
দিনাজপুরের কৃষকরা আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি, উন্নত জাতের বীজ এবং কৃষি বিভাগের নিবিড় তত্ত্বাবধানে এবার শীতকালে সফলভাবে ফুলকপি চাষ করে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করেছেন চাষিরা। মৌসুমের শুরুতেই উৎপাদিত এই সবজিতে মিলছে ভালো দাম, তাই লাভবান হচ্ছেন কৃষকরাও। দিনাজপুর সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের উত্তর মহেশপুর গ্রামের কৃষক ওবায়দুল ইসলাম এবার শীতকালীন ফুলকপি চাষ করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। মাত্র ৩০ শতক জমিতে 'আইসবল' জাতের প্রায় ৫ হাজার ফুলকপির চারা রোপণ করেন তিনি। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও আধুনিক ব্যবস্থাপনায় পরিচর্যার ফলে মাত্র ৬০ দিনের মধ্যেই তার জমি ভরে ওঠে সাদা ফুলকপিতে।
বর্তমানে খেত থেকেই পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে ফুলকপি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। সব মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ টাকার ফুলকপি বিক্রির আশা করছেন তিনি। কৃষক ওবায়দুল ইসলাম জানান, আগষ্ট মাসের শেষ দিকে জমি প্রস্তুত করে কৃষি বিভাগের পরামর্শে তিনি ফুলকপির চারা রোপণ করেন। খেতে ফেরোমন ফাঁদ, আঠা ফাঁদ ও লাইট ট্র্যাপ ব্যবহার করে নিরাপদ উপায়ে পোকামাকড় দমন করা হয়েছে। পাশাপাশি জৈব সার ও পরিমিত বালাইনাশক প্রয়োগের মাধ্যমে সবজির গুণগত মান বজায় রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, মাত্র দুই মাসের মধ্যেই ফুলকপি বাজারজাত করা সম্ভব হয়েছে। ৩০ শতক জমিতে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সব খরচ বাদ দিয়ে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা লাভ হবে বলে আশা করছি। বাজারে শীতকালীন ফুলকপির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে হারভেস্টিং শুরু করেছি। আগামী বছর আরও বেশি জমিতে চাষ করব।
ওবায়দুল ইসলামের সফলতা দেখে আশপাশের কৃষকরাও আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। প্রতিবেশী কৃষক বিদ্যুৎ রহমান বলেন, গরমের সময় ফুলকপি চাষ সম্ভব— এটা আগে কল্পনাও করিনি। ওবায়দুল ইসলামের খেতের ফলন দেখে আমিও অনুপ্রাণিত হয়েছি। আগামী বছর অন্তত ১ একর জমিতে গ্রীষ্মকালীন ফুলকপি চাষের পরিকল্পনা করছি। আরেক কৃষক আব্দুস সামাদ বলেন, অন্যান্য সবজির দাম কমে গেলেও গ্রীষ্মকালীন ফুলকপির বাজারমূল্য ভালো থাকে। ফলে কৃষকরা দ্রুত লাভবান হতে পারেন। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা আরও বাড়লে এই চাষ সারা জেলায় ছড়িয়ে পড়বে। দিনাজপুর সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু বোরহান বলেন, কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শীতকালীন ফুলকপির চাষ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, চারা, সার ও প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নিরাপদ সবজি উৎপাদনের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শীতকালীন ফুলকপি এখন দিনাজপুর অঞ্চলে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অল্প সময়ে অধিক লাভ পাওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। বাজারে চাহিদা ও ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে। যদিও এ মৌসুমে অতিবৃষ্টি, তীব্র দাবদাহ, ঝড় ও শিলাবৃষ্টির মতো নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তারপরও কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন ও পরিচর্যার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ফলে দিন দিন এই চাষের পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে।