প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ১৮ জুন, ২০২৬
দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গ্রাস করা মাদক নামক মরণব্যাধির বিস্তার রোধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে (নারকোটিক্স) ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। গত সোমবার এক প্রতিবেদনে প্রকাশ- মাঠপর্যায়ে মাদকবিরোধী অভিযানে সক্ষমতা বাড়াতে এবার স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাঠে নামছে নারকোটিক্সের সদস্যরা। এরইমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে এবং সেনাবাহিনীর মাধ্যমে অস্ত্র ক্রয়ের প্রক্রিয়া চলছে। শুধু অস্ত্রই নয়; ডগ স্কোয়াড, সাইবার ইউনিট, অর্থ পাচার তদন্ত সেল এবং ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের মাধ্যমে সংস্থাটিকে একটি আধুনিক ও শক্তিশালী কাঠামো দেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে।
তবে শুধু অত্যাধুনিক অস্ত্র বা প্রযুক্তি দিয়ে মাদকের শিকড় উপড়ানো সম্ভব নয়, যদি না এর পেছনে দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা থাকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, অতীতেও অনেক গডফাদার রাজনৈতিক আশ্রয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছেন, এমনকি তাদের নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও আসীন হতে দেখা গেছে। আমরা মনে করি, মাদকের গডফাদাররা যতক্ষণ পর্যন্ত রাজনৈতিক ছাতার নিচে সুরক্ষা পাবেন, ততক্ষণ মাঠপর্যায়ে সাধারণ বিক্রেতা বা মাদকাসক্তদের ধরে পরিস্থিতির কোনো স্থায়ী পরিবর্তন আনা যাবে না। এ জন্য প্রয়োজন রাঘববোয়ালদের জিরো টলারেন্স নীতিতে আইনের আওতায় আনা। আরেকটি বড় দুশ্চিন্তার জায়গা হলো, খোদ সংস্থার ভেতরে থাকা শর্ষের ভূত। নারকোটিক্সের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারাই স্বীকার করেছেন, অঢেল কাঁচা টাকার লোভ সামলাতে না পেরে অধিদপ্তরের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা মাদককারবারিদের প্রত্যক্ষ সহায়তা দেন। তাই অভিযান সংশ্লিষ্টদের নীতি ও নৈতিকতার জায়গায় অটল থাকা খুবই জরুরি। প্রয়োজন অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি রোধে কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহির ব্যবস্থা।
উল্লেখ্য, মাদকের বিচারে দীর্ঘসূত্রতা দূর করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং দুদকের মতো নিজস্ব মামলা রেকর্ডের ক্ষমতা চাওয়ার বিষয়টিও যৌক্তিক। বর্তমানের প্রায় ৫ লাখ মাদক মামলার জট কমাতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। একইসঙ্গে গুগল ও আইএনসিবির সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর সহযোগিতার উদ্যোগটি বৈশ্বিক মাদক চোরাচালান রোধে সহায়ক হবে। আমরা মনে করি, মাদককে রুখতে হলে শুধু শক্তির প্রয়োগ নয়, বরং সমন্বিত শুদ্ধি অভিযান প্রয়োজন। সরকারের উচ্চপর্যায়ের সদিচ্ছা, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সততা এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার দ্রুততা- এই তিনের সমন্বয় ঘটলে তবেই মাদকের অভিশাপ থেকে দেশকে মুক্ত করা সম্ভব হবে। অন্যথায় সব আয়োজনই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।