ঢাকা বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

এবার দুটি প্যাকেজের হজ যাত্রীদের ৩ কোটি টাকা ফেরত দিতে পারব

এবার দুটি প্যাকেজের হজ যাত্রীদের ৩ কোটি টাকা ফেরত দিতে পারব

চলতি বছর হজ শেষে দুটি প্যাকেজের সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের তিন কোটির বেশি টাকা ফেরত দিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। গত বছরের মতো এবছরও সরকারি খরচে কাউকে হজে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার শেষ কর্মদিবসে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এসব কথা জানান।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, গত দেড় বছর অত্যন্ত স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সততার সঙ্গে আমি দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তর-সংস্থাগুলোকে সক্রিয়, গতিশীল ও ফলপ্রসূ করার সর্বাত্মক চেষ্টা করে গেছি। কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও সততা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি, উৎসাহ-অনুপ্রেরণা জুগিয়েছি।

আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, ২০২৫ সালের হজে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক সে দেশের একটি মেডিকেল সার্ভিস কোম্পানির সঙ্গে হজযাত্রী প্রতি দুই সৌদি রিয়াল হিসেবে একটি হেলথ সার্ভিস চুক্তি করা হয়েছিল। এবার হজে আমাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও নেগোসিয়েশন কুশলতার কারণে এই সেবা আমাদের দেশের সব হাজী বিনামূল্যে নিতে পারবেন। আমরা আশা করছি ২০২৬ এর হজ শেষে প্যাকেজ-১ ও প্যাকেজ-২ এর হজযাত্রীদের তিন কোটির বেশি টাকা ফেরত দিতে পারব।

জুলাই বিপ্লবের পর হজ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে দাবি করে তিনি বলেন, যৌক্তিক খরচে হজ পালনের যে জনআকাঙ্ক্ষা ছিল সেটি নিয়ে আমি বিশেষভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছি। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ ও নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে ২০২৫ সালের হজে বিমানভাড়া প্রায় ২৭ হাজার টাকা কমানো হয়। এবছর বিমানভাড়া গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৩ হাজার টাকা কমানো হয়েছে। গত দুই বছরে পর্যায়ক্রমে ৪০ হাজার টাকা বিমানভাড়া হ্রাসের বিষয়টি উল্লেখ করার মতো অর্জন বলে আমি মনে করি। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের হজে যেখানে বিমানভাড়া ছিল ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮০০ টাকা, ২০২৬ সালের হজে এসে বিমানভাড়া হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। এটাকে আরও কমানোর বিষয়ে আমি চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলাম।

উপদেষ্টা বলেন, আমরা গত বছর সরকারি মাধ্যমের হাজিদের হজের খরচ নির্বাহ শেষে উদ্বৃত্ত ৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছি। এছাড়া, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত হজ এজেন্সির অব্যয়িত প্রায় ৩৮ কোটি টাকা যেটা সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের আইবিএন হিসেবে পড়ে ছিল সেটা অব্যাহত যোগাযোগের মাধ্যমে আমরা ফেরত এনে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোকে ফেরত দিয়েছি।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, গত বছর হজে সৌদি প্রান্তে হজ ব্যবস্থাপনার কাজে সমন্বিত চিকিৎসক ছাড়া ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাইরে কাউকে টিমে অন্তর্ভুক্ত করিনি এবং টিম সদস্য সংখ্যাও ২০২৪ এর তুলনায় আমরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কমিয়েছিলাম। গত বছর সরকারি ব্যয়ে কাউকে হজ নেওয়া হয়নি। এবছরও কাউকে নেওয়া হবে না।

ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, গত বছর আমাদের হজ প্যাকেজ ছিল দুটি। এবছর আমাদের হজ প্যাকেজ তিনটি। এবছর সীমিত বা নির্দিষ্ট আয়ের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা যেন হজ করতে পারেন সেজন্য আমরা একটি সাশ্রয়ী প্যাকেজ ঘোষণা করেছি; মাত্র ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকার হজ প্যাকেজ আমরা ঘোষণা করেছি। এবছর আমাদের হজের প্রস্তুতি আজ পর্যন্ত সন্তোষজনক। এরই মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমে হজযাত্রীদের বাড়িভাড়া, তাঁবু ভাড়া, পরিবহন চুক্তি অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, এবছর হজ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এরই মধ্যে আমরা কিছু সাফল্য অর্জন করেছি। হজ প্যাকেজ-৩ এর সার্ভিস চার্জ সার্ভিস প্রোভাইডার কোম্পানির সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ যোগাযোগের মাধ্যমে হজযাত্রী প্রতি প্রায় ৬০০ সৌদি রিয়াল কমানো হয়েছে।

প্যাকেজ-৩ এর হজযাত্রীদের মক্কায় আবাসনের ব্যবস্থা করার কথা ছিল হারাম শরীফের বহিরাঙ্গণ থেকে ৬-৮ কিলোমিটারের মধ্যে। আজিজিয়া এলাকা থেকে হারাম শরীফ আসতে গেলে হাজিদের দুইবার গাড়ি পরিবর্তন করতে হয়। এটা হাজিদের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে- এই বিবেচনায় আমরা হজ প্যাকেজ-৩ এর হাজিদের জন্য বাড়িভাড়া করেছি হারাম শরীফ থেকে দেড় কিলোমিটারের মধ্যে। এর ফলে হাজিদের যাতায়াতে বিড়ম্বনা লাঘব হয়েছে এবং তারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ হারাম শরীফে আদায় করতে পারবেন।

উপদেষ্টা জানান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শূন্যপদে ১৬৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মামলাজনিত কারণে ১৯৭ জনকে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা আশাবাদী, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি সাপেক্ষে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। নবম ও তদুর্ধ্ব গ্রেডের ২৯ জন এবং ১০ থেকে ২০ তম গ্রেডের ৩২ জনকে বিধি মোতাবেক পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, নবম ও তদুর্ধ্ব গ্রেডের শূন্যপদে জনবল নিয়োগের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন।

গণভোট নিয়ে খতিবের বক্তব্য দুঃখজনক : গণভোট নিয়ে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেকের বক্তব্য দুঃখজনক ও ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। গতকাল মঙ্গলবার শেষ কর্মদিবসে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা জানান। বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক সম্প্রতি এক খুতবায় বলেছেন, যেহেতু গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ দুটি বিকল্প রাখা হয়েছে, তার মানে জনগণের ‘না’ ভোট দেওয়ার পূর্ণ অধিকার আছে। সরকার বা কোনো দল ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে উৎসাহিত করলেও, ‘না’ ভোট দেওয়া কোনো অপরাধ নয়।

খতিবের এ বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা যারা এখন দায়িত্বে আছি—বায়তুল মোকাররমের খতিব, ইসলামী ফাউন্ডেশনের ডিজি, ট্রাস্টি বোর্ড, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট, বৌদ্ধ কল্যাণ ট্রাস্ট, খ্রিস্টান কল্যাণ ট্রাস্ট, ইমাম মসজিদ কল্যাণ ট্রাস্ট, জাকাত বোর্ড, বোর্ড অব গভর্নরস- সব অফিসার ও কর্মকর্তাই আমার অনুমোদনক্রমে প্রধান উপদেষ্টার অনুমতিতে এবং রাষ্ট্রপ্রধান কর্তৃক নিয়োজিত। আমি মনে করি, যারা রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত, তাদের প্রত্যেককেই দায়িত্বশীল হতে হবে। সতর্কতার সঙ্গে কথা বলতে হবে। এমন কোনো বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়, যা বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি সবসময় সচেতন। আগেও একবার ট্রাস্টের একজন গভর্নরস বোর্ডের সদস্য একটি বেফাঁস মন্তব্য করেছিলেন, যার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তখন তাকে পথ ছেড়ে দিতে বা ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়, তিনি ব্যাখ্যা দেন। বায়তুল মোকাররম একটি জাতীয় মসজিদ, জাতীয় প্রতিষ্ঠান। বর্তমান খতিব একজন প্রাজ্ঞ আলেম, হাদিস বিশেষজ্ঞ ও ইসলামিক জুরিসপ্রুডেন্সের গবেষক। তার বহু গ্রন্থ রয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত