ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

এ বছর বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য প্রকৃতির অনুপ্রেরণায়, জলবায়ুর সুরক্ষায়, গড়ব ভবিষ্যৎ

কৃষিবিদ ড. মো. আল-মামুন
এ বছর বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য প্রকৃতির অনুপ্রেরণায়, জলবায়ুর সুরক্ষায়, গড়ব ভবিষ্যৎ

বিশ্ব পরিবেশ দিবস মানবসভ্যতার সামনে পরিবেশ, জলবায়ু এবং উন্নয়ন নিয়ে গভীর আত্মসমালোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। প্রতি বছর ৫ জুন বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হলেও এর তাৎপর্য শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে প্রকৃতি ও পরিবেশের সুস্থতা ছাড়া মানবজাতির নিরাপদ ভবিষ্যৎ কল্পনা করা সম্ভব নয়। ২০২৬ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য ‘প্রকৃতির অনুপ্রেরণায়, জলবায়ুর সুরক্ষায়, গড়ব ভবিষ্যৎ’ একটি সময়োপযোগী এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আহ্বান। কারণ বর্তমান বিশ্ব এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয় এবং পরিবেশ দূষণের সম্মিলিত অভিঘাত মানবসভ্যতার দীর্ঘমেয়াদি অস্তিত্বকেই চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। আজকের পৃথিবী এক অভূতপূর্ব পরিবেশগত সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP) জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় এবং দূষণকে ‘ত্রিমুখী বৈশ্বিক সংকট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। শিল্পবিপ্লবের পর থেকে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যাপক ব্যবহার, অনিয়ন্ত্রিত শিল্পায়ন, দ্রুত নগরায়ণ, বনভূমি ধ্বংস এবং অতিভোগবাদী অর্থনৈতিক সংস্কৃতির কারণে পৃথিবীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলস্বরূপ বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়ছে এবং পৃথিবীর বিভিন্ন বাস্তুতন্ত্র অভূতপূর্ব চাপের মুখে পড়ছে।

জলবায়ু পরিবর্তন আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কা নয়; এটি বর্তমান বাস্তবতা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল, দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ, অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা, খরা এবং শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের ঘটনা জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তব প্রভাবকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন যে বৈশ্বিক উষ্ণতা যদি শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বৃদ্ধি পায়, তাহলে পৃথিবীর বহু বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি অপরিবর্তনীয় হয়ে যেতে পারে। এর ফলে খাদ্য উৎপাদন, পানিসম্পদ, জনস্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশের জন্য এই সংকট আরও গভীর ও বহুমাত্রিক। বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে দেশের অবদান অত্যন্ত সামান্য হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে এখানেই। ভৌগোলিক অবস্থান, নদীবাহিত বদ্বীপ অঞ্চল, দীর্ঘ উপকূলরেখা এবং উচ্চ জনঘনত্ব বাংলাদেশের ঝুঁকিকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার বিস্তার, নদীভাঙন, বন্যা, জলাবদ্ধতা এবং ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগ দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রাকে ক্রমাগত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সমুদ্রের লবণাক্ত পানি কৃষিজমিতে প্রবেশ করায় ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে। সুপেয় পানির উৎস সংকুচিত হচ্ছে। উপকূলীয় নারীরা অনেক ক্ষেত্রে নিরাপদ পানির জন্য কয়েক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে বাধ্য হচ্ছেন। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের জীবন, সম্পদ এবং অবকাঠামো বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষ জীবিকা হারিয়ে শহরমুখী হচ্ছে, যা জলবায়ুজনিত অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সমাজের সব স্তরের মানুষের ওপর সমানভাবে পড়ে না। দরিদ্র, প্রান্তিক এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একজন কৃষক যখন বন্যা বা খরার কারণে ফসল হারান, একজন জেলে যখন মাছের প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস হওয়ায় জীবিকার সংকটে পড়েন, অথবা একজন দিনমজুর যখন দুর্যোগের কারণে কাজ হারান, তখন জলবায়ু পরিবর্তন একটি পরিবেশগত সমস্যার গণ্ডি পেরিয়ে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নেয়। খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, অপুষ্টি, দারিদ্র্য এবং বৈষম্য বৃদ্ধির পেছনেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্ব নতুনভাবে উপলব্ধি করা প্রয়োজন। জীববৈচিত্র্য বলতে শুধু উদ্ভিদ ও প্রাণীর বৈচিত্র্য নয়; বরং তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং সমগ্র বাস্তুতন্ত্রের কার্যকারিতাকে বোঝায়। প্রকৃতির প্রতিটি উপাদান পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মৌমাছির মতো পরাগবাহক পোকামাকড় কৃষি উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য। বনভূমি কার্বন শোষণ করে জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। জলাভূমি বন্যা নিয়ন্ত্রণ করে এবং পানি পরিশোধনে ভূমিকা রাখে। ফলে কোনো একটি প্রজাতির বিলুপ্তি বা বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি বহুমাত্রিক নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে।

বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি দেশ। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বনাঞ্চল, সিলেটের চিরসবুজ অরণ্য, হাওর-বাঁওড় এবং বিস্তৃত নদী ব্যবস্থাপনা অসংখ্য উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল। সুন্দরবন শুধু রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাস নয়; এটি উপকূলীয় অঞ্চলের কোটি মানুষের জন্য একটি প্রাকৃতিক সুরক্ষা বেষ্টনী। কিন্তু বন উজাড়, জলাভূমি ধ্বংস, দূষণ, অবৈধ দখল এবং বন্যপ্রাণী পাচারের কারণে দেশের জীববৈচিত্র্য ক্রমাগত হুমকির মুখে পড়ছে।

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যে ধারণাটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে তা হলো ‘প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান’। এই ধারণার মূল কথা হলো প্রকৃতির নিজস্ব শক্তি, প্রক্রিয়া এবং বাস্তুতান্ত্রিক সেবাকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশগত ও সামাজিক সমস্যার সমাধান করা। ম্যানগ্রোভ বন উপকূলকে ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে, জলাভূমি অতিরিক্ত পানি ধারণ করে বন্যা নিয়ন্ত্রণ করে এবং বনভূমি বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন শোষণ করে বৈশ্বিক উষ্ণতা কমাতে সহায়তা করে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। সুন্দরবনের সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণ, উপকূলীয় বনায়ন, নদী ও জলাভূমি পুনরুদ্ধার, নগর সবুজায়ন এবং কৃষিতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার দেশের জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এসব উদ্যোগ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়নেও সহায়ক হবে।

বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো দেশের জলাভূমিগুলোর দ্রুত সংকোচন। খাল, বিল, পুকুর এবং অন্যান্য জলাধার ভরাট করে আবাসন প্রকল্প ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের ফলে প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে জলাবদ্ধতা, আকস্মিক বন্যা এবং পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা বাড়ছে।

একইসঙ্গে মাছ, পাখি, উভচর প্রাণী এবং জলজ উদ্ভিদের আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে। জলাভূমি শুধু পানির আধার নয়; এগুলো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, কার্বন সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তাই জলাভূমি সংরক্ষণকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

পরিবেশ দূষণের আরেকটি বড় উৎস হলো প্লাস্টিক। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যাপক ব্যবহার নদী, খাল, সমুদ্র এবং নগর পরিবেশকে দূষিত করছে। প্লাস্টিক সহজে পচনশীল নয়; বরং দীর্ঘদিন পরিবেশে থেকে মাটি ও পানির গুণগত মান নষ্ট করে। সাম্প্রতিক গবেষণায় মানবদেহের রক্ত, ফুসফুস এবং এমনকি গর্ভস্থ শিশুর শরীরেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এটি শুধু পরিবেশ নয়, জনস্বাস্থ্যের জন্যও একটি গুরুতর হুমকি। তাই প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, পুনর্ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্প উপকরণের ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশে পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিমালার অভাব নেই। সংবিধানের ১৮(ক) অনুচ্ছেদে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের দায়িত্ব রাষ্ট্রের ওপর অর্পণ করা হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, জীববৈচিত্র্য আইন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন এবং বিভিন্ন নীতিমালা পরিবেশ সুরক্ষার আইনি ভিত্তি প্রদান করেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আইনের দুর্বল প্রয়োগ এবং তদারকির ঘাটতির কারণে অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। অবৈধ দখল, দূষণ এবং পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। পরিবেশ সংরক্ষণের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যনির্ভর করে জনসচেতনতা এবং পরিবেশ শিক্ষার ওপর। শিশু-কিশোরদের মধ্যে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে। স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়ন বিষয়গুলো আরও কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। তরুণদের পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন, গবেষণা এবং সামাজিক উদ্যোগে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে একটি দায়িত্বশীল নাগরিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। একই সঙ্গে গবেষণা ও উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব বাড়াতে হবে। জলবায়ু সহনশীল কৃষি, লবণাক্ততা সহিষ্ণু ফসল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, টেকসই নগর পরিকল্পনা এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক গবেষণাকে আরও কার্যকর করা যেতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উন্নত দেশগুলো ঐতিহাসিকভাবে সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী হলেও এর সবচেয়ে বড় ক্ষতি ভোগ করছে উন্নয়নশীল দেশগুলো। তাই জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। উন্নত দেশগুলোর প্রতিশ্রুত জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং অভিযোজন সহায়তা বাস্তবায়ন করতে হবে। ক্ষয়ক্ষতি ও ক্ষতিপূরণ তহবিল কার্যকর করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ আমাদের সামনে একটি মৌলিক সত্য নতুন করে তুলে ধরে মানুষ প্রকৃতির বাইরে নয়; বরং প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রকৃতির ক্ষতি মানে শেষ পর্যন্ত নিজের অস্তিত্বকে বিপন্ন করা। উন্নয়ন ও পরিবেশকে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নয়, বরং পরিপূরক হিসেবে দেখতে হবে। টেকসই উন্নয়নের মূল দর্শনই হলো অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সামাজিক কল্যাণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্যের মধ্যে সমন্বয় সাধন। প্রকৃতির সঙ্গে সংঘাত নয়, সহাবস্থান; ধ্বংস নয়, সংরক্ষণ; অপচয় নয়, দায়িত্বশীল ব্যবহার। একটি গাছ রোপণ, একটি জলাভূমি রক্ষা, একটি নদীকে দূষণমুক্ত রাখা, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো কিংবা পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন এসব ছোট ছোট পদক্ষেপই বৃহৎ পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

কৃষিবিদ ড. মো. আল-মামুন

প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত