
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার হোসেনগাঁও ইউনিয়নে নাড়াদীঘি নামক এলাকায় একটি সেতুর ঢালাই ধসে লোহার রড বেরিয়ে পড়েছে। সৃষ্টি হয়েছে বড় গর্তের। দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন কয়েকটি গ্রামের মানুষ। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় সাত মাস ধরে সংস্কার বা পুনর্নিমাণের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনও শুরু হয়নি কাজ। গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিন দেখা যায়, সেতুর এক পাশের ঢালাইয়ের বড় অংশ ভেঙে নিচে পড়ে গেছে। মূল কাঠামোর লোহার রডগুলো বাঁকা হয়ে বাইরে বেরিয়ে আছে। ভাঙা অংশে তৈরি হয়েছে বড় গর্ত। রাতে অন্ধকারে কিংবা অসাবধানতাবশত চলাচলের সময় যানবাহন ও পথচারীরা দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন। এ আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে গর্তের পাশে বাঁশ পুঁতে লাল কাপড় বেঁধে সতর্কসংকেত দিয়েছেন। তবে তাঁদের মতে, এই অস্থায়ী ব্যবস্থা দুর্ঘটনা প্রতিরোধে যথেষ্ট নয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন শত শত ইজিবাইক, নসিমন, করিমন, মোটরসাইকেল ও সাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। পাশাপাশি স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষকে এই সেতু ব্যবহার করতে হয়। এক পাশ ভেঙে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনকে পাশ কাটিয়ে চলতে গিয়ে প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেতুটির দুরবস্থা দেখার পর বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে এসে ছবি তুলে নিয়ে গেছেন এবং দ্রুত সংস্কার বা পুনর্র্নিমাণের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু প্রায় সাত মাস পার হলেও কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। এতে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, প্রায় সাত মাস ধরে দেখছি, লোকজন আসে, মোবাইল ও ক্যামেরায় ছবি তোলে, আর দ্রুত কাজ হবে বলে আশ্বাস দেয়। কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজ হচ্ছে না। বড় কোনো দুর্ঘটনা বা প্রাণহানি ঘটার পর কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে? আমরা দ্রুত সেতুটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্নিমাণের দাবি জানাচ্ছি। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আকিল হোসেন বলেন, সেতুটি সংস্কার বা পুনর্নিমাণ করা জরুরি। সেতুর এক পাশ ভেঙে যাওয়ায় চলাচলের জায়গা সরু হয়ে গেছে। এক পাশের যানবাহনকে অন্য পাশের যানবাহনকে জায়গা দিতে গেলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আনিসুর রহমান বলেন, সেতুটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন। সেতুটি পুনর্নিমাণের জন্য প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। ঠিকাদার নিয়োগ হলেই কাজ শুরু হবে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা সেতুটি দ্রুত পুনর্নিমাণ করে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।