ঢাকা শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার রাজনীতি চাই

তাকিয়া তাবাচ্ছুম
জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার রাজনীতি চাই

একটি দেশের মেরুদণ্ড হলো- সাধারণ জনগণ। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে আমরা দেখি সেই মেরুদণ্ড শুধু শোষণের ভার বহন করছে। তখন গণতন্ত্রের প্রকৃত সংজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র কি শুধু পাঁচণ্ডদশ বছর পর পর একটি আনুষ্ঠানিকতা, নাকি এটি ক্ষমতার ভাগাভাগির এক সূক্ষ্ম ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ নীতি?

ঐতিহাসিকভাবেই এই অঞ্চলে শাসকরা টিকে থাকার জন্য বিভাজন বেছে নিয়েছে। বর্তমান রাজনীতিতে আদর্শগত পার্থক্যের চেয়ে ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বই বেশি ।

দেশকে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করে, ফলে সাধারণ মানুষের ঐক্য নষ্ট হয়। এই ফাঁক দিয়েই দুর্নীতি, লুটপাট এবং নোংরা রাজনীতি প্রসার লাভ করে। এটি শুধু অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা নয়; কখনও কখনও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের ছায়াও জড়িয়ে থাকে- যারা চায় না একটি উন্নয়নশীল দেশ মানসিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হোক।

তাত্ত্বিকভাবে গণতন্ত্র শ্রেষ্ঠ শাসন ব্যবস্থা। কিন্তু বাংলাদেশের মতো নিম্ন আয়ের দেশে এটি যদি শুধু ক্ষমতা দখলের পথ হয়ে দাঁড়ায়, তা অভিশাপে পরিণত হয়। মুদ্রাস্ফীতি (৮.৫৮% প্রায়) আট শতাংশের উপরে, লাগামহীন বেকারত্ব- এই চিত্র আমরা ১৯৭১-এর পর থেকে ধারাবাহিকভাবে দেখছি। আমাদের গণতন্ত্রে জনগণের অংশগ্রহণ নেই, আছে শুধু জনগণের ব্যবহার।

জাতীয় নির্বাচন হলো। কিন্তু নির্বাচন কেন্দ্রিক রাজনীতি কি সাধারণ মানুষের মৌলিক সমস্যা সমাধান করবে? বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও অর্থনীতি- সবই আজ ক্ষমতার কেন্দ্রিকীকরণের কারণে ভঙ্গুর। প্রতিটি সেক্টরে দলীয় নিয়োগ ও ক্ষমতার দাপট চলে, মেধাবীরা দেশান্তরী হয়, রাষ্ট্র বৈদেশিক শত্রুদের দ্বারা প্রভাবিত।

যা দেশের সম্ভাবনাকে মুক্তি পেতে শুধু নেতা পরিবর্তন নয়, রাজনীতির ধারা পরিবর্তন জরুরি। একজন ব্যক্তি বা দল গোটা রাষ্ট্র জিম্মি করতে পারবে না। নির্বাচন কমিশন, দুদক ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে হবে।

তরুণ ও মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব যারা শোষণের পুরনো ধারা বদলাতে সক্ষম। আমরা বিভাজন নয়, অধিকার, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার রাজনীতি চাই।

তাকিয়া তাবাচ্ছুম

শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত