ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

রংপুর অঞ্চলে হিমায়িত আলুতে কৃষকের লোকসান প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা

রংপুর অঞ্চলে হিমায়িত আলুতে কৃষকের লোকসান প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা

রংপুর অঞ্চলে এবার হিমায়িত আলুতে কৃষকের লোকসান হবে অন্তত দুই হাজার কোটি টাকা।সরকারিভাবে আলুর ক্রয় দর ২২ টাকা নির্ধারণ করা হলেও তা বাস্তবায়নে নেই কার্যকরী কোন উদ্যোগ। আলুর ন্যায্য দাম নিশ্চিতে মনিটরিং অব্যাহত রাখতে দাবি সংশ্লিষ্টদের। জানা গেছে, প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে বীজ, সার, কীটনাশক, সেচসহ অন্যান্য হিসেব মিলিয়ে খরচ পড়েছে ২০ থেকে ২২ টাকা। হিমাগারে রাখতে প্রতি কেজি আলুতে উৎপাদন খরচসহ যোগ হয়েছে আরও ৭ টাকা। কিন্তু বর্তমানে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৯ থেকে সাড়ে ৯ টাকা। চলতি মৌসুমে রংপুর বিভাগে শুধুমাত্র হিমায়িত আলুতে কৃষকদের লোকসান প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা।কৃষি অধিদফতরের তথ্য সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রংপুর কৃষি অঞ্চলে ১ লাখ ১৯ হাজার ৭৩৯ হেক্টর জমিতে আলুর উৎপাদন হয়েছে ৩২ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ মেট্রিক টন। বিক্রির পরও বিভাগের ১১৬টি হিমাগারে আলু মজুত হয় ১১ লাখ ৯ হাজার ৬৯২ মেট্রিক টন। মৌসুমের শেষে সেই আলুর মজুত এখনও ৯ লাখ ৩৬ হাজার ২৮৩ টন।অশ্রসিক্ত কন্ঠে ক্ষোভ প্রকাশ করে কৃষকরা বলেন, 'আলু আবাদ করি এবার কবরোত যাওয়ার সময় ঘনি আলচে। আলুর পেছনোত তবিল বাট্টা হামার সউগ শ্যাষ। এ্যালা ঋণদফা থাকি আযার হমো কি দিয়ে সেই চিন্তাত নিন না ধরে? হামার পাকে দেকার কাইয়ো নাই। কোনটে পাবো পুঁজি, হাউশ মিটি গেইচে আলু আবাদের।'এদিকে, কৃষকদের লোকসানের কথা ভেবে সরকারিভাবে ২৭ আগস্ট হিমাগার থেকে আলুর দাম কেজিপ্রতি ২২ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও তার বাস্তবায়ন নেই। তবে ক্রেতা সংকটে সরকারি দর বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না দাবি কৃষি বিপণন অধিদফতরের।

কৃষকের পাশাপাশি হিমাগারের ক্ষতি নিয়ে রংপুর কৃষান হিমাগারের ম্যানেজার মাজেদুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে হিমায়িত আলু নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেই। তাই আলু হিমাগার থেকে খালাস না হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে আলু খালাস না হলে কৃষকের পাশাপাশি হিমাগারগুলাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বাম্পার ফলনেও কৃষকের কপালে ভাঁজ দূর করতে পরিকল্পিত চাষের পাশাপাশি বিশ্ব বাজারে দেশীয় আলুর চাহিদা তৈরিতে টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণের তাগিদ সংশ্লিষ্টদের। আলুর বহুমুখী ব্যবহার ও রফাতানি বৃদ্ধি পারে এই সমস্যা দূর করতে।

রংপুর আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান বলেন, হিমাগার ভাড়া বেশি হওয়ায় আলু সংরক্ষণ করেও লোকসান ঠেকানো যাচ্ছে না। ভাড়া কমানোর দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন হলেও হিমাগারের মালিকেরা তা মানছেন না। আমরা ৫ টাকা কেজি ভাড়া নির্ধারণের দাবি জানিয়েছি। এতে কিছুটা হলেও লোকসান কম হবে।

এ বিষয়ে রংপুর কৃষি বিপণন অধিদফতরের উপ-পরিচালক এন.এম. আলমগীর বাদশা জানান, বিক্রি কম হওয়ার কারণে নির্ধারিত মূল্য ২২ টাকা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ যারা আলু বিক্রি করবেন, তারা ক্রেতা পাচ্ছেন না। বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, আলুর দাম ১৩ টাকায় নেমে যাওয়ায় হিমাগার থেকে আলু বের হওয়া ধীর হয়েছে। কৃষকের উৎপাদন ব্যয় প্রায় ২৫ টাকা, তাই লোকসানের ভয়ে তারা আলু তুলছেন না। গত বছরও দুই লাখ টন আলু তোলা হয়নি। কৃষক আলু না নিলে আমরা ভাড়া পাব না, আবার পচন ঠেকাতে মেশিন চালিয়ে পরিচালন ব্যয়ও বাড়বে। সরকার কৃষককে ভর্তুকি দিক, প্রয়োজনে কিছু আলু কিনে নিক।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত