প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ০৩ জুন, ২০২৬
কোরবানির ঈদ এলেই দেশে পশুর চামড়া নিয়ে যে বিশৃঙ্খলা ও অমানবিক দৃশ্যের অবতারণা হয়, এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। সিন্ডিকেটের কারসাজি, সরকার নির্ধারিত দামের কার্যকারিতার অভাব এবং মৌসুমি ব্যবসায়ীদের দীর্ঘশ্বাসে এবারও ভারী হয়েছে কোরবানির চামড়ার বাজার। প্রতিবছরই সরকার চামড়ার একটি দাম নির্ধারণ করে দেয়, কিন্তু মাঠপর্যায়ে এর প্রতিফলন দেখা যায় না। এ বছর গরুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুটে ২ টাকা বাড়ানো হলেও প্রকৃত অর্থে ব্যবসায়ীরা তা পানির দরে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। মাঝারি আকারের চামড়ার দাম ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ঈদের দিন দুপুর থেকেই পোস্তা ও হেমায়েতপুরে চামড়াবাহী ট্রাকের সারি বাড়ছিল; কিন্তু ক্রেতার অভাব ছিল প্রকট। সময় যত গড়াচ্ছিল, মৌসুমি ব্যবসায়ীদের দীর্ঘশ্বাস তত দীর্ঘ হচ্ছিল। পরিবহণ খরচ তো দূরের কথা, ট্রাক ভাড়াও তুলতে না পেরে অনেক ক্ষুদ্র ও মৌসুমি ব্যবসায়ী লোকসানের কবলে পড়েছেন। হতাশায়, ক্ষোভে বাধ্য হয়ে কেউ কেউ নদীতে, ড্রেনে কিংবা ময়লার ভাগাড়ে চামড়া ফেলে দিয়েছেন।
এই সংকটের মূলে রয়েছে আড়তদার ও ট্যানারি মালিকদের যোগসাজশ। ঈদের দিন সন্ধ্যা হতে না হতেই পরিকল্পিতভাবে দাম কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। আবার অনেক ছোট ব্যবসায়ী ঋণ সুবিধা না পাওয়ায় বাজারে প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হয়নি, ফলে ট্যানারি মালিকদের দরকষাকষির ক্ষমতা বেড়েছে। কোরবানির চামড়া বিক্রির ওপর মাদ্রাসা, এতিমখানা ও অনেক দাতব্য প্রতিষ্ঠানের আয়ের একটি বড় অংশ নির্ভর করে। মাঠপর্যায়ে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় এই প্রতিষ্ঠানগুলো মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়ছে।
চামড়াশিল্প দেশের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। অথচ প্রতিবছর কেন এই সিন্ডিকেটের কাছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জিম্মি থাকতে হবে? সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম কেন কার্যকর হয় না এবং আড়তদারদের কারসাজি কেন রোধ করা সম্ভব হয় না- এটি এখন বড় প্রশ্ন। অবিলম্বে সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে চামড়ার বাজারে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায়, এই মূল্যবান সম্পদ প্রতিবছর নষ্ট হতে থাকবে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও অসহায় প্রতিষ্ঠানগুলো ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেইসঙ্গে চামড়াশিল্পও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াতে পারবে না।