ঢাকা বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ঈদের পর্যটন : অর্থনীতির জোয়ার, ব্যবস্থাপনার সংকট

তাসনিয়া তাবাচ্ছুম
ঈদের পর্যটন : অর্থনীতির জোয়ার, ব্যবস্থাপনার সংকট

ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, পরিবার আর ব্যস্ত জীবন থেকে সাময়িক মুক্তির এক সুযোগ। এই ছুটিকে ঘিরে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নামে মানুষের ঢল। কক্সবাজার, বান্দরবান, সাজেক কিংবা সেন্টমার্টিন- সব জায়গাতেই তখন দেখা যায় উপচেপড়া ভিড়। এই ভ্রমণ-উচ্ছ্বাসের আড়ালেই গড়ে ওঠে এক বিশাল অর্থনৈতিক কার্যক্রম, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

ঈদের মৌসুমে পর্যটন খাত কার্যত একটি মৌসুমি অর্থনীতিতে রূপ নেয়। বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ঈদের কয়েক দিনে কক্সবাজারেই প্রায় ৫ থেকে ১০ লাখ পর্যটকের আগমন ঘটে। এই বিপুল মানুষের আগমন স্থানীয় অর্থনীতিতে কয়েকশ’ কোটি টাকার লেনদেন সৃষ্টি করে। হোটেল ও রিসোর্টগুলোর ৮০ থেকে ১০০ শতাংশ কক্ষ পূর্ণ থাকে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। ঈদের সময়ে একটি মাঝারি মানের হোটেলের দৈনিক আয় স্বাভাবিকের তুলনায় ২ থেকে ৩ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়, আর বিলাসবহুল রিসোর্টগুলোতে এই হার আরও বেশি।

এই অর্থনৈতিক প্রবাহ স্থানীয় জনগণের জীবনে সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। পর্যটননির্ভর এলাকাগুলোতে গাইড, পরিবহন শ্রমিক, রেস্তোরাঁ কর্মী, হকার, ফটোগ্রাফার এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ঈদের মৌসুমে বেশি আয়ের সুযোগ পান। অনেক ক্ষেত্রে তাদের আয় ২ থেকে ৫ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়, যা তাদের বার্ষিক আয়ের একটি বড় অংশের জোগান দেয়। এমনকি অনেক পরিবার সারা বছরের আর্থিক পরিকল্পনা এই মৌসুমি আয়ের ওপর নির্ভর করে তৈরি করে। ফলে ঈদের পর্যটন শুধু বিনোদনের ক্ষেত্র নয়, বরং স্থানীয় অর্থনীতির একটি শক্তিশালী চালিকাশক্তি।

তবে এই অর্থনৈতিক জোয়ারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ে অনিয়ন্ত্রিত বাজারব্যবস্থার প্রবণতা। চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় হোটেল ভাড়া কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। সাধারণ সময়ে ২০০০ থেকে ৩০০০ টাকার একটি কক্ষ ঈদের সময় ৬০০০ থেকে ১০,০০০ টাকায় পৌঁছে যায় এবং স্পট বুকিংয়ের ক্ষেত্রে এর চেয়েও বেশি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে রেস্তোরাঁয় খাবারের দাম ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় এবং পরিবহন খাতে ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। অর্থনীতির চাহিদা-সরবরাহ তত্ত্ব অনুযায়ী, এটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে তা নিয়ন্ত্রণহীনতা ও সিন্ডিকেটনির্ভর শোষণের রূপ নেয়, যা সাধারণ পর্যটকদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া, পর্যটন খাতের একটি বড় অংশ এখনও অপ্রাতিষ্ঠানিক। অধিকাংশ ক্ষুদ্র ব্যবসায় লেনদেনের সঠিক হিসাব সংরক্ষণ করা হয় না, ফলে সরকার সম্ভাব্য কর ও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়।

তাসনিয়া তাবাচ্ছুম

শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত