
বরগুনার তালতলী উপজেলার তালুকদারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সাড়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে জরাজীর্ণ টিনশেড ও ঝুপড়িঘরে। অথচ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণেই নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচতলা একটি ভবন। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় ভবনটি পড়ে আছে অব্যবহৃত অবস্থায়।
ফলে সরকারি অর্থে নির্মিত আধুনিক ভবন থাকার পরও ঝুঁকিপূর্ণ ও সংকীর্ণ কক্ষে গাদাগাদি করে ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, তালুকদারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে সাড়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন এবং কর্মচারী তিনজন। শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও শ্রেণিকক্ষের সংকট কাটেনি। পুরোনো টিনশেড ও ঝুপড়িঘরের ছোট ছোট কক্ষে কোনো রকমে চলছে পাঠদান। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রচণ্ড গরমে এসব কক্ষে অবস্থান করা অত্যন্ত কষ্টকর। অনেক কক্ষে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা নেই। কোথাও নেই পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সুবিধা। ফলে গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় ক্লাস করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। শুধু শ্রেণিকক্ষের সংকটই নয়, শিক্ষক-কর্মচারীদের বসার জায়গারও রয়েছে তীব্র সংকট। বিদ্যালয়ের একটি সংকীর্ণ লাইব্রেরি কক্ষেই কোনো রকমে বসে দাপ্তরিক কাজ সারতে হচ্ছে তাদের। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও আধুনিক পরিবেশে পাঠদানের সুযোগ তৈরি করতে সরকারি অর্থে পাঁচতলা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ অসম্পূর্ণ রেখে চলে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও ভবনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি পড়ে থাকলেও তার সুফল পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। অভিভাবকদের অভিযোগ, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিপুল অর্থ ব্যয়ে ভবন নির্মাণের পর সেটি বছরের পর বছর ব্যবহার না হওয়া দুঃখজনক।
একদিকে শিক্ষার্থীরা ঝুপড়িঘরে কষ্ট করে ক্লাস করছে, অন্যদিকে পাশেই পড়ে রয়েছে নতুন ভবন। দ্রুত ভবনটির অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করে প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হলে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দ্রুত ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ করে ব্যবহার উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশে পাঠদানের ব্যবস্থা করবে।