প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ২১ আগস্ট, ২০২৬
ঢাকায় গণপরিবহন ব্যবস্থার সংকট দীর্ঘদিনের। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মহানগরী ঢাকা। অথচ এখানে একটি সমন্বিত ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন ব্যবস্থা এখনো গড়ে ওঠেনি। প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নানা প্রয়োজনে গণপরিবহন ব্যবহার করেন। তাদের বড় একটি অংশকে প্রতিদিন অসহনীয় ভোগান্তির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয়। এ ভোগান্তির সবচেয়ে বড় শিকার নারীরা। বাসে ওঠার সময় তাদের অনেকটা পুরুষদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয়। বাসে জায়গা পাওয়া কঠিন। অনেক ক্ষেত্রে নারী যাত্রীকে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়। বাসস্টপ নিরাপদ নয়। গন্তব্যে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত উদ্বেগ তাদের সঙ্গী হয়ে থাকে। কর্মজীবী নারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও কঠিন। এ বাস্তবতায় পিংক বাস কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে। নারী চালক ও কর্মীদের উপস্থিতি যাত্রীদের মধ্যে নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি করবে। একজন নারী চালককে দেখে অন্য নারীরাও এ পেশায় আসতে উৎসাহিত হতে পারেন। ফলে এ উদ্যোগ নারীদের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগও তৈরি করেছে। নিরাপদ যাতায়াতের পাশাপাশি এটি নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতেও ভূমিকা রাখবে। তবে পিংক বাসকে কোনোভাবেই ঢাকার গণপরিবহন সমস্যার পূর্ণ সমাধান হিসেবে দেখা যাবে না। এটি একটি বিশেষ সেবা। ঢাকার প্রয়োজন একটি আধুনিক, নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা। সে ব্যবস্থায় নারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য বিশেষ সুবিধা থাকতে হবে। আধুনিক শহরের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো শক্তিশালী গণপরিবহন। সিঙ্গাপুরের দিকে তাকালে বিষয়টি স্পষ্ট হয়। সেখানে বাস, মেট্রো ও অন্যান্য পরিবহন ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সূচি ও যাত্রীদের জন্য সহজ টিকিট ব্যবস্থা আছে। স্টেশন ও যানবাহনে আছে নিরাপত্তার ব্যবস্থা। ফলে ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর মানুষের নির্ভরতা কমে। শহরের চলাচলও সহজ হয়। ঢাকার ক্ষেত্রেও এমন সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। মেট্রোরেল, বাস, রেল ও অন্যান্য গণপরিবহনকে একই পরিকল্পনার আওতায় আনা জরুরি। বাসের রুট নির্ধারণে অনুসরণ করতে হবে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। নির্দিষ্ট বাসস্টপ থাকতে হবে। সেখানে যাত্রীদের জন্য থাকবে নিরাপদে অপেক্ষার ব্যবস্থা। ফুটপাত ও পথচারী পারাপারের ব্যবস্থাও উন্নত করতে হবে। পিংক বাসের পরিধি আরও বাড়ানো দরকার। শুধু কয়েকটি রুটে এ সেবা সীমিত রাখা উচিত নয়। ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সব রুটে নারী যাত্রীদের নিরাপদ পরিবহনের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাড়াতে হবে বাসের সংখ্যা। সেবার মানও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে ঢাকা হয়ে উঠুক এমন একটি শহর, যেখানে গণপরিবহন হবে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল, সহজলভ্য এবং সবার জন্য স্বস্তিদায়ক।