
ফরিদপুরে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে রাজু শেখ (৩০) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার ফরিদপুর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আবুল বাশার মিঞা এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রাজু শেখ চরভদ্রাসন উপজেলার চরঅযোধ্যা ঢালারপাড় গ্রামের দুলু শেখের ছেলে। রায় ঘোষণার পর পুলিশ পাহারায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১ মার্চ রাতে প্রতিবেশী রাজু শেখ ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরীর মুখে গামছা বেঁধে তাকে একটি ছাপড়া ঘরে নিয়ে যান। সেখানে আটকে রেখে রাতভর তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরদিন ভোরে পরিবারের সদস্যরা ঘরের পেছন থেকে কিশোরীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন।
পরে তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ৪ মার্চ কিশোরীর মা রাজু শেখকে একমাত্র আসামি করে চরভদ্রাসন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। তদন্ত শেষে মামলার তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইলিয়াস হোসেন ২০২১ সালের ২৫ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত রাজু শেখকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ডের টাকা আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার জন্য জেলা কালেক্টরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।