
পাবনা সদর উপজেলার কুলোনিয়ায় নৃসংশভাবে স্কুলশিক্ষার্থী কামরুন নাহার কলি (১০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। হত্যার আগে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয় কলিকে। কলির লাশ ঘরে ফেলে রেখে কলিকে নিখোঁজের জন্য তার পরিবারের সঙ্গে খুনিও খোঁজাখুজি করেছেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পাবনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এতথ্য জানান পাবনা পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ। তিনি বলেন, এঘটনায় প্রথমে সন্দেহভাজন হিসেবে মোস্তফা প্রামানিককে (৫৫) ও তার ভারাটিয়া ইয়াছিনকে আটক করা হয়। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার কথা স্বীকার করেন। মোস্তফা আগে থেকেই চরিত্রহীন এবং বিকৃত চরিত্রের মানুষ, তার দোকানে আসা বিভিন্ন নারীদের তিনি ভিন্নভাবে ছবি তুলে রাখেন। কলিও তার দোকানে কেনাকাটা করতে গেলে তার একাধিক ছবিও সে তুলে ফোনে রেখেছিল। ঘটনার দিন তাকে ঘরে নিয়ে প্রথমে গণধর্ষণ করেন মোস্তফা এবং ইয়াছিন। পরে তাকে দুইজন মিলে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ বস্তাবন্দি করে ঘরেই ফেলে রাখে। পুলিশ সুপার জানান, কলি নিখোঁজের পর মানববন্ধন ও খোজাখুজির কারণে এবং দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে তারা লাশটি বাহিরে ফেলে দিতে যান। কিন্তু তাদের কুকুর তারা করলে পাশের ঝোড়েই ফেলে দেন। পরবর্তীতে তারা লাশ রাখার রুমটি স্যাভলন দিয়ে পরিস্কার করে। ঘটনার দিন অনেক স্থানের মতো তাদের ঘরও তল্লাশী করে ডিবি পুলিশ এবং এক পর্যায়ে স্যাভলনের গন্ধ এবং মোস্তফার আচরণে সন্দেহ হলে তাকে ও ইয়াছিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
অভিযুক্তদের আজকে আদালতে প্রেরণ করা হবে এবং তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড চাইবে পুলিশ বলে জানান পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ।
উল্লেখ্য, নিখোঁজের ৭ দিন পর গত ?বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়ায় কামরুন্নাহার কলির বাসার পাশের একটি ডোবা থেকে তার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। হয়েছে। এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ ছিলেন।