
গাজীপুরে জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল 'প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ'। 'মাদক বর্জন করি, কিশোর গ্যাং ত্যাগ করি; সুস্থ সমাজ ও জীবন গড়ি'-এই দীপ্ত অঙ্গীকার ও বার্তা নিয়ে শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে সদর মেট্রো থানা কমিউনিটি পুলিশ দল। আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ও প্রায় বিলুপ্তপ্রায় কাবাডি খেলাকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি তরুণ সমাজকে অপসংস্কৃতি, মাদকের ভয়াল থাবা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতেই সারাদেশে এই প্রতিযোগিতার উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন। গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) আয়োজনে এতে মোট ৪টি দল অংশ নেয়। বুধবার বিকালে গাজীপুর মহানগরীর শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে দুর্দান্ত ক্রীড়া নৈপূণ্য প্রদর্শন করে মুখোমুখি হয় গাজীপুর সদর মেট্রো থানা ও কাশিমপুর থানা কমিউনিটি পুলিশ দল। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই শেষে কাশিমপুর থানাকে হারিয়ে ট্রফি উঁচিয়ে ধরে সদর মেট্রো থানা দল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খেলা উদ্বোধন ও সমাপনী পর্বের পুরস্কার বিতরণ করেন বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এবং গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জিএমপি কমিশনার বলেন, বর্তমান সরকার যুবসমাজকে সুস্থ ও স্বাভাবিক ধারায় ফেরাতে খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে গড়ে তোলার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, খেলা হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা। বাংলাদেশ মহাপুলিশ পরিদর্শকের দিকনির্দেশনায় আয়োজিত এ টুর্নামেন্ট সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, তরুণদের পড়ালেখার পাশাপাশি ক্রীড়া চর্চায় মনোযোগী করা গেলে তাদের মননশীলতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে, যা একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তৃণমূল থেকে শুরু হওয়া এই ক্রীড়া উদ্যোগ ভবিষ্যতে জাতীয় গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের জন্য সুনাম ও গৌরব বয়ে আনবে। খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের অধিনায়ক ও খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি এবং পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি।