ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সুন্দরবনে বিপন্ন বনজীবীরা : দস্যুদের থামাতে দরকার কঠোর পদক্ষেপ

সুন্দরবনে বিপন্ন বনজীবীরা : দস্যুদের থামাতে দরকার কঠোর পদক্ষেপ

বিশ্বের অন্যতম জীববৈচিত্র্যের ভাণ্ডার সুন্দরবন থেকে জলদস্যু ও বনদস্যুরা সরকারের নানামুখী উদ্যোগে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছিল। এতে জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের জীবনে স্বস্তি দেখা দিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু গোয়েন্দা তথ্য এবং সরেজমিন অনুসন্ধান খুবই উদ্বেগজনক এক বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও সুন্দরবনে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে দস্যুবাহিনী।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে করিম শরীফ, দুলাভাই, বড় জাহাঙ্গীর, দয়াল, ছোট জাহাঙ্গীর, নানা ভাই ও কাজল মুন্না বাহিনী- এই সাতটি সংঘবদ্ধ দস্যু দল দুই শতাধিক সদস্য নিয়ে বনের বিভিন্ন জোনে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। মাছ ধরা, মধু ও গোলপাতা সংগ্রহের মৌসুমে সুন্দরবনের গহিন খালে এবং নদীতে তাদের তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। অস্ত্র ঠেকিয়ে অপহরণ এবং মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায় এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবার আরও বড় বিপদের ভয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো প্রশাসনের দ্বারস্থ হতেও সাহস পাচ্ছে না। সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয়- অতীতে আত্মসমর্পণ করা দস্যুদের অনেকেই সঠিক বা টেকসই পুনর্বাসনের অভাবে আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। অনেকে আবার আত্মসমর্পণকে শুধু আইনি প্রক্রিয়ার হাত থেকে বাঁচার সাময়িক কৌশল হিসাবে ব্যবহার করছে। বনের দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান, ঘন জঙ্গল, নেটওয়ার্কের অনুপস্থিতি এবং আধুনিক অস্ত্রের অভাবের সুযোগ নিয়ে দস্যুরা পার পেয়ে যাচ্ছে।

যদিও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ‘অপারেশন রিস্টোর পিস’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ অভিযানের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক অস্ত্র উদ্ধার ও বেশকিছু দস্যুকে আটক করা সম্ভব হয়েছে এবং সরকারের ৩ মাসের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার কারণে অপরাধ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে; তবে এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেই যখন মৌয়াল ও জেলেরা বনে ফিরবেন, তখন দস্যুদের হিংস্রতা আবারও বাড়ার আশঙ্কা প্রবল।

সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল লাখ লাখ প্রান্তিক মানুষের জীবন ও জীবিকা নিশ্চিত করতে হলে শুধু মৌসুমি অভিযান যথেষ্ট নয়; কোস্ট গার্ড ও নৌপুলিশের জন্য আধুনিক ট্র্যাকিং প্রযুক্তি, দুর্গম খালের উপযোগী দ্রুতগামী নৌযান এবং স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে হবে। সুন্দরবনকে প্রকৃত অর্থেই দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে হলে রাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি এবং নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ করতে হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত