ঢাকা বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলামুক্ত ঈদযাত্রা

অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলামুক্ত ঈদযাত্রা

ঈদুল ফিতর সমাগত। মুসলমানদের জন্য এটা শ্রেষ্ঠ উৎসব। পুরো রমজান মাস আমরা ঈদের নামাজ ও উৎসবের জন্য অপেক্ষা করে থাকি। ঈদের কয়েকদিন আগে থেকে রাজধানীবাসী ছুটতে শুরু করেন নিজ নিজ গ্রামের বাড়ির দিকে। রাজধানী প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। ঈদের অব্যবহিত আগে যেহেতু বিপুলসংখ্যক মানুষ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাওয়া শুরু করে, তাই সড়কে শৃঙ্খলা এ সময়টায় জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন। আমাদের অভিজ্ঞতা বলছে, প্রতি ঈদযাত্রার সময় যাত্রীসাধারণ অনেক ভোগান্তির শিকার হয়ে থাকেন। এবারও সেই আশঙ্কা রয়েছে বৈকি। এটা ঠিক, আগে যারা গিয়েছেন, তারা নির্বিঘ্নেই যেতে পেরেছেন। কিন্তু দুয়েকদিন পর থেকে যারা যাত্রা শুরু করবেন, তাদের ক্ষেত্রে কী ঘটবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে আশার কথা, ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশমুখ ও বাস টার্মিনালগুলো ঘিরে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা। পুলিশ কর্তৃপক্ষ বলছে, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, রাজধানীর প্রবেশমুখে ও বাস টার্মিনালে শৃঙ্খলা থাকলেই পুরো যাত্রা নির্বিঘ্ন হবে, এমন কোনো কথা নেই।

যানজটটা তো শুরু হয় রাজধানী ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে। ওদিকে নৌযাত্রা হুমকির মুখে পড়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নৌমন্ত্রী অবশ্য বলেছেন, সব ধরনের পরিবহণে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করা হবে। তবে লঞ্চ মালিকরা বলছেন, যাওয়া-আসায় তিন হাজার লিটার ডিজেল দরকার হয়, অথচ পাওয়া যাচ্ছে না এক হাজার লিটারও। ওদিকে পরিবহণ ভাড়াও বেড়েছে অনেক। বাসের ভাড়া চাওয়া হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত বেশি। বিমানের টিকিটের ক্ষেত্রেও একই কথা।আমরা ঈদযাত্রায় কোনো ধরনের ভোগান্তির কথা শুনতে চাই না। নতুন নির্বাচিত সরকার সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সড়কে শৃঙ্খলাও সুশাসনের অংশ বৈকি। এটা ঠিক, জনসংখ্যা ও পরিবহণের সংখ্যাধিক্যের কারণে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা কঠিন। তবে ব্যবস্থাপনা ঠিক থাকলে বিশৃঙ্খলা কমিয়ে আনা সম্ভব।

মহাসড়কের যেসব পয়েন্টে যানজট সৃষ্টি হয়, সেসব জায়গায় বিশেষ ট্রাফিকের ব্যবস্থা করে যানজট কমিয়ে আনা সম্ভব। ঈদ উপলক্ষে অন্যায্য ভাড়া আদায় করেছেন যারা, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনাটা জরুরি। ঈদকে অধিক মুনাফার লক্ষ্যে ব্যবহার করা চরম অন্যায়। সাধারণ মানুষকে অসহায় অবস্থায় ফেলে তাদের পকেট কাটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ফলে ঈদযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রে সব ধরনের অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা রোধে সড়ক ও পরিবহণ মন্ত্রণালয়কে তৎপর হতে হবে অবশ্যই। পুলিশকেও নিতে হবে বাড়তি ব্যবস্থা। ঈদযাত্রায় নিরাপত্তা ও সন্তুষ্টির ওপর বর্তমান সরকারের জনপ্রিয়তা অনেকটা নির্ভর করছে। এ ক্ষেত্রে সাফল্য দেখাতে পারলে সরকারের ওপর মানুষের আস্থা বাড়বে বৈকি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত