃদ্ধা

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে ৯০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে মারধর, প্রাণনাশের হুমকি এবং তার সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ছেলে, নাতি ও আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে। নিজের ও দুই নাতনির নিরাপত্তা নিয়ে চরম আতঙ্কের কথা জানিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন কুলসুম বেগম নামের ওই বৃদ্ধা।

গত শুক্রবার বালিয়াকান্দি থানায় দেওয়া অভিযোগে তিনি ছেলে ইমান আলী শেখ, নাতি মিলন শেখ ও ইমরান শেখের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন। বৃদ্ধার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি তাঁকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হয়রানি করা হচ্ছে।

অভিযোগে কুলসুম বেগম উল্লেখ করেন, প্রায় ৪০ বছর আগে তাঁর ছেলে ইমান আলী শেখ তাকে মারধর ও জীবননাশের চেষ্টা করতেন। একপর্যায়ে তিনি বাড়িতে বসবাস করতে না পেরে পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিজের নামে জমি কিনে দুই নাতনি শান্তা ও ফারজানাকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। ওই জমির এসএ ও বিএস খতিয়ান নম্বর ৫৫৭ এবং রেকর্ড তাঁর নিজ নামেই রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা নিয়মিত কোনো কাজকর্ম করেন না এবং তাকে ভরণপোষণও দেন না। বরং চিকিৎসাসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে তার কাছ থেকে নিয়মিত টাকা দাবি বা নেওয়া হয়। তাঁর দুই নাতনীর কাছ থেকেও সংসারের অভাব-অনটন ও সন্তানের চিকিৎসার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি। কুলসুম বেগম আরও অভিযোগ করেন, তার স্বামীর জীবদ্দশায় কষ্ট করে গড়ে তোলা সম্পত্তির অধিকাংশই অভিযুক্তরা বিক্রি করে দিয়েছেন। তাকেও ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জমি বিক্রি করে টাকা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাঁর ভোগদখলে থাকা বসতভিটায় প্রায় ৪৬ শতাংশ জমি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৪ শতাংশ জমি থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে এবং দুই নাতনি ফারজানা আক্তার ও শান্তার নামে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিলন শেখ মাদকের টাকা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বৃদ্ধার নাতনি ফারজানা আক্তারের নামে থাকা জমিতে নির্মিত একটি বসতঘর বিক্রি করে দেন। এ সময় কুলসুম বেগম ও তার দুই নাতনি সেখানে গিয়ে ঘরটি বিক্রি না করার অনুরোধ করলে মিলন শেখ তাঁকে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেন। পরে ইমরান শেখ একটি ধারালো দা নিয়ে তাঁদের দিকে তেড়ে আসেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন বৃদ্ধা। বৃদ্ধার অভিযোগ, অতীতেও অভিযুক্তদের হুমকি ও মারধরের ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে তিনি ২০১৬ সালে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। অভিযোগে জিডির নম্বর ৭৩২ উল্লেখ করা হয়েছে। সম্প্রতি তাঁর নামীয়, রেকর্ডীয় ও ভোগদখলীয় সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কাগজপত্র তৈরি করে রেকর্ড সংশোধনের মামলা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন কুলসুম বেগম। এ সংক্রান্ত মামলার নোটিশ গত ৮ সেপ্টেম্বর তাঁর ও দুই নাতনির নামে আদালত থেকে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। কুলসুম বেগমের অভিযোগ, গত দুই দিন ধরে এবং ১১ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে মিলন শেখ তাঁর পুকুরে মাছ ধরছেন। একই সময়ে ইমরান শেখকেও সেখানে ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে। প্রাণনাশের হুমকির কারণে তিনি নিজের সম্পত্তিতেও যেতে পারছেন না। বৃদ্ধার আশঙ্কা, ছেলে ও দুই নাতির উল্লেখযোগ্য আয়-রোজগার না থাকায় এবং তিনি জীবিত থাকায় সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হতে পারে। যেকোনো সময় তাঁর ওপর হামলার আশঙ্কা করছেন তিনি। এ কারণে নিজের ও দুই নাতনির জীবন এবং সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ৯০ বছর বয়সী কুলসুম বেগম। কুলসুম বেগমের নাতনি শান্তা খাতুন বলেন, নানীর ভরণপোষণ আমরাই করি। তাঁর ছেলে বা নাতি মিলন-ইমরান কোনো ধরনের ভরণপোষণ দেয় না। উল্টো জমি আত্মসাতের চেষ্টাসহ বিভিন্ন ইস্যু তৈরি করে নানীর কাছ থেকে টাকা নেয়। মামা ও তার ছেলেরা তাদের সব জমি বিক্রি করে নিঃস্ব হয়েছে। এখন নানী ও আমাদের সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করছে। শান্তার অভিযোগ, মিলন শেখ অতীতেও তাঁর দাদিকে মারধর করেছেন এবং ইমরান শেখ তাকেও মারধরের জন্য উদ্যত হয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে কুলসুম বেগমের ছেলে ইমান আলী শেখের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে ইচ্ছুক নন বলে জানান। এ বিষয়ে তাঁর ছেলে কথা বলবেন এবং পরে ফোন দেবেন বলেও জানান তিনি। তবে তার ছেলে মিলন শেখের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রব তালুকদার বলেন, বৃদ্ধার অভিযোগের বিষয়টি আমরা অবগত রয়েছি। তিনি একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এরইমধ্যে এ বিষয়ে তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই সরেজমিন তদন্ত করেছেন। বিষয়টি দ্রুত তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত