ঢাকা শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

নারী দিবস বনাম সমাজের বাস্তব চিত্র

তৈয়বা খানম
নারী দিবস বনাম সমাজের বাস্তব চিত্র

প্রতিবছর ৮ মার্চ কতো উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ব্যাপক কর্মসূচির আলোকে নারীর উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির মধ্যে দিয়ে পালিত হয়। কিন্তু আদৌ কি পরিবর্তন হচ্ছে নারী সমাজের প্রকৃত চিত্র? তবে নারী দিবস উদযাপন কি শুধু একটা রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে আমাদের মধ্যে বিরাজমান? প্রতিবছর ৮ মার্চ বহু প্রত্যাশা নিয়ে আমরা রাজপথে নারী শোষণ, নির্যাতন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে মানববন্ধন, আলোচনা সভা এবং নারীদের সুরক্ষায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়ে নানা প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করতে শুনি। এত কিছুর পরেও নারী সমাজের চিত্র চরম হতাশজনক যা আমাদের প্রতিনিয়ত পীড়া দেয়।

গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ২৫টি অধিক নারী ও শিশু সহিংসতার ঘটনা ঘটে। তার একটি ঘটনারও আমরা দৃশ্যমান বিচারকার্য দেখতে পাইনি। এটি রাষ্ট্রীয় বিচারকার্যের চরম ব্যর্থতাকে দৃশ্যমান করে। যদি এমনই হয় আমাদের সমাজের চিত্র তবে আদৌ কি আমাদের সমাজের অর্ধেক নারী জনগোষ্ঠীর কাঙ্খিত উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব কিনা তা প্রশ্ন থেকে যায়। এমনতা অবস্থায় স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণ একটি অলীক কল্পনা হিসেবে থেকে যায়। খুব করে জানতে ইচ্ছে করে আর কতো শত ফুল অকালে ঝরে গেলে তবে মিলবে নারী মুক্তি।

নারী ও শিশু মৃত্যুর মিছিল যেন থামছে না। যারা ধর্ষণের একটি প্রধানতম কারণ হিসেবে পোশাক ও বেহায়াপনাকে দায়ী করেন তাদের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই ৭ বছরের শিশুটির ঠিক কোন কারণে ধর্ষিত হয়? এই দেশে ধর্ষিতারা মারা যায় আর ধর্ষকেরা দিব্বি জামিনে ছাড়া পায়। যেই দেশে টাকার কাছে আইন বিক্রি হয় সেই দেশে নারী নিরাপত্তা কখনই সম্ভব হতে পারে না। একটা সময় বদ্ধ চার দেয়ালে আবদ্ধ থেকে কতো শত অভিযোগ মায়ের কাছে জমা হতো মুক্ত আকাশে বিচরণ করতে না পারার মনোকষ্টে। মা সব সময়ের জন্য তার কন্যা শিশুকে চোখে চোখে রাখতেন। এমনকি অন্যরা যেখানে কন্যাদের পুতুলের ন্যায় সাজিয়ে রাখতে পছন্দ করতেন সেখানে আমার বাহারি সাজেঁ পোশাক গায়ে জড়ানো হতো না মায়ের এই ভয়ে যে যদি লালসার শিকার হয়। সেই সময় মায়ের এই ভয় ও কাজগুলো নিছক পাগলামো মনে হতো। তবে এটি হাজারও মায়ের হৃদয়কোণে জমে থাকা ভয়ের অব্যক্ত গল্প। এখন মনে হয় চতুর্দিকে ধর্ষণের মিছিলে আমাদের পরবর্তী নারী প্রজন্ম আরও কোণঠাসা হয়ে বেড়ে উঠবে। ছোট্ট পরীটার খোলা আকাশে প্রজাপতি ন্যায় বিচরণের স্বপ্নটা স্বপ্নই থেকে যাবে। আর কখনও বোধ হয় মায়ের তার কন্যা শিশুর সংস্পর্শে স্বস্তির নিঃশ্বাসটুকু নিতে পারবে না। নারীর এগিয়ে যাওয়ার পথে প্রতিনিয়ত তাকে আটকে দেওয়া হয়। তার স্বপ্ন ও প্রত্যাশাগুলো নিয়ে তাকে মুক্তবিহঙ্গের ন্যায় বিচরণ করার সুযোগকে সংকীর্ণ করে দেওয়া হয়। অভিভাবকদের মনে রাখতে হবে, ধর্ষণের শিকার একটা নারী কখনই অপরাধী নয় বরং অপরাধী আমাদের ঘৃণ্য মানসিকতার মানুষগুলো যারা নারীদের লালসার শিকার বানায়। আমাদের শোষণের শিকার নারীদের তির্যক মন্তব্য করার বদলে নারীদের সুরক্ষায় পাশে দাঁড়াতে হবে।

তৈয়বা খানম

শিক্ষার্থী, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত