ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে সরকারের ‘নিষ্ক্রিয়তা’ কেন বেআইনি নয়

জানতে চাইল হাই কোর্ট
স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে সরকারের ‘নিষ্ক্রিয়তা’ কেন বেআইনি নয়

দেশের সব নাগরিকের জন্য সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা (ইউনিভার্সাল হেলথ কাভারেজ) নিশ্চিতে পদক্ষেপ নিতে সরকারের ‘নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা’ কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট। জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট মামলার প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আব্দুর রহমানের বেঞ্চ সোমবার এ রুল জারি করে।

সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বাস্তবায়ন তদারকি, পর্যবেক্ষণ ও দিকনির্দেশনা দিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে কেন এক মাসের মধ্যে একটি স্বাধীন কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে কেন আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চেয়েছে আদালত।

অ্যাডভোকেট এ কে এম মাকসুদ, আমিনুল ইসলাম, সৈয়দ মাহবুবুল আলম ও সীমা দাস সিমুর পক্ষে হাই কোর্টে এই রিট আবেদনটি করেন অ্যাডভোকেট নিশাত মাহমুদ।

আবেদনে বলা হয়, সংবিধানের ১৫, ১৮ ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব হলেও বাস্তবে তা ‘কার্যকরভাবে প্রতিফলিত হয়নি’। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সংজ্ঞা অনুযায়ী, সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা এমন একটি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে প্রত্যেক নাগরিক আর্থিক দুর্ভোগ ছাড়াই প্রয়োজনীয় ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবে।

সরকারের নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩২ সালের মধ্যে সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থাকলেও এর বাস্তব অগ্রগতি ‘অত্যন্ত সীমিত’ বলে রিট আবেদনে দাবি করা হয়।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এবং বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণার তথ্য তুলে ধরে আবেদনে বলা হয়, দেশে স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭৯ শতাংশ জনগণকে নিজেদের পকেট থেকে বহন করতে হচ্ছে। ফলে প্রতিবছর লাখো পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাচ্ছে। ক্যানসার, কিডনি, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের মত অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত বিপুলসংখ্যক মানুষ কেবল চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পারার কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

রিট আবেদনে বলা হয়, স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বরাদ্দ মোট বাজেট ও জিডিপির তুলনায় অত্যন্ত কম এবং বরাদ্দ অর্থের একটি বড় অংশ অব্যবহৃত থেকে যায়।

এছাড়া দেশে জনসংখ্যার অনুপাতে চিকিৎসকের সংখ্যা ২০০০:১ এবং নার্সের সংখ্যা ৫০০০:১, যা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার গুরুতর সংকটের চিত্র তুলে ধরে।

রিট আবেদনে বলা হয়, কার্যকরভাবে সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বাস্তবায়ন করা গেলে রোগ-ব্যাধির প্রকোপ কমবে, জনগণের আর্থিক চাপ হ্রাস পাবে এবং সংবিধানপ্রদত্ত জীবনাধিকার বাস্তব অর্থে নিশ্চিত হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত