ঢাকা শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি

জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি

অনলাইন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ও সাইবার স্পেসকে কাজে লাগিয়ে মাদক এবং মাদক তৈরির নিয়ন্ত্রিত উপকরণ বিক্রির বিষয়টি নিঃসন্দেহে উদ্বেগের। যথাযথ নজরদারির অভাবই যে এ জন্য দায়ী, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যদিও ডিএনসির গোয়েন্দা বিভাগের ছদ্মবেশী অভিযানের মাধ্যমে রাজধানীর একাধিক জায়গা থেকে এসব কেমিক্যাল জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

সম্প্রতি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) উদ্যোগেই বিষয়টি উন্মোচিত হয়েছে। দেশের বড় কেমিক্যাল বিক্রির একটি ওয়েবসাইট এবং শীর্ষস্থানীয় একটি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে অনিয়ন্ত্রিতভাবে অ্যাসিটিক অ্যানহাইড্রাইড, অ্যাসিটোন, সালফিউরিক অ্যাসিড কিংবা টিএইচসির মতো বিপজ্জনক উপাদান বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়। এসব কেমিক্যাল মূলত হেরোইন, এলএসডি, কোকেন ও ইয়াবার মতো মারাত্মক মাদক তৈরির প্রধান উপকরণ।

প্রশ্ন হচ্ছে, যে কেমিক্যালগুলো শুধুই নির্দিষ্ট ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বা নিবন্ধিত শিল্পের জন্য আমদানির অনুমতি রয়েছে, সেগুলো কীভাবে অবাধে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চলে আসে এবং বিক্রি হয়? এখানে দুটি সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে। প্রথমত, আমদানিকারকরা ‘মিথ্যা ঘোষণা’ দিয়ে অবৈধ পথে এগুলো দেশে আনছেন। দ্বিতীয়ত, লাইসেন্সধারী কিছু অসৎ প্রতিষ্ঠান প্রশাসনের অজান্তে চোরেই পথে এসব কেমিক্যাল খোলাবাজারে বা অনলাইন চক্রের হাতে তুলে দিচ্ছে। আর অনলাইনে এক পণ্যের আড়ালে বিক্রি হচ্ছে অবৈধ এসব মাদক উপকরণ।

সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জরিপ মতে, দেশে মাদকসেবী প্রায় দেড় কোটি। বিস্ময়কর হচ্ছে, দেশে মোট মাদক বেচাকেনার বেশিরভাগই হয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে। একথা সবারই জানা যে, এ বিষয়ে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মাদক পাচারের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের বিধান যুক্ত করা হয়। তখন ধারণা করা হয়, কঠোর শাস্তির ভয় মাদক ব্যবসাকে নিয়ন্ত্রণে আনবে। কিন্তু বিগত সাত বছরের বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সামগ্রিকভাবে মাদক ব্যবসা ও পাচারের বিস্তার কমার পরিবর্তে বরং বেড়েছে বলে নানা গবেষণায় উঠে আসতে দেখা গেছে। তবে সম্প্রতি নতুন সংশোধনীতে সেই নীতি সম্প্রসারণ করে অনলাইন মাদক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও মৃত্যুদণ্ডের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি সংসদে পাস হওয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০২৬-এর মাধ্যমে সাইবার মাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মাদক কেনাবেচা, সরবরাহ বা বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এ সত্ত্বেও ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে এ প্রবণতা অব্যাহত থাকার বিষয়টি অত্যন্ত হতাশার।

আমরা মনে করি, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মাদক কিংবা মাদকের উপকরণ বেচাকেনা অব্যাহত থাকা দুর্বল তদারকি ব্যবস্থারই সাক্ষ্য বহন করে। দেশে মাদক প্রতিরোধে একমাত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা হিসেবে কাজ করছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ ছাড়া আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করছে পুলিশ ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) পাশাপাশি আরও কিছু সরকারি সহযোগী সংস্থা। এসব সস্থার কেউই এই দায় এড়াতে পারে না। যেহেতু মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর আইন রয়েছে, তাই এর বিরুদ্ধে আইনিটির কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। কেননা, আইনের প্রয়োগের শৈথিল্যের কারণেই অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। আমাদের প্রত্যাশা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম মাধ্যমে তদারকি ব্যবস্থার আরও জোরদার করা হবে এবং প্রকৃত জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত