
কক্সবাজারের সীমান্ত জনপদ টেকনাফ উপকূল দিয়ে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া পাচারের আগেই ১০ জনকে উদ্ধার করেছে র্যাব। এদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী রয়েছেন। একই সময়ে পাচারকারি চক্রের এক সদস্যকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া পাচারকারি হলেন টেকনাফ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের নাইট্যংপাড়ার নূর মোহাম্মদের ছেলে আব্দুল আমিন। বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নাইট্যংপাড়ার পিএইচপি বরফ কলের পাশে এই অভিযান চালানো হয়। কক্সবাজারে দায়িত্বরত র্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (আইন ও গণমাধ্যম) ও সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক বৃহস্পতিবার বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের মাধ্যমে র্যাবের টেকনাফ ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে, একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্র জোরপূর্বক ও প্রলোভনের মাধ্যমে কয়েকজন বাংলাদেশি পুরুষ ও নারীকে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাচারের জন্য টেকনাফ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের নাইট্যংপাড়ায় জড়ো করেছে। ওই সংবাদের ভিত্তিতে, গত বুধবার আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে নাইট্যংপাড়ার পিএইচপি বরফ মিলের পাশে হাবিবুল্লাহর বাড়ির সামনের এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
এদিকে র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করে। ওই সময় র্যাব সদস্যরা ধাওয়া করে আব্দুল আমিনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। র্যাবের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া আব্দুল করিমকে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারে, তিনি ও তার পলাতক সহযোগীরা পরস্পর যোগসাজশে উদ্ধার করা ভিকটিমদের বাংলাদেশ থেকে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাচারের জন্য ঘটনাস্থলে জড়ো করেছিলেন। অপরদিকে অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে মানবপাচারের শিকার ১০ জন ভিকটিমকে নিরাপদে উদ্ধার করে র্যাব হেফাজতে নেয়া হয়।
র্যাব জানিয়েছে, উদ্ধার করা ভিকটিমদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তাদের সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাচারের জন্য ওই স্থানে নিয়ে আসা হয়েছিল।
উদ্ধার করা ভিকটিম ও গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন র্যাব কর্মকর্তা আ. ম. ফারুক।