প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শুধু আরেকটি নির্বাচনি দিন হিসেবে লিপিবদ্ধ হবে না, বরং এটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের এক কঠিন ও নির্ণায়ক পরীক্ষার দিন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। একই দিনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোট অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত দেশকে এক অভূতপূর্ব দ্বৈত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সম্মুখীন করেছে, যার নজির বাংলাদেশের অতীত ইতিহাসে বিরল। ফলে এই দিনটিকে নিছক ক্ষমতা বদলের রাজনৈতিক আয়োজন হিসেবে দেখা হবে, এক গভীর ঐতিহাসিক বিভ্রান্তি। প্রকৃতপক্ষে এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রচরিত্র, সাংবিধানিক কাঠামো এবং নাগরিক ও রাষ্ট্রের পারস্পরিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের এক পরীক্ষামূলক সন্ধিক্ষণ।
বাংলাদেশের ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে যে, গণতন্ত্র কোনো স্থবির অর্জন নয়, এটি একটি অব্যাহত সংগ্রাম। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ জাতিকে স্বাধীন রাষ্ট্র দিয়েছে; কিন্তু স্বাধীনতার পরবর্তী দশকগুলোতে সামরিক শাসন, স্বৈরাচার, গণআন্দোলন ও বিতর্কিত নির্বাচন বারবার রাষ্ট্রকে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি করেছে। এই ধারাবাহিকতার সর্বশেষ অধ্যায় ছিল ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান, যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নাটকীয় মোড় সৃষ্টি করে। দীর্ঘদিনের নির্বাচনি অনাস্থা, জবাবদিহির সংকট, ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন এবং নাগরিক কণ্ঠস্বর উপেক্ষিত হওয়ার বাস্তবতা যে গভীর গণরোষ জন্ম দিয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রক্ষমতার ভারসাম্য পাল্টে দেয়। এই প্রেক্ষাপটে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে, যার ঘোষিত লক্ষ্য নির্ধারিত হয় তিনটি স্তম্ভে- বিচার প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্র সংস্কার এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন।
এই অন্তর্বর্তী সময়কালকে অনেক বিশ্লেষক যথার্থভাবেই ‘সংকট-পরবর্তী রূপান্তরকাল’ হিসেবে অভিহিত করছেন। ইতিহাসের অভিজ্ঞতা বলছে, বিপ্লব বা গণঅভ্যুত্থানের পর যে সরকার দায়িত্ব নেয়, তার সাফল্যনির্ভর করে কতটা নিরপেক্ষ ও রাষ্ট্রকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তারা সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করে তার ওপর। যদি অন্তর্বর্তী সরকার সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে পরিচালিত হয়, তবে গণঅভ্যুত্থানের মৌলিক চেতনা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। অন্যদিকে, যদি তারা সাহসী ও দূরদর্শী সংস্কার বাস্তবায়নে সক্ষম হয়, তবে রাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার দৃঢ় ভিত্তি লাভ করে। এই বিবেচনায় ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জন্য এক ধরনের ‘গণতান্ত্রিক লিটমাস টেস্ট’ যার ফলাফল দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে গভীরভাবে প্রভাবিত করবে।
সংস্কারের পথে অগ্রসর হতে অন্তর্বর্তী সরকার ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করে, যাদের ওপর সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, পুলিশ, জনপ্রশাসন, দুর্নীতি দমন, গণমাধ্যম, মানবাধিকার ও স্থানীয় সরকারসহ রাষ্ট্রের মৌলিক খাতগুলো পর্যালোচনা করে সুপারিশ প্রণয়নের দায়িত্ব অর্পিত হয়। এসব কমিশনের প্রতিবেদন নিছক প্রশাসনিক দলিল নয়; বরং এগুলো বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার দিকনির্দেশক কাঠামা হিসেবে বিবেচিত হওয়ার দাবিদার। এই সুপারিশগুলোর সমন্বিত প্রতিফলনই ‘জুলাই জাতীয় সনদ’। গণভোটের মাধ্যমে এই সনদকে সাংবিধানিক বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগ যেমন সাহসী ও সময়োপযোগী, তেমনি যথাযথ স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে তা ঝুঁকিপূর্ণও হতে পারে।
গণভোট নিঃসন্দেহে গণতন্ত্রের এক শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে; কিন্তু ইতিহাস প্রমাণ করে যে এর অপব্যবহার হলে এটি জাতিকে ঐক্যের বদলে বিভক্তির দিকে ঠেলে দিতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণভোট কখনও গণতান্ত্রিক অগ্রগতির প্রতীক হয়েছে, আবার কোথাও কোথাও তা কর্তৃত্ববাদী শাসনকে বৈধতা দেওয়ার কৌশল হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোটের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করবে তিনটি মৌলিক শর্তের ওপর- প্রক্রিয়ার পূর্ণ স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং ব্যাপক নাগরিক অংশগ্রহণ। যদি সাধারণ মানুষ নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে স্বাধীনভাবে মতামত দিতে পারে, তবে এই গণভোট বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। অন্যথায় এটি শুধু রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হয়ে ইতিহাসের আরেকটি বিতর্কিত অধ্যায়ে পরিণত হবে।
নির্বাচনি ব্যবস্থার দিকে দৃষ্টি দিলে দেখা যায়, নির্বাচন কমিশন এবারের ভোটে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত পরিবর্তন এনেছে। ইভিএম বাতিল করে কাগজের ব্যালটে প্রত্যাবর্তন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ, আসন পুনর্বিন্যাস এবং প্রবাসী ভোটের উদ্যোগ এসব পদক্ষেপ অতীতের বিতর্কিত নির্বাচন থেকে শিক্ষা নেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি নিবন্ধিত ভোটার নিয়ে এই নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক আয়োজন। পাশাপাশি নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির উদ্যোগ এবং তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও সমতার ক্ষেত্রে ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
তবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য কেবল প্রশাসনিক প্রস্তুতি পর্যাপ্ত নয়; রাজনৈতিক পরিবেশকেও শান্তিপূর্ণ, সহনশীল ও আস্থাপূর্ণ হতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত সহিংস ঘটনা ও নিরাপত্তা উদ্বেগ দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পূর্বশর্ত হলো ভোটারদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও ভয়মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা। এই প্রেক্ষাপটে সরকার ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে- পুলিশ, সেনাবাহিনী, আনসার, বিজিবি, র্যাব, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী মিলিয়ে প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বডিওর্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি, ড্রোন ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ভোটের স্বচ্ছতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে; তবে বড় প্রশ্ন রয়ে যায়- এই প্রযুক্তি কি নিরপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হবে, নাকি তা রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ারে পরিণত হবে?
এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমিত হয়ে পড়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। দুই দলই জোট ও সমঝোতার মাধ্যমে আসন ভাগাভাগি করেছে বিএনপি যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে সমঝোতা করেছে, আর জামায়াতে ইসলামী ১০টি দলের ঐক্য গড়ে তুলেছে। এই সমঝোতাগুলো কৌশলগত হলেও প্রকৃত বহুদলীয় প্রতিযোগিতাকে সংকুচিত করেছে। ভোটারদের সামনে বিকল্পের সীমিততা গণতন্ত্রের গুণগত মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, কারণ রাজনৈতিক বিকল্পের স্বাধীনতা ও প্রতিযোগিতা ছাড়া গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখা সম্ভব নয়।
নির্বাচনি ব্যবস্থার কাঠামো নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। বর্তমান ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট পদ্ধতিতে বড় দলগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পায়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোনো দল মাত্র ৩০-৩৫ শতাংশ ভোট পেয়ে সংসদে বিপুল আসন দখল করে, যা প্রতিনিধিত্বমূলক ন্যায়বিচার ও সংখ্যালঘু মতের অন্তর্ভুক্তি প্রশ্নবিদ্ধ করে। আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR) ব্যবস্থা চালু হলে ভোটের অনুপাতে আসন বণ্টন হতো, ফলে সংখ্যালঘু মত ও বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোকেও সংসদে যথাযথ স্থান দেওয়া সম্ভব হতো। নতুন সংসদে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন হিসেবে বিবেচিত হবে।
অর্থনৈতিক বাস্তবতা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত। বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত যুব বেকারত্ব ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি থাকা সত্ত্বেও চাকরির সুযোগ না পাওয়া তরুণদের হতাশা শুধু ব্যক্তিগত নয়; এটি সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সূচনা করতে পারে। কর্মসংস্থানহীন যুবসমাজ সহজেই উগ্রতা, সহিংসতা বা রাজনৈতিক অসন্তোষের দিকে ঝুঁকতে পারে। সেক্ষেত্রে শিল্প, প্রযুক্তি, কৃষি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং স্টার্টআপ খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি অপরিহার্য। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং স্বাধীন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সমান গুরুত্বপূর্ণ, যা দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার ভিত্তি গড়ে তোলে।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে শুধু রাজনীতির ওপর নয়; এটি অর্থনীতি, সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবাধিকার এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের সঙ্গে সমান্তরালভাবে জড়িত। নতুন সরকার যদি শুধু ক্ষমতা ধরে রাখার রাজনীতিতে আবদ্ধ থাকে, তবে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মৌলিক চেতনা ব্যর্থতার মুখোমুখি হবে। কিন্তু যদি তারা সাহসী ও দূরদর্শী সংস্কার বাস্তবায়নে সক্ষম হয়, তবে বাংলাদেশ একটি নতুন গণতান্ত্রিক অধ্যায়ে প্রবেশ করতে সক্ষম হবে, যা দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ভিত্তি স্থাপন করবে।
১২ ফেব্রুয়ারি তাই শুধু একটি ভোটের দিন নয়, এটি বাংলাদেশের আত্মপরিচয়ের দিন। এই দিনে নাগরিকরা শুধু তাদের প্রতিনিধি বাছাই করবেন না; তারা রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবেন। গণভোটের মাধ্যমে যদি তারা জুলাই জাতীয় সনদকে বৈধতা দেয়, তবে এটি বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করবে। কিন্তু ভোটার উপস্থিতি কম হলে বা প্রক্রিয়াটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেলে, তা গণতন্ত্রের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে গণ্য হবে। ইতিহাস নির্মম শিক্ষক- এটি আবেগ দেখে না, শুধুই ফলাফল বিচার করে। অতীতে বাংলাদেশ বহু সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। সামরিক শাসন, দলীয় স্বৈরাচার, ভোট কারচুপি এবং রাজনৈতিক সহিংসতা এসব আমাদের ইতিহাসের কলঙ্কিত অধ্যায় হিসেবে রয়ে গেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি সেই ভুলগুলো সংশোধনের এক বিরল সুযোগ এনে দিয়েছে। এই দিনটিকে বিশ্বাসযোগ্য ও অর্থবহ করে তোলার দায়িত্ব বর্তমান সরকার, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম এবং নাগরিক সমাজ সবার সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর নির্ভর করছে।
গণমাধ্যমের ভূমিকা এই প্রক্রিয়ায় অপরিসীম। তারা যদি নিরপেক্ষ তথ্য সরবরাহ করে, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রতিরোধে কাজ করে এবং ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির মুখোমুখি দাঁড় করায়, তবে গণতন্ত্র প্রকৃত অর্থে শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে নাগরিক সমাজের সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করে যে ক্ষমতাসীনরা স্বেচ্ছাচারী হওয়ার সাহস পাবে না। আর ভোটার যদি সচেতনভাবে ও তথ্যভিত্তিকভাবে ভোট প্রদান করেন, তবে রাজনীতিবিদরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে বাধ্য হবে, এভাবেই গণতন্ত্রের জবাবদিহি ও সততার ভিত্তি দৃঢ় হয়।
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক পরীক্ষা। নির্বাচন ও গণভোট যদি শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও ব্যাপক অংশগ্রহণের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়, তবে এটি গণতান্ত্রিক পুনর্জাগরণের একটি মাইলফলক হিসেবে ইতিহাসে স্মরণীয় হবে। অন্যদিকে, প্রক্রিয়াটি যদি প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তবে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হবে এবং গণতন্ত্রের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে। বাংলাদেশের মানুষ বহু সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এসেছে- ভাষার জন্য, স্বাধীনতার জন্য, গণতন্ত্রের জন্য। এখন সেই সংগ্রামের নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে ১২ ফেব্রুয়ারি। ইতিহাস এই দিনটিকে কীভাবে মূল্যায়ন করবে, তা নির্ভর করছে আজকের আমাদের সিদ্ধান্তের ওপর। কারণ ১২ ফেব্রুয়ারি শুধু একটি তারিখ নয়; এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ।
কৃষিবিদ ড. মো. আল-মামুন
প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট