প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
দেশের অর্থনীতি যখন উচ্চ মূল্যস্ফীতির দীর্ঘ ছায়ায় ক্লান্ত ও অস্থির, তখন জ্বালানি তেলের দাম এক ধাক্কায় ১৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি এবং তার সরাসরি প্রতিক্রিয়ায় বাসভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ১১ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে জনজীবনে নতুন চাপের মাত্রা যোগ করেছে। এটি শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি আমাদের অর্থনৈতিক বাস্তবতা, নীতিনির্ধারণী সীমাবদ্ধতা এবং জনকল্যাণের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার এক কঠিন পরীক্ষার মুহূর্ত। সরকার বলছে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা, বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং ভর্তুকির বোঝা সামলাতে এই মূল্য সমন্বয় অনিবার্য হয়ে উঠেছে। যুক্তিটি পুরোপুরি অগ্রাহ্য করার সুযোগ নেই। কারণ, বাংলাদেশ একটি আমদানিনির্ভর জ্বালানি অর্থনীতি। বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম, ডলারের বিনিময় হার এবং পরিবহন ব্যয় সব মিলিয়ে একটি জটিল সমীকরণ তৈরি করে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে। তবুও প্রশ্ন থেকে যায় এই সমন্বয়ের ভার কি ন্যায্যভাবে বণ্টিত হয়েছে?
বাসভাড়া বৃদ্ধির সরকারি হিসাব বলছে, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৫৩ পয়সা হয়েছে, যা প্রায় ৪.৫ শতাংশ বৃদ্ধি। আন্তঃজেলা পরিবহনে এই হার ৫.১ শতাংশ। আপাতদৃষ্টিতে এই বৃদ্ধি সীমিত মনে হলেও বাস্তবতা অনেক কঠিন। কারণ, এই ১১ পয়সার বৃদ্ধি একটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক চেইন রিঅ্যাকশনের সূচনা করে যেখানে পরিবহন ব্যয় বাড়ে, পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং শেষ পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।
এরইমধ্যে তার লক্ষণ স্পষ্ট। ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বৃদ্ধির পরপরই পণ্যবাহী পরিবহনের ভাড়া বেড়েছে, যার ফলে রাজধানীর বাজারে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন পণ্যে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগ আবারও সামনে এসেছে। এই বাস্তবতায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা যে চাপে পড়েছে, তা আর পরিসংখ্যান দিয়ে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন পড়ে না এটি এখন প্রতিদিনের বাজারের ব্যাগেই দৃশ্যমান।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কমে ৪.৭ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে অবস্থান করতে পারে। এই দুই সূচকের সমন্বয় নিম্ন প্রবৃদ্ধি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি অর্থনীতির জন্য একটি বিপজ্জনক সংকেত। উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে এটিকে ‘স্ট্যাগফ্লেশন’-এর ঝুঁকি হিসেবেও দেখা হয়, যেখানে উৎপাদন স্থবির হয়ে পড়ে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমাগত বাড়তে থাকে।
এই প্রেক্ষাপটে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি একটি ‘মাল্টিপ্লায়ার এফেক্ট’ তৈরি করে। কৃষিখাতে এর প্রভাব বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।
বাংলাদেশের সেচব্যবস্থা মূলত ডিজেলচালিত পাম্পের ওপর নির্ভরশীল। উৎপাদন খরচ বাড়লে খাদ্যদ্রব্যের দাম আরও বাড়বে এবং ক্ষুদ্র কৃষকরা চাষাবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন। একইভাবে শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি রপ্তানি সক্ষমতাকে দুর্বল করতে পারে বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে, যেখানে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা অত্যন্ত তীব্র।
তবে এই সংকটের দায় শুধুমাত্র বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর চাপিয়ে দিলে চলবে না। অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, বাজার তদারকির ঘাটতি এবং নীতিনির্ধারণে সমন্বয়ের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। পাম্পে জ্বালানির জন্য দীর্ঘ সারি, এলপিজির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং বাজারে সরবরাহ সংকট এসবই প্রমাণ করে যে শুধু দাম বাড়িয়ে সংকট সমাধান করা যায় না।
বাস্তবতা হলো, আমাদের গণপরিবহন ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই এক ধরনের অরাজক কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এখানে ভাড়া নির্ধারণের নীতি আছে, কিন্তু তার কার্যকর প্রয়োগ নেই। জ্বালানির দাম বাড়লে ভাড়া বাড়ে, কিন্তু কমলে তার প্রতিফলন দেখা যায় না। ফলে যাত্রী এক ধরনের ‘বাধ্য ভোক্তা’তে পরিণত হয়েছে যার কোনো বিকল্প নেই, কোনো দরকষাকষির ক্ষমতা নেই।
একজন নিম্ন-মধ্যবিত্ত কর্মজীবীর উদাহরণই এই বাস্তবতাকে স্পষ্ট করে। প্রতিদিনের যাতায়াতে অতিরিক্ত ২০–৩০ টাকা ব্যয়, মাস শেষে যা কয়েকশ’ টাকায় দাঁড়ায় এটি কেবল একটি সংখ্যাগত বৃদ্ধি নয়; এটি তার পরিবারের খাদ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যয়ের ওপর সরাসরি আঘাত। একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে এবং দেশের বৃহত্তর স্বার্থে বিশ্বাসী একজন নাগরিক হিসেবে আমি বলতে চাই এই সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন বাস্তবমুখী, ন্যায়ভিত্তিক এবং সাহসী নীতিগত পদক্ষেপ।
প্রথমত, জ্বালানি মূল্য ও পরিবহন ভাড়ার মধ্যে একটি স্বচ্ছ ও স্বয়ংক্রিয় সমন্বয় পদ্ধতি চালু করতে হবে, যেখানে দাম বাড়লে যেমন ভাড়া বাড়বে, তেমনি কমলে তা বাধ্যতামূলকভাবে কমবে। দ্বিতীয়ত, বাজার তদারকি জোরদার করে সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে এক্ষেত্রে প্রশাসনের কঠোর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা অপরিহার্য। তৃতীয়ত, কৃষি ও শিল্প খাতে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে উৎপাদন ব্যাহত না হয়। চতুর্থত, গণপরিবহনের গুণগত মান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রয়োজন পরিবেশবান্ধব বাস, রুট রেশনালাইজেশন এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা চালু করতে হবে।
সবচেয়ে বড় কথা, নীতিনির্ধারণে সাধারণ মানুষের স্বার্থকে কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে হবে। রাষ্ট্র যদি শুধু ব্যয় সমন্বয়ের যুক্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়, কিন্তু তার সামাজিক প্রভাব বিবেচনায় না আনে, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে আস্থার সংকট তৈরি করে।
আজ ঢাকার প্রতিটি বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর চোখে যে ক্লান্তি, যে অনিশ্চয়তা তা শুধু পরিবহন সংকটের প্রতিচ্ছবি নয়; এটি আমাদের অর্থনৈতিক নীতির সীমাবদ্ধতারও প্রতিফলন। এই বাস্তবতা বদলাতে না পারলে, ভাড়া বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের আস্থাও কমতে থাকবে।
প্রশ্নটি তাই আর শুধু অর্থনীতির নয় এটি রাষ্ট্রের চরিত্রের প্রশ্ন। আমরা কি এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে চাই, যেখানে সংকটের বোঝা সবসময় সাধারণ মানুষের কাঁধেই চাপানো হয়? নাকি এমন একটি জনবান্ধব কাঠামো নির্মাণ করব, যেখানে উন্নয়ন, ন্যায় ও মানবিকতার সমন্বয় ঘটবে? সময়ের দাবি সিদ্ধান্তে দূরদর্শিতা, প্রয়োগে কঠোরতা, আর জনগণের প্রতি অটুট দায়বদ্ধতা।
এই প্রেক্ষাপটে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে- রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও কি বিকল্প পথ একেবারেই অনুপস্থিত? বাস্তবতা হলো, বিকল্প আছে; কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রতি অঙ্গীকার।
প্রথমত, ভর্তুকি ব্যবস্থার পুনর্গঠন জরুরি। অন্ধভাবে ভর্তুকি প্রদান না করে তা লক্ষ্যভিত্তিক করা গেলে সরকার একদিকে ব্যয় কমাতে পারবে, অন্যদিকে প্রকৃত উপকারভোগীদের সুরক্ষা দিতে পারবে। উদাহরণস্বরূপ, কৃষি ও গণপরিবহন খাতে সীমিত কিন্তু কার্যকর ভর্তুকি বজায় রেখে শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে ধাপে ধাপে বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ করা যেতে পারে। এতে একদিকে উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে থাকবে, অন্যদিকে সরকারি তহবিলের ওপর চাপও কমবে।
দ্বিতীয়ত, জ্বালানি খাতে বহুমুখীকরণ এখন আর বিলাসিতা নয় এটি অপরিহার্যতা। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরশক্তি ও বায়ুশক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে দীর্ঘমেয়াদে আমদানিনির্ভরতা কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা কখনোই টেকসই হবে না।
তৃতীয়ত, রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে করের বোঝা একটি সীমিত জনগোষ্ঠীর ওপর কেন্দ্রীভূত। করজাল সম্প্রসারণ, কর ফাঁকি রোধ এবং ডিজিটাল কর ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়ানো গেলে সরকার উন্নয়ন ব্যয় ও ভর্তুকি দুটিই দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে পারবে। এতে সাধারণ মানুষের ওপর প্রত্যক্ষ মূল্যবৃদ্ধির চাপ কিছুটা হলেও লাঘব হবে।
চতুর্থত, বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা প্রয়োজন। উন্নয়ন প্রকল্পের নামে অপ্রয়োজনীয় বা কম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পে ঋণ গ্রহণ ভবিষ্যতে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। তাই প্রকল্প বাছাইয়ে স্বচ্ছতা, ব্যয়ের যৌক্তিকতা এবং সময়মতো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ঋণের সুদ ও কিস্তি পরিশোধের চাপ শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপরই এসে পড়ে।
পঞ্চমত, গণপরিবহন খাতে কাঠামোগত সংস্কার এখন সময়ের দাবি। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা মালিক-শ্রমিককেন্দ্রিক অরাজকতা দূর করে একটি সমন্বিত, রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত বা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপভিত্তিক আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। রুটভিত্তিক কোম্পানি গঠন, নির্দিষ্ট সময়সূচি, ই-টিকিটিং এবং জিপিএস মনিটরিং চালু করা গেলে যাত্রীসেবা যেমন উন্নত হবে, তেমনি অপচয় ও অনিয়মও কমবে।
এখানে একটি বাস্তবধর্মী তুলনা প্রাসঙ্গিক। প্রতিবেশী অনেক দেশ জ্বালানির দাম বাড়লেও গণপরিবহন খাতে দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভাড়া নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে। সেখানে সেবার মান উন্নত হওয়ায় যাত্রীরা ভাড়া বৃদ্ধিকে তুলনামূলকভাবে সহজভাবে গ্রহণ করে। কিন্তু আমাদের দেশে ভাড়া বাড়ে, সেবা বাড়ে না- এই বৈপরীত্যই মূল অসন্তোষের উৎস।
এছাড়া, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী শক্তিশালী করা এখন অপরিহার্য। নিম্নআয়ের মানুষদের জন্য নগদ সহায়তা, খাদ্য সহায়তা বা পরিবহন ভর্তুকির মতো উদ্যোগ নেওয়া গেলে মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা কিছুটা হলেও সামাল দেওয়া সম্ভব। একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্বই হলো সংকটের সময়ে দুর্বল জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়া।
রাজনৈতিক বাস্তবতার দিক থেকেও এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, অর্থনৈতিক চাপ সরাসরি সামাজিক অস্থিরতায় রূপ নিতে পারে। ইতিহাস বলছে, দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এই তিনের সমন্বয় একটি রাষ্ট্রের জন্য গভীর সংকট তৈরি করতে পারে। তাই অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণ শুধু অর্থনীতির বিষয় নয়; এটি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে, যিনি দেশের গণতান্ত্রিক ধারার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ এবং জনগণের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেন, আমার বিশ্বাস সমাধান একমাত্র সংঘাত বা দায় চাপানোর রাজনীতিতে নয়; বরং সমন্বিত, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বাস্তবভিত্তিক নীতিতে। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমানকে সঠিক পথে পরিচালিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সবশেষে বলতে হয়, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি ও বাসভাড়া সমন্বয়ের এই সিদ্ধান্ত আমাদের সামনে একটি আয়নার মতো দাঁড় করিয়েছে যেখানে আমরা আমাদের নীতিগত শক্তি ও দুর্বলতা দুটিই স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি। এই আয়নায় চোখ রেখে যদি আমরা সাহসী ও জনমুখী সিদ্ধান্ত নিতে পারি, তাহলে এই সংকটই হয়ে উঠতে পারে একটি নতুন সূচনার ভিত্তি। অন্যথায়, এই মূল্যবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা শুধু অর্থনৈতিক চাপই বাড়াবে না; এটি মানুষের আস্থা, সামাজিক স্থিতি এবং উন্নয়নের গতিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলবে। সময়ের আহ্বান তাই স্পষ্ট অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষা, জনজীবনের স্বস্তি নিশ্চিত করা এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা এই তিনের সমন্বয়েই টিকে থাকবে বাংলাদেশের আগামী পথচলা।
জুবাইয়া বিন্তে কবির
অর্থনীতিবিদ, গবেষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট