
পাবনায় ১০ বছরের শিশু কামরুন্নাহার কলিকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ। গতকাল রোববার সকাল থেকে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন কলুনিয়া গ্রামের এলাকাবাসী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। মিছিলটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও আদালত চত্বর এলাকায় প্রদক্ষিণ করে। এদিকে কলি হত্যা মামলার গ্রেপ্তার আসামি মোস্তফা প্রামাণিক ও ইয়াছিন আলীকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের তদন্তে কলিকে ধর্ষণের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, কলির মতো একটি শিশুকে যারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না। দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বাবার সঙ্গে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পর বাড়ির পাশ থেকে নিখোঁজ হয় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে তার পরিহিত স্যান্ডেল পাওয়া যায়। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন শিশুটির বাবা কামাল প্রামাণিক।
নিখোঁজের পর কলিকে উদ্ধারের দাবিতে ১৫ সেপ্টেম্বর পাবনা শহরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী, স্বজন ও স্কুলশিক্ষার্থীরা। পরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এর পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির পেছনের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় কলির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিখোঁজের সাতদিন পর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশের তদন্তে প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সুপার সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী কলিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং পরে মরদেহ বস্তাবন্দি করে ডোবায় ফেলে রাখা হয়। আসামিদের গ্রেপ্তারের পর থেকেই এলাকায় ক্ষোভ বাড়তে থাকে। এর মধ্যে শুক্রবার ও শনিবার বিক্ষুব্ধ জনতা মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়িতে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এলাকাবাসীর দাবি, কোনোভাবেই যেন এ মামলা দীর্ঘসূত্রতায় না পড়ে। দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করে কলির হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।