প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ১৭ জুন, ২০২৬
বিশ্বজুড়ে পরিবেশবান্ধব ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর যখন সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে, তখন বাংলাদেশে এই খাতের বিপুল সম্ভাবনা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ট্যারিফ বিতর্কের আবর্তে আটকে থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গত সোমবার এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, বেসরকারি খাতে ১ হাজার মেগাওয়াটের বেশি সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তাব থাকলেও, সেই উৎপাদিত বিদ্যুৎ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেওয়ার খরচ বা মার্চেন্ট ট্যারিফ নির্ধারণ করতে পারছে না বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সরকারি বিতরণ কোম্পানিগুলোর ক্ষতিপূরণসহ প্রতি ইউনিটে উচ্চ ট্যারিফ দাবি করার কারণে এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক শিল্প খাতের টেকসই অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বিতরণ কোম্পানিগুলোর যুক্তি-বেসরকারি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সরাসরি বড় শিল্প গ্রাহকদের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করলে তারা উচ্চ ট্যারিফের গ্রাহক হারাবে এবং তাদের রাজস্ব কমে যাবে। তবে বিইআরসি চেয়ারম্যানের মতে, সরকারি কোম্পানির বিদ্যুৎ বিক্রি কমে যাওয়ার এই অজুহাত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কাজেই সরকারি সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন ব্যবহার করার জন্য একটি যৌক্তিক হুইলিং চার্জ অবশ্যই নির্ধারণ করা উচিত। এ নিয়ে সবচেয়ে বড় ভীতি তৈরি হয়েছে, দেশের প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতকে ঘিরে। বৈশ্বিক জলবায়ু চুক্তির বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে এই খাতের চাহিদার সব বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে আসতে হবে; অন্যথায় আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশকে বিপুল অঙ্কের কার্বন ট্যাক্স দিতে হবে। শুধু আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড এইচঅ্যান্ডএমণ্ডএর সহযোগী ফ্যাক্টরিগুলোর জন্যই আড়াই হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রয়োজন। এই বিশাল চাহিদা পূরণে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকে দ্রুত পথ করে না দিলে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য ও অর্থনীতি মারাত্মক সংকটে পড়বে।
আমরা মনে করি, বর্তমান সংকট উত্তরণে বিইআরসিকে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে নিয়ে শুনানির আয়োজন করতে হবে এবং একটি যৌক্তিক, ব্যবসাবান্ধব ও ভারসাম্যপূর্ণ ওপেন এক্সেস ট্যারিফ দ্রুত চূড়ান্ত করতে হবে। পাশাপাশি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালার গলদ দূর করে বেসরকারি খাতের উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পিডিবি কীভাবে কিনবে, তার সুনির্দিষ্ট আইনি গাইডলাইন তৈরি করাও প্রয়োজন। টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা এবং দেশের প্রধান রপ্তানি খাতের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় সরকার আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা দূর করে বেসরকারি সৌরবিদ্যুতের এই অগ্রযাত্রাকে নির্বিঘ্ন করবে- এটাই প্রত্যাশা।