
কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাটের কৃষকেরা আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। উপজেলার সদর ইউনিয়নের দুধখাওয়া মন্ডলপাড়া গ্রামের কৃষক ফজলুল হক মন্ডল ৩ একর জমিতে সবজির চাহিদা পূরণের জন্য আগাম এস্টারিক্স জাতের আলু লাগানো শুরু করেন। পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক আগাম আলু লাগানো লক্ষ্যে তিনি ঐ সব জমিতে স্বল্প মেয়াদি জাতের ব্র্যাকের মুক্তি-১ ধান লাগিয়েছেন। ফজলুল হক মন্ডল জানান, বিগত বছর গুলোতে জমিতে আলু চাষ করে হিমাগারে রেখে অনেক লোকসান হয়েছিল। তাই আগাম এস্টারিক্স ও এলুয়েট জাতের আলু লাগিয়ে ২০-২৫ জানুয়ারির মধ্যে খোলা বাজারে বিক্রি করে নতুন আলুর চাহিদা পূরণ করা হবে। একই গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম (মগবর) ১৫ শতাংশ, নজরুল ইসলাম মন্ডল ৬০ শতাংশ, বাজেমুজরাই গ্রামের আব্দুল ওয়াহেদ মাস্টার ৭৫ শতাংশ জমিতে আগাম আলু চাষ করেছেন। বর্তমানে আলুর দাম কম হওয়ায় আগাম জাতের আলুতে লাভের আশাও কম। তারপরেও ঝুঁকি নিয়ে তারা জনগণের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে নতুন আলু বাজারজাত করবেন। কৃষক ফজলুল হক মন্ডল জানান, এক একর জমিতে আলু চাষে খরচ প্রায় ৮০-৯০ হাজার টাকা হবে।
এ ব্যাপারে রাজারহাট কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার রায় জানান, কৃষকেরা যেন সরকারি মূল্যে সার পান সেজন্য মাঠ পর্যায়ে কৃষকের তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে পরামর্শসহ বিভিন্ন সহযোগিতা করা হবে। উপজেলা কৃষি অফিসার তুষার কান্তি রায় জানান, এ বছর উপজেলায় ২৬০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।