ঢাকা বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

পরিবর্তনের বাংলাদেশ : বাজেট, বিনিয়োগ ও উন্নয়নের নতুন দিগন্ত

জুবাইয়া বিন্তে কবির
পরিবর্তনের বাংলাদেশ : বাজেট, বিনিয়োগ ও উন্নয়নের নতুন দিগন্ত

বাংলাদেশ আজ এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতির চাপ, বিনিয়োগের চ্যালেঞ্জ এবং কর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তার মধ্যেও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট দেশের সামনে একটি নতুন আশার বার্তা নিয়ে এসেছে। জননন্দিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার যে অর্থনৈতিক দর্শন ও উন্নয়ন কৌশলের কথা তুলে ধরেছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মানুষ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং সামাজিক ন্যায়বিচার। এই বাজেট শুধু রাজস্ব ও ব্যয়ের একটি হিসাব নয়; এটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, মানবিক এবং ভবিষ্যৎমুখী বাংলাদেশের রূপরেখা।বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, তরুণদের কর্মসংস্থান, নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়ন, সামাজিক সুরক্ষার বিস্তার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার যে অঙ্গীকার এই বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে, তা দেশের অর্থনীতিকে নতুন গতিপথে এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার যে সংস্কারমুখী ও জনকল্যাণকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে, তা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেই নয়, মানবিক উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতিতেও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে সক্ষম হবে। সেই প্রেক্ষাপটেই এই প্রতিবেদনে বাজেট, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, জনকল্যাণ এবং জাতীয় উন্নয়নের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার জাতীয় বাজেট বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ আর্থিক পরিকল্পনা। আগের অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় এটি প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি। সংখ্যার বিচারে এটি নিঃসন্দেহে একটি উচ্চাভিলাষী বাজেট, যার মাধ্যমে সরকার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। কিন্তু অর্থনীতির বাস্তবতা হলো, বাজেটের সফলতা কেবল বরাদ্দের পরিমাণ দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। একটি বাজেট তখনই অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন তার সুফল দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষক, মৎস্যজীবী, শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, মধ্যবিত্ত চাকরিজীবী এবং শিক্ষিত বেকার তরুণের জীবনমান উন্নয়নে দৃশ্যমান প্রভাব ফেলে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বড় বাজেট সব সময় বড় উন্নয়নের নিশ্চয়তা দেয় না; বরং সুশাসন, দক্ষ বাস্তবায়ন এবং দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থাপনাই বাজেটকে সফল করে তোলে। তাই এই বাজেটের প্রকৃত মূল্যায়ন হবে কয়েক বছর পর, যখন দেখা যাবে মানুষের আয় বেড়েছে কি না, দারিদ্র্য কমেছে কি না এবং সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা স্বস্তি ফিরেছে।

অর্থনীতির পাঠ্যপুস্তকে জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে উন্নয়নের অন্যতম প্রধান সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু উন্নয়নের প্রকৃত অর্থ শুধু প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধি নয়; বরং সেই প্রবৃদ্ধির সুফল জনগণের জীবনে কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে দেশের অর্থনীতি এমন এক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে একদিকে প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর হয়েছে, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের কিছু বেশি হলেও বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে চাপে ফেলেছে। একজন নিম্ন বা মধ্যম আয়ের মানুষের কাছে প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যানের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো চাল, ডাল, তেল, সবজি কিংবা ওষুধের দাম। যদি পরিবারের মাসিক আয় বৃদ্ধি না পায় অথচ ব্যয় ক্রমাগত বাড়তে থাকে, তাহলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় না। তাই উন্নয়নের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তোলা, যেখানে প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা, জীবনমান এবং সামাজিক নিরাপত্তাও সমানভাবে বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ বর্তমানে মূল্যস্ফীতি। গত কয়েক বছর ধরে খাদ্যপণ্য, জ্বালানি, পরিবহন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতির হার ৯ শতাংশের কাছাকাছি অবস্থান করেছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর সবচেয়ে বেশি চাপ সৃষ্টি করেছে। কারণ তাদের আয়ের বড় অংশ খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ব্যয়ের পেছনে ব্যয় হয়। মূল্যস্ফীতির কারণে শুধু ভোগব্যয়ই নয়, মানুষের সঞ্চয়ক্ষমতাও কমে যাচ্ছে। অনেক পরিবার এখন চিকিৎসা, শিক্ষা কিংবা ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়ের পরিবর্তে দৈনন্দিন খরচ মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর হ্রাস, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এসব উদ্যোগের বাস্তব সুফল তখনই পাওয়া যাবে, যখন বাজারে কৃত্রিম সংকট, মজুতদারি ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে। মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সফল লড়াই শুধু অর্থনৈতিক নয়; এটি সামাজিক স্থিতিশীলতা ও জনকল্যাণেরও পূর্বশর্ত।

একটি দেশের অর্থনৈতিক শক্তিনির্ভর করে তার কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ওপর। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ছাড়া উন্নয়ন কখনোই টেকসই হতে পারে না। কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি এবং রপ্তানিমুখী শিল্প খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানই হতে পারে এই বাজেটের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ ছাড়া অর্থনীতির চাকা পূর্ণ গতিতে ঘুরতে পারে না। একজন বিনিয়োগকারী প্রথমে দেখেন নিরাপত্তা, নীতিগত স্থিতিশীলতা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ। রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং দুর্নীতি বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করে। তাই বিনিয়োগবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলার বিকল্প নেই। একসময় যুদ্ধবিধ্বস্ত ভিয়েতনাম আজ বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। তাদের সাফল্যের মূল রহস্য ছিল ধারাবাহিক নীতি, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং প্রশাসনিক দক্ষতা। বাংলাদেশের জন্যও এই অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়ন কখনোই শুধু অবকাঠামো নির্মাণের নাম নয়; উন্নয়ন হলো উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং মানবসম্পদ গঠনের সমন্বিত প্রক্রিয়া।

সেতু, সড়ক, মেট্রোরেল কিংবা টানেল একটি দেশের সক্ষমতার প্রতীক। কিন্তু এসব অবকাঠামোর পূর্ণ সুফল তখনই পাওয়া যায় যখন সেগুলো সুশাসন, জবাবদিহি এবং উৎপাদনশীল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়। কেবল ইট-পাথরের উন্নয়ন নয়, প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একটি আধুনিক রাষ্ট্রে কর ব্যবস্থা শুধু রাজস্ব আহরণের মাধ্যম নয়; এটি সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠারও হাতিয়ার। করের বোঝা যেন নিম্নআয়ের মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে, সে বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। কর সংস্কারের ইতিবাচক পদক্ষেপগুলোকে আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো- দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো। বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী, অসহায় এবং নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ একটি মানবিক রাষ্ট্রের পরিচয় বহন করে। বাজেটে এ খাতে রেকর্ড বরাদ্দ সেই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য কর-সুবিধা এবং প্রণোদনা কেবল অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি সামাজিক পরিবর্তনেরও একটি শক্তিশালী মাধ্যম। নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া উন্নয়ন কখনোই পূর্ণতা পায় না। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ তরুণ, যা দেশের জন্য একটি বিরাট জনমিতিক সুযোগ। বিশ্বের বহু দেশ এই জনমিতিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন অর্জন করেছে। তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ফ্রিল্যান্সিং, স্টার্টআপ, উদ্ভাবন এবং ডিজিটাল সেবা খাত আজ বৈশ্বিক অর্থনীতির নতুন চালিকাশক্তি। বাংলাদেশের তরুণরাও ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন।

বাজেটে তরুণ উদ্যোক্তা ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য কর অব্যাহতি এবং বিভিন্ন প্রণোদনা নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। তবে এর সঙ্গে প্রয়োজন দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত শিক্ষা, গবেষণা বিনিয়োগ এবং উদ্ভাবনবান্ধব পরিবেশ। কারণ আগামী দিনের অর্থনীতি মূলত জ্ঞান, প্রযুক্তি এবং সৃজনশীলতার ওপর নির্ভরশীল হবে।

দুর্নীতি একটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে নীরবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এটি রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় ঘটায়, বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করে এবং জনগণের আস্থা নষ্ট করে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূচকে দেখা যায়, যেসব দেশে দুর্নীতির মাত্রা কম, সেসব দেশে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং মানব উন্নয়নের সূচক তুলনামূলকভাবে বেশি। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করতে হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ও ধারাবাহিক অবস্থান গ্রহণের বিকল্প নেই। ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা, সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং সম্পদ পাচার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। জনগণের করের প্রতিটি টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলেই উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

অর্থনীতি ও রাজনীতি একে অপরের পরিপূরক। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া বিনিয়োগ আসে না, শিল্পায়ন হয় না এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় না। জাতীয় স্বার্থে একটি সহনশীল ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। বাংলাদেশের মানুষ সবসময় এমন নেতৃত্বের প্রত্যাশা করে, যারা কেবল ক্ষমতার রাজনীতি নয়, বরং রাষ্ট্রগঠনের রাজনীতি করবে। জনগণের প্রত্যাশা হচ্ছে সরকার তাদের দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা বুঝবে এবং বাস্তবসম্মত সমাধান দেবে। এই প্রত্যাশার জায়গা থেকেই নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি মানুষের আস্থা গড়ে ওঠে।

সংস্কার কখনও সহজ কাজ নয়। অনেক সময় জনপ্রিয়তার চেয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্তই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অর্থনীতি, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা এবং রাজস্ব কাঠামোয় কার্যকর সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক সাহস প্রয়োজন। একটি দায়িত্বশীল সরকার সেই সাহস দেখাতে পারে বলেই জনগণ আশা করে। উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়, যখন তার সুফল প্রান্তিক মানুষের ঘরে পৌঁছে যায়। একটি গ্রামের কৃষক, একটি শহুরে বস্তির শ্রমিক কিংবা একজন শিক্ষিত বেকার যুবক যদি উন্নয়নের সুবিধা না পায়, তাহলে উন্নয়ন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তাই উন্নয়নকে অবশ্যই অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে। বাংলাদেশ সম্ভাবনার দেশ। উর্বর ভূমি, পরিশ্রমী মানুষ, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং তরুণ জনগোষ্ঠী সব মিলিয়ে এই দেশ এগিয়ে যাওয়ার অসীম সক্ষমতা ধারণ করে। প্রয়োজন শুধু সঠিক নীতি, দক্ষ নেতৃত্ব এবং সুশাসনের ধারাবাহিকতা।

পরিশেষে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট বাংলাদেশের অর্থনৈতিক যাত্রাপথে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এই বাজেটে যেমন প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য রয়েছে, তেমনি রয়েছে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ, কর ব্যবস্থার সংস্কার, নারী ও তরুণদের ক্ষমতায়ন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের মতো বিষয়গুলো প্রমাণ করে যে সরকার একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কৌশল অনুসরণ করছে। জননন্দিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের এই বাজেট দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বিনিয়োগবান্ধব করার একটি সাহসী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বাস্তবায়নের সফলতাই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা, তবে বাজেটের দিকনির্দেশনা নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। যদি ঘোষিত পরিকল্পনাগুলো দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে বাংলাদেশ নতুন কর্মসংস্থান, শক্তিশালী বিনিয়োগ, নিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতি এবং টেকসই উন্নয়নের এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করবে। বাংলাদেশের সম্ভাবনা অপরিসীম।

জুবাইয়া বিন্তে কবির

অর্থনীতিবিদ, গবেষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত