প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ২৬ মে, ২০২৬
বাংলাদেশ একসময় বিশ্বের সামনে উদাহরণ তৈরি করেছিল কীভাবে সীমিত সম্পদ নিয়েও একটি দেশ টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে প্রাণঘাতী রোগকে প্রায় নির্মূলের পথে নিয়ে যেতে পারে। গ্রামের মেঠোপথ থেকে শহরের বস্তি, চরাঞ্চল থেকে পাহাড়ি জনপদ সবখানে পৌঁছে গিয়েছিল জনস্বাস্থ্যের সেই আশার আলো। মায়েরা বিশ্বাস করতে শিখেছিলেন, অন্তত হাম নামের ভয়ংকর রোগটি আর তাদের সন্তানদের কেড়ে নিতে পারবে না। কিন্তু আজ সেই বিশ্বাসে ফাটল ধরেছে। হাসপাতালের করিডোরে আবারও শোনা যাচ্ছে শিশুদের কষ্টভরা কান্না, আর সংবাদপত্রের পাতায় বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। ৫০০ শিশুর মৃত্যু শুধু একটি স্বাস্থ্যসংকটের খবর নয়; এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধ, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং আমাদের মানবিক বিবেকের কঠিন পরীক্ষা। এই সংকট আমাদের মনে করিয়ে দেয় একটি জাতির ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে হলে শিশুদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও টিকাদান কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হয়। দেশের কোটি কোটি মানুষের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন সরকার দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে এবং আবারও বাংলাদেশকে শিশুস্বাস্থ্যের নিরাপদ ভূখণ্ডে পরিণত করবে।
একসময় বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় টিকাদানে সাফল্যের উদাহরণ ছিল। গ্রামের পর গ্রাম, চরাঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা- সবখানে স্বাস্থ্যকর্মীরা পৌঁছে গিয়েছিলেন। মায়েরা বিশ্বাস করতে শিখেছিলেন, অন্তত হামের মতো প্রাণঘাতী রোগ থেকে তাদের সন্তান নিরাপদ। কিন্তু আজ সেই নিরাপত্তাবোধ ভেঙে পড়ছে। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডগুলো আবার ভরে উঠছে জ্বরাক্রান্ত শিশুর কান্নায়, মায়ের উৎকণ্ঠায়, বাবার অসহায় অপেক্ষায়।
একজন মা হয়তো তার সন্তানের টিকা কার্ড হাতে নিয়ে বসে আছেন। সেখানে একটি ঘর খালি। কোনো একদিন তিনি টিকা দিতে যেতে পারেননি রাস্তা বন্ধ ছিল, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভ্যাকসিন ছিল না, কিংবা কোনো অব্যবস্থাপনার কারণে ফিরে আসতে হয়েছিল। সেই ছোট্ট খালি ঘরটি হয়তো আজ জীবন আর মৃত্যুর সীমারেখা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই নির্মম বাস্তবতা আমাদের বুঝিয়ে দেয়- স্বাস্থ্য খাতে সামান্য গাফিলতিও কত ভয়াবহ মূল্য দাবি করতে পারে।
এই শিশুরা জানত না টিকাদান কর্মসূচির ফাইল কোথায় আটকে ছিল। তারা জানত না কোন সরকার দায়িত্বে ছিল, কোন কর্মকর্তা অবহেলা করেছেন, কে দোষ চাপাচ্ছেন অন্যের ওপর। তারা শুধু জন্মেছিল বাঁচার জন্য। স্কুলে যাওয়ার জন্য। ঈদের নতুন জামা পরার জন্য। বৃষ্টিতে ভেজার জন্য। অথচ তাদের ভাগ্যে জুটল হাসপাতালের বিছানা, অক্সিজেন মাস্ক, আর সাদা কাপড়ে মোড়ানো নিথর শরীর। সংবাদপত্রে সংখ্যা বাড়ে- ৪৮০, ৪৯০, ৫০০। কিন্তু প্রতিটি সংখ্যার পেছনে থাকে একেকটি পরিবারের আর্তনাদ। কোনো মা হয়তো এখনও সন্তানের জামা বুকে চেপে কাঁদছেন। কোনো বাবা হয়তো সন্তানের খেলনাগুলো লুকিয়ে রেখেছেন, কারণ সেগুলো দেখলে বুক ফেটে যায়। শিশুমৃত্যু কখনও শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিষয় নয়; এটি সামাজিক, নৈতিক এবং মানবিক বিপর্যয়।
বাংলাদেশ একসময় হাম নিয়ন্ত্রণে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছিল। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচিকে উন্নয়নশীল বিশ্বের জন্য মডেল হিসেবে দেখত। সেই দেশেই আবার হাম ফিরে এসেছে ভয়ংকর রূপে। এর অর্থ শুধু রোগের প্রত্যাবর্তন নয়; এর অর্থ হলো কোথাও না কোথাও রাষ্ট্রীয় সমন্বয়, নজরদারি ও দায়িত্ববোধে বড় ধরনের দুর্বলতা তৈরি হয়েছে। গত কয়েক বছরে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে যে ব্যাঘাত ঘটেছে, তা এখন স্পষ্ট। স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা, পরিকল্পনার ঘাটতি, মাঠপর্যায়ের দুর্বল সমন্বয়- সব মিলিয়ে অসংখ্য শিশু নির্ধারিত সময়ে টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এই শূন্যতার সুযোগ নিয়েই হাম নতুন করে বিস্তার লাভ করেছে। জনস্বাস্থ্য কখনও রাজনৈতিক পরীক্ষার ক্ষেত্র হতে পারে না; কারণ এর মূল্য দেয় নিরীহ মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা।
দায় স্বীকারের সাহস কোথায়? বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি বড় সমস্যা হলো—দোষ স্বীকারের অনীহা। যখন সংকট তৈরি হয়, তখন সবাই ব্যাখ্যা খোঁজে, দায় এড়ানোর চেষ্টা করে। কিন্তু জনগণ এখন ব্যাখ্যা নয়, সমাধান চায়। শিশুমৃত্যুর মতো সংকটে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ মানুষের ক্ষত আরও গভীর করে। জনগণ জানতে চায়- কীভাবে এত বড় ঘাটতি তৈরি হলো, কেন আগাম সতর্কতা গুরুত্ব পেল না এবং ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় ঠেকাতে কী করা হবে। ঢাকার কোনো হাসপাতালের বহির্বিভাগে হয়তো এখনো এক মা তাঁর শিশুকে কোলে নিয়ে বসে আছেন। শিশুটির শরীর জ্বরে পুড়ছে, চোখে ক্লান্তি, ঠোঁট শুকিয়ে গেছে। মা শুধু অপেক্ষা করছেন- একটি বেডের জন্য, একটি অক্সিজেন সিলিন্ডারের জন্য, কিংবা একজন চিকিৎসকের আশ্বাসের জন্য। এই দৃশ্য শুধু রাজধানীতে নয়; চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, রংপুর- সর্বত্র একই আতঙ্ক।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বহু আগেই সতর্ক করেছিল- টিকাদানে ঘাটতি তৈরি হলে হাম ভয়াবহ আকার নিতে পারে। ইউনিসেফসহ বিভিন্ন সংস্থা নিয়মিত টিকাদানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছিল। কিন্তু যখন সতর্কবার্তা যথাযথ গুরুত্ব পায় না, তখন তার ভয়াবহ ফল সমাজকেই বহন করতে হয়। জনস্বাস্থ্য কোনো বিলাসিতা নয়; এটি রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। আজকের সময়ে একটি শিশুমৃত্যুও মুহূর্তে ফটোকার্ড হয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু ছবির পেছনের বেদনা আমরা কতটা অনুভব করি? হয়তো কয়েক ঘণ্টা ক্ষোভ প্রকাশ করি, তারপর আবার সব স্বাভাবিক হয়ে যায়।
অথচ যে পরিবারটি সন্তান হারিয়েছে, তাদের জন্য সময় আর কখনও স্বাভাবিক হয় না। প্রত্যন্ত অঞ্চলের বহু পরিবার এখনও স্বাস্থ্যসেবা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত। অনেক মা জানেন না, টিকার সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। কোথাও সচেতনতার অভাব, কোথাও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অনিয়ম, কোথাও আবার যোগাযোগব্যবস্থার দুর্বলতা। ফলে হামের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি তৈরি হচ্ছে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের মধ্যে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার পেছনে কয়েকটি বড় কারণ একসঙ্গে কাজ করেছে। সবচেয়ে বড় কারণ হলো নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ব্যাঘাত ও টিকার আওতার হার কমে যাওয়া। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সাল পর্যন্ত হামের টিকাদানের হার তুলনামূলকভাবে সন্তোষজনক থাকলেও ২০২৪ ও ২০২৫ সালে তা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গ্রামাঞ্চলে সচেতনতার অভাব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিকা নিয়ে অপপ্রচার, কিছু এলাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভ্যাকসিন সংকট, এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় সীমিত প্রবেশাধিকার। চিকিৎসকেরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ; আক্রান্ত একজন শিশুর সংস্পর্শে এলে টিকা না নেওয়া প্রায় ৯০ শতাংশ শিশুর মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। অপুষ্টি, ঘনবসতি, দূষিত পরিবেশ এবং দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলছে। তাই ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় ঠেকাতে হলে শুধু টিকাদান বাড়ালেই হবে না; স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারি, প্রতিটি শিশুর ডিজিটাল স্বাস্থ্যতথ্য সংরক্ষণ এবং ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত কার্যকর জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।
বাংলাদেশের মানুষ এখন এমন এক নেতৃত্ব চায়, যারা জনস্বাস্থ্যকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখবে। একটি শিশুর জীবন কোনো রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হতে পারে না। কারণ শিশুরা কোনো দলের নয়; তারা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তাই এই সংকট মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্য, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং কার্যকর কর্মপরিকল্পনা জরুরি। দেশের কোটি কোটি মানুষ এখন আশা করছে, জননন্দিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন সরকার এই সংকটকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখবে। জনগণ বিশ্বাস করতে চায়, এই সরকার স্বাস্থ্য খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে, টিকাদান কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং কোনো শিশুকে অবহেলার কারণে মরতে দেবে না।
মানুষের প্রত্যাশা- প্রতিটি ইউনিয়ন, প্রতিটি ওয়ার্ড, প্রতিটি গ্রামের শিশুকে দ্রুত টিকার আওতায় আনা হবে। এই মুহূর্তে প্রয়োজন দেশব্যাপী বিশেষ টিকাদান অভিযান। প্রতিটি শিশুর তথ্যভিত্তিক তালিকা তৈরি করতে হবে। স্কুল, মসজিদ, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি- সবাইকে সম্পৃক্ত করতে হবে। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সচেতনতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালে শিশু চিকিৎসা ও আইসোলেশন সুবিধা বাড়ানো জরুরি।
হাম থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর বৈজ্ঞানিক উপায় হলো সময়মতো হাম-রুবেলা টিকা গ্রহণ। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, নির্ধারিত বয়সে দুই ডোজ টিকা শিশুর শরীরে শক্তিশালী প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করে। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি। ঘরোয়া সচেতনতার অংশ হিসেবে শিশুকে পর্যাপ্ত পানি, ফল, ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার ও মায়ের দুধ খাওয়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা অভিভাবকের দায়িত্ব। ইসলাম মানবজীবনের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) রোগব্যাধি থেকে বাঁচতে সতর্কতা, পরিচ্ছন্নতা ও চিকিৎসা গ্রহণের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। তাই কুসংস্কার বা গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে সন্তানকে টিকা দেওয়া শুধু নাগরিক দায়িত্ব নয়, এটি নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্বও বটে। মসজিদের ইমাম, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সচেতন মানুষদের এগিয়ে এসে জনগণকে সচেতন করতে হবে। কারণ একটি শিশুকে সুরক্ষা দেওয়া মানে একটি পরিবারকে সুরক্ষা দেওয়া, আর একটি পরিবার নিরাপদ থাকলে নিরাপদ থাকে পুরো দেশ।
শুধু অভিযান চালালেই হবে না; কেন টিকাদানে ঘাটতি তৈরি হলো, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। কার অবহেলায় এই বিপর্যয়, তা জনগণের সামনে আনতে হবে। কারণ জবাবদিহি ছাড়া কোনো রাষ্ট্রব্যবস্থা শক্তিশালী হয় না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিরাপদ রাখতে হলে স্বাস্থ্যখাতে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করতেই হবে। একটি শিশু মারা গেলে শুধু একটি প্রাণ হারায় না। হারিয়ে যায় একজন সম্ভাব্য শিক্ষক, চিকিৎসক, কবি, বিজ্ঞানী কিংবা একজন সৎ মানুষ। হারিয়ে যায় একটি পরিবারের স্বপ্ন।
তাই শিশুমৃত্যুকে কখনও সাধারণ ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রের প্রতিটি নীতিনির্ধারকের মনে রাখা উচিত—একজন শিশুর জীবনও পুরো বাংলাদেশের সমান মূল্যবান। হামের এই পুনরুত্থান শুধু জনস্বাস্থ্যের সংকট নয়; এটি আমাদের নৈতিক ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। আমরা কি সত্যিই শিশুদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি? আমরা কি সময়মতো বিপদের সংকেত বুঝেছি? আমরা কি দায়িত্ব পালনে আন্তরিক ছিলাম? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে বের করা এখন সময়ের দাবি।
বাংলাদেশ অতীতে অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। দারিদ্র্য, দুর্যোগ, মহামারি- সবকিছুর বিরুদ্ধে লড়াই করে এই দেশ বহু অর্জন করেছে। তাই হাম মোকাবিলাও অসম্ভব নয়। প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, দক্ষ প্রশাসন, জনসম্পৃক্ততা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি। যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তবে আবারও বাংলাদেশ হাম নিয়ন্ত্রণে উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।
পরিশেষে, হামের এই পুনরুত্থান আমাদের সামনে শুধু একটি রোগের ভয়াবহতা তুলে ধরেনি; এটি দেখিয়ে দিয়েছে অবহেলা, সমন্বয়হীনতা ও দায়িত্বহীনতার মূল্য কত নির্মম হতে পারে।
একটি শিশুর মৃত্যু মানে একটি পরিবারের স্বপ্নের মৃত্যু, একটি ভবিষ্যতের নিভে যাওয়া। তাই এই সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক বক্তব্যের চেয়ে বেশি প্রয়োজন মানবিক দায়বদ্ধতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং কার্যকর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা। বাংলাদেশ অতীতে অসম্ভবকে সম্ভব করেছে, ভবিষ্যতেও পারবে যদি প্রতিটি শিশুর জীবনকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হয়। আজ সময় এসেছে নতুন করে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার, টিকাদান কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করার এবং প্রতিটি ঘরে ঘরে সচেতনতার আলো পৌঁছে দেওয়ার। দেশের মানুষ বিশ্বাস করতে চায়, প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমান এবং তার সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মানবিক ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে এই সংকট কাটিয়ে উঠবেন। কারণ একটি শিশুর হাসি বাঁচানো মানে শুধু একটি প্রাণ রক্ষা করা নয়; একটি জাতির আগামীকে নিরাপদ রাখা।