ঢাকা রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

লোডশেডিংয়ের বিস্তার, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি ও সঞ্চালন ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি

লোডশেডিংয়ের বিস্তার, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি ও সঞ্চালন ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি

তীব্র গরমে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদার বিপরীতে উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় খোদ রাজধানী ঢাকাতেও লোডশেডিংয়ের বিস্তার ঘটেছে। জানা যায়, গত বুধবার দুপুরে এ মৌসুমের সর্বোচ্চ আড়াই হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। বস্তুত কয়েকদিন ধরে ঢাকার বাইরে মূলত গ্রামাঞ্চলে ভয়াবহ লোডশেডিং চলে আসছে। এবার এর বিস্তার ঘটল রাজধানীসহ শহরাঞ্চলে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, লোডশেডিংয়ের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তাপমাত্রা বাড়লে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়বে-এটি একটি সাধারণ সমীকরণ। ফ্যান, এসি এবং সেচ পাম্পের অতি ব্যবহারের ফলে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে বিদ্যুৎ খাতের সক্ষমতা নিয়ে। গত এক দশকে বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা কয়েকগুণ বেড়েছে বলে দাবি করা হলেও কেন সামান্য গরমেই সংকট দেখা দিচ্ছে? জ্বালানি সংকট নাকি সঞ্চালনব্যবস্থার ত্রুটি-ঠিক কোন কারণে দেশবাসীকে এই অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, এর সুনির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়লেও বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের আদানি পাওয়ারের সঙ্গে যে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি করেছিল, তার মাশুল দিতে হচ্ছে জনগণকে। জানা যায়, ভারতের ঝাড়খণ্ডে বসানো আদানির ৮০০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়াই বাংলাদেশে এ লোডশেডিংয়ের কারণ। তাই আমরা মনে করি, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সঞ্চালনব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে বিদ্যুতে স্বনির্ভর হওয়াই এ সংকট থেকে উত্তরণের টেকসই পন্থা।

মনে রাখতে হবে, বিদ্যুৎ সংকট দীর্ঘস্থায়ী থাকা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই সরকারের উচিত এ সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া। জ্বালানি আমদানিতে অর্থের জোগান নিশ্চিত করা, গ্রিড ট্রিপ বা কারিগরি ত্রুটি কমাতে দ্রুত সংস্কারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং শিল্পাঞ্চল ও আবাসিক এলাকায় বিদ্যুতের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে দ্রুত উৎপাদন শুরু করা প্রয়োজন। বিশেষ করে বিশ্বে বর্তমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে এটি বেশি জরুরি। উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। এতে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলো পড়েছে বড় সংকটে। এই বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে রূপপুরে নির্মিত ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি পারমাণবিক ইউনিট চালু হলে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কিছুটা হলেও কমবে। কমবে বিদ্যুৎ সংকটও।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত