প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ১৯ মে, ২০২৬
খাবারে ভেজাল কিংবা প্রতারণা আমাদের দেশে নতুন কিছু নয়। তবে স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে সাধারণ মানুষ যে পণ্যটি বেশি দাম দিয়ে কিনছেন, তাতেই যদি মেশানো হয় বিষাক্ত কেমিক্যাল, তবে ভোক্তার যাওয়ার আর জায়গা থাকে না। সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আখের লাল চিনি নিয়ে যে ভয়ংকর প্রতারণার চিত্র উঠে এসেছে, তা এককথায় শিউরে ওঠার মতো। অসাধু চক্র সাধারণ সাদা চিনির সঙ্গে ক্ষতিকর কেমিক্যাল এবং শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত টেক্সটাইল রং মিশিয়ে তা খাঁটি ও প্রাকৃতিক ‘লাল চিনি’ বলে বাজারে ছাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন এই ভেজাল চিনি খেলে কিডনি ও লিভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট হওয়া এবং ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে এরিথ্রোসিন বা রেড ডাই-৩-এর মতো কৃত্রিম রঙের প্রভাবে শিশুরা মনোযোগের অভাব বা অতি-সক্রিয়তার শিকার হতে পারে। এই চিনি বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে সাদা চিনি ১০০-১১০ টাকায় বিক্রি হলেও আখের চিনি হিসাবে প্রচার করে এই ভেজাল চিনি ১৭০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে। অর্থাৎ কেজিতে ৭০-৯০ টাকা বেশি নিয়েও মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে এই চক্র। আবার বাজারে পাওয়া এসব চিনির প্যাকেটে বড় ব্র্যান্ডের অবিকল মোড়ক ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ ভোক্তার পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়, কোনটা আসল আর কোনটা নকল।
ভোক্তা অধিকার ক্ষতিকর এই চিনি জব্দের পাশাপাশি অভিযান পরিচালনা করছে, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিন্তু কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) নেতৃবৃন্দের ক্ষোভও অমূলক নয়। অসাধু চক্রগুলো কার্যত মানুষকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার মতো অপরাধ করলেও শুধু সামান্য টাকা জরিমানা দিয়েই পার পেয়ে যাচ্ছে। এই লঘু শাস্তির সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া দরকার। দেশ ও দেশের মানুষকে বাঁচাতে হলে শুধু জরিমানা নয়, এই অবৈধ ও বিষাক্ত চিনির মূল উৎপাদনকারীদের খুঁজে বের করে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। বাজার তদারকি আরও জোরদার করার পাশাপাশি এই অসাধু চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে অবিলম্বে সাঁড়াশি অভিযানে নামতে হবে- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।