ঢাকা রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ডাবে ঘুরছে দক্ষিণাঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা

ডাবে ঘুরছে দক্ষিণাঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা

তীব্র গরমে ক্লান্ত শরীরে সতেজের আমেজ তৈরিতে ডাবের পানির জুড়ি মেলা ভার। ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত শরীরের তরল পদার্থের ঘাটতি পূরণেও ডাবের রয়েছে অপরিসীম ভূমিকা। ভেজাল ও কৃত্রিম কোমল পানীয় জলের বিপরীতে মানুষ এখন প্রাকৃতিক নানা পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ডাবের পানির প্রতি ব্যাপকভাবে ঝুঁকেছে। ফলে ডাবের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে বহুগুণে।

দক্ষিণাঞ্চলের মাটি নারিকেল বা ডাব উৎপাদনের জন্য সমান্তরালভাবে উপযোগী। ভোলার পাললিক মৃত্তিকার উর্বর ভূমিতে ব্যাপকভাবে ডাবের উৎপাদন হয়। শুধু ভোলার চরফ্যাশনেই ডাবে বছরে অর্থনীতির চাকায় প্রায় শতকোটি টাকার প্রভাব রাখে ।

মহাজন, আড়তদার, ফড়িয়া, পরিবহন চালকসহ কয়েক হাজার শ্রমিকের জীবিকার রসদের জোগান আসে ডাবের পানি হতে। ডাবের চাহিদা ব্যাপক বাড়ায় গৃহস্থরা গাছের পরিচর্যা করছেন নিয়মিত। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে এ ব্যাপারে নানাভাবে আঞ্জামও দেওয়া হচ্ছে। রসুলপুট ইউনিয়নের কলমির মোড় এলাকার আড়তদার মো. কবির হোসেন বলেন, তিনি ফড়িয়াদের কাছ থেকে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় প্রতি জোড়া ডাব খরিদ করেন। ফড়িয়ারা গৃহস্থ থেকে জোড়া প্রতি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় কিনেন। প্রতি সপ্তাহে ২৪-২৫ লাখ টাকার ডাব মোকামে পাঠান তিনি। তার মতো ৪০-৫০ জন আড়তদার এ উপজেলায় আছেন। তারা প্রতিজনে মাসে গড়ে ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকার ডাব ঢাকা- চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরের বাজারে পাঠান।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চরাঞ্চলসহ শহর-গ্রামে নারিকেল গাছের বাগান রয়েছে ২৪৫০হেক্টর ভূমিতে। প্রতি হেক্টরে গাছের সংখ্যা ১২০ থেকে ১৫০টি। বছরে প্রতি গাছের উৎপাদিত ডাবের সংখ্যা ১৫০ থেকে ১৬০ টি। তবে বাজারে ডাবের কদর ও দাম বাড়ায় গৃহস্থদের বাড়তি পরিচর্যায় উৎপাদন সংখ্যা বছর বছর বাড়ছে। এতে অনেক অসচ্ছল পরিবার ওঠছেন সচ্ছলতার সিড়িতে।

দুলারহাট নীলকমল ইউনিয়নের আলাউদ্দিন মাস্টার বলেন, তার বাগানে প্রায় ৫ শতাধিক নারিকেল গাছ রয়েছে। কয়েক বছর আগেও ডাবের দাম না থাকায় তিনি নারিকেল গাছের তেমন যত্ন নিতেন না। ফলে ইদুরসহ বিভিন্ন পোকামাকড়ে ডাব নষ্ট করে দিত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে ডাবের চাহিদা ও দাম বাড়ায় তিনি এখন নিয়মিত পরিচর্যা করছেন। ফলে ডাবও ভাল উৎপাদন হয়। বছরে প্রায় ৬ থেকে ৮ লাখ টাকার ডাব বিক্রি করেন। এটা তার সংসারের সাম্প্রতিক সময়ে বাড়তি আয় বলে তিনি জানান।

চর মানিকা এলাকার রফিজল মোল্লা বলেন, তার ১০ একর জমির বাড়িতে বিভিন্ন গাছগালির সাথে ২'শয়ের মত নারিকেল গাছ আছে। এসব গাছে বিপুল পরিমাণ ডাব আসে। ডাব বিক্রি করে বছরে কয়েক লক্ষ টাকা আয়ের করেন। এ টাকার সাথে আরো কিছু টাকা যোগ করে তিনি দশ শতাংশ জমি ক্রয় করেছেন। তিনি আরও জানান, ডাব বিক্রির আয় থেকে প্রতি বছর আরো জমি কেনার আশা রাখেন।

ভোক্তা পর্যায়ে ডাবের ব্যাপক চাহিদা থাকায় তরুণরা উদ্যোগক্তারা অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা শুরু করেছেন। অর্ডার অনুযায়ী তারা দেশের যেকোনো প্রান্তে বিভিন্ন মাধ্যমে দেশের যেকোন প্রান্তে ডাব পৌঁছে দিচ্ছেন ভোক্তার হাতে। এতেও অনেকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকতা কৃষিবিদ নাজমুল হুদা বলেন, চরফ্যাশনে নারিকেল চাষ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে চরফ্যাশন তথা ভোলার ডাবের বেশ চাহিদা রয়েছে কারণ এখানকার ডাব আকারে যেমন বড় তেমনি এর ভেতরের পানির পরিমান এবং মিষ্টতা অনেক বেশি। ধীরে ধীরে চরফ্যাশনের গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারিকেল ও ডাব গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে নিচ্ছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে উন্নত জাতের নারিকেল চারা বিতরণ, বালাই ব্যবস্থাপনাসহ সার্বিক কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত