ঢাকা বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সুসংবাদ প্রতিদিন

চান্দিনায় কাঁচামরিচ চাষে লাভবান কৃষক

চান্দিনায় কাঁচামরিচ চাষে লাভবান কৃষক

মাঠের পর মাঠ সবুজ ফসলের সমারোহ। তবে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মেহার গ্রামের একটি ছোট্ট জমির দিকে তাকালে চোখ জুড়িয়ে যায়। জমির পরিমাপ মাত্র চার শতাংশ, অথচ সেই এক চিলতে মাটিতেই যেন ফলেছে খাঁটি সোনা। পুরো খেতজুড়ে এখন শোভা পাচ্ছে থোকা থোকা কাঁচামরিচ। পাতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা সেই সবুজ ফসলের দিকে তাকিয়ে তৃপ্তির হাসি হাসছেন মেহার গ্রামের পরিশ্রমী কৃষক জাকির হোসেন। গাছভর্তি ফুল আর মরিচের এমন অভাবনীয় বাম্পার ফলন তার মুখে যে চওড়া হাসি ফুটিয়েছে, তা শুধু একজন সফল কৃষকের পক্ষেই সম্ভব। মাত্র দুই মাস আগের সামান্য কিছু পুঁজি আর দিন-রাত এক করা অক্লান্ত পরিশ্রম আজ এই প্রান্তিক চাষিকে এক বিশাল স্বপ্নের পথ দেখাচ্ছে। অত্যন্ত স্বল্প সময়ে এবং নামমাত্র খরচে মরিচচাষ করে পুরো এলাকায় এক অনন্য ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।

কৃষক জাকির হোসেনের এই অভাবনীয় সাফল্যের গল্পটি শুরু হয়েছিল আজ থেকে ঠিক দুই মাস আগে। নিজের মেহার গ্রামের এক খণ্ড ফসলি জমিতে তিনি বাণিজ্যিকভাবে মরিচের চারা রোপণের সিদ্ধান্ত নেন। চার শতাংশের এই পুঁচকে জমিতে চাষাবাদ শুরু করতে তার মোট খরচ হয়েছিল মাত্র ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা। বর্তমান যুগের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই নামমাত্র পুঁজি বিনিয়োগ করেই তিনি আজ অভাবনীয় লাভের মুখ দেখছেন। সঠিক সময়ে সঠিক পরিচর্যা, অনুকূল আবহাওয়া আর কৃষকের নিয়মিত ও আন্তরিক তদারকিতে গাছগুলো খুব দ্রুত বেড়ে উঠেছে। এখন পুরো খেতজুড়ে শুধুই মরিচের রাজত্ব। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, সবুজ পাতার আড়ালে যেন এক বিপুল সম্ভাবনার রাজ্য ডানা মেলছে। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে কাঁচামরিচের দাম বেশ চড়া, যা জাকিরের মতো ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য এক বিশাল আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাইকারি বাজারে এখন প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি হচ্ছে আশি থেকে নব্বই টাকা দরে। বাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী ও ইতিবাচক পরিস্থিতি জাকির হোসেনের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে তিনি জানান, মরিচ চাষের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এতে সময় ও পুঁজি দুটোই খুব কম লাগে। অন্যান্য ফসলের মতো এতে দীর্ঘকাল অপেক্ষা করতে হয় না বা বিপুল অঙ্কের টাকা লগ্নি করতে হয় না। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক সময়ে বাজার ধরতে পারা। যদি বাজারের চাহিদা বুঝে সঠিক সময়ে ফসল তোলা যায়, তবে লাভের অঙ্কটা সাধারণ হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি মোটা হয়।সবুজ খেতের দিকে এখন তাকালে কেবলই মুগ্ধতা ছড়ায়। গাছগুলোতে একদিকে যেমন নতুন সাদা ফুল ফুটছে, অন্যদিকে তেমনই কাঁচামরিচগুলো পুষ্ট ও পরিপক্ব হয়ে উঠছে। কৃষক জাকির হোসেন অত্যন্ত আশাবাদী যে, আর কিছুদিন পর যখন তিনি পুরোপুরিভাবে খেত থেকে মরিচ তোলা এবং বাজারে পুরোদমে বিক্রি করা শুরু করবেন, তখন হয়তো আরও ভালো দাম পাবেন। তিনি মনে করেন, বর্তমানের এই চমৎকার ও লাভজনক বাজারদর যদি আর কিছুদিন বাজারে বজায় থাকে, তবে তার চারা রোপণের আদি খরচ ও দৈহিক শ্রমের চেয়ে বহুগুণ বেশি মুনাফা ঘরে উঠবে।জাকির হোসেনের এই অভাবনীয় ও চোখ ধাঁধানো সাফল্য মেহার গ্রাম এবং এর আশপাশের এলাকার অন্য সাধারণ চাষিদের মধ্যেও দারুণ উদ্দীপনা ও কৌতূহলের তৈরি করেছে।

অল্প জমিতে কীভাবে আধুনিক, বিজ্ঞানসম্মত ও সচেতন উপায়ে চাষাবাদ করে নিজের ভাগ্যবদল ও স্বাবলম্বী হওয়া যায়, তা তিনি নিজের হাতেনাতে প্রমাণ করে দিয়েছেন। বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে এ ধরনের ক্ষুদ্র কিন্তু কার্যকর উদ্যোগগুলো যে কতটা বড় এবং সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে, জাকিরের এই সবুজ মরিচের খেত তারই এক উজ্জ্বল ও জ্যান্ত উদাহরণ। সব মিলিয়ে, চার শতাংশ জমির এই পুঁচকে মরিচ খেতটি এখন মেহার গ্রামের এক টুকরো সফলতার মহাকাব্য, যা দেখে প্রতিদিন উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন এলাকার শত শত তরুণ ও অভিজ্ঞ চাষি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত