
গাজীপুরের কালীগঞ্জে মহাসড়কে রাত্রিকালীন ডিউটির সময় কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মিজানুর রহমান ও পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মৃত্যুবরণ করেছেন। এ ঘটনায় পুলিশের আরো দুই সদস্য আহত হয়েছেন।
থানা সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান, পিএসআই জাবেদ ওমর, কনস্টেবল আনোয়ার, ড্রাইভার কনস্টেবল ফজলে রাব্বি ও বিশেষ আনসার কামাল হোসেন কালীগঞ্জ পৌর এলাকায় রাত্রিকালীন টহল ডিউটি ও ওয়ারেন্ট তামিলের জন্য বের হন। টহল টিমের সদস্যরা রাত সাড়ে তিনটার দিকে কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজের সামনে টঙ্গী-ঘোড়াশাল মহাসড়কের পাশে টহল গাড়ী থামিয়ে কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞসাবাদ করছিলেন। এ সময় অজ্ঞাতনামা একটি কাভার্ড ভ্যান স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম, এসআই মিজানুর রহমান, পিএসআই জাবেদ ওমর ও ড্রাইভার কনস্টেবল ফজলে রাব্বিকে স্বজোরে ধাক্কা দিয়ে ঘোড়াশালের দিকে চলে যায়। পরে স্থানীয় রিকশা চালক রকিবুল ও পথচারী ইমরুল কায়েস গুরুতর আহত বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম, এসআই মিজানুর রহমান, পিএসআই জাবেদ ওমর ও ড্রাইভার কনস্টেবল ফজলে রাব্বিকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত এসআই মিজানুর রহমান ও পিএসআই জাবেদ ওমরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ড্রাইভার কনস্টেবল ফজলে রাব্বীকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চিকিৎসাধীন অবস্থায় এসআই মিজানুর রহমানকে কর্তব্যরত চিকিৎসক শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোরে মৃত ঘোষনা করেন। নিহত রফিকুল ইসলাম পৌর এলাকার তুমলিয়া গ্রামের ওয়াজউদ্দিন মোল্লার পুত্র এবং নিহত এসআই মিজানুর রহমান জামালপুরের ইসলামপুর থানার ডিগ্রীরচর দক্ষিণপাড়া গ্রামের মোঃ আব্দুল্লাহর পুত্র।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাকির হোসেন বলেন, ঘটনার পরপরই কালীগঞ্জ-কাপাসিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মুক্তাজুল ইসলাম ও ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোঃ আশরাফুল ইসলামসহ ঘটনাস্থ'ল পরিদর্শন করি। পলাতক কাভার্ড ভ্যান ও চালককে সনাক্ত করতে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং মামলা দায়েরের প্রস্ততি প্রক্রিয়াধীন আছে।