প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ডেঙ্গু এখন আর শুধু মৌসুমি স্বাস্থ্যঝুঁকি নয়; এটি নগরজীবনসহ সারাদেশের জন্য একটি বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ। এডিস মশার বিস্তার, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জলাবদ্ধতা এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। এমন বাস্তবতায় আগামী তিন মাসকে ঝুঁকিপূর্ণ সময় বিবেচনা করে দেশব্যাপী বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক অভিযান নেওয়ার উদ্যোগটি সময়োপযোগী।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া এ কর্মসূচির সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো— এতে শুধু মশকনিধনকে সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং পরিচ্ছন্নতা, জনসচেতনতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাস্তবতা হলো, মশকনিধন কার্যক্রম যতই জোরদার করা হোক, বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র কিংবা নির্মাণাধীন স্থানে জমে থাকা পানি অপসারণ করা না গেলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কঠিন।
প্রতি শনিবার স্বেচ্ছাসেবক ও শিক্ষার্থীদের বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনায় গিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা প্রশংসনীয়। তবে এ উদ্যোগ যেন শুধু উদ্বোধনী আয়োজন বা কয়েক সপ্তাহের প্রচারণায় সীমাবদ্ধ না থাকে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় থাকতে হবে। কোথায় এডিসের প্রজননস্থল পাওয়া যাচ্ছে, তা চিহ্নিত করে দ্রুতব্যবস্থা নেওয়া এবং নিয়মিত নজরদারি চালানো প্রয়োজন।
একই সঙ্গে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণাকে আরও কার্যকর করতে হবে। শুধু ডেঙ্গুর ভয় দেখিয়ে নয়, মানুষকে সহজ ভাষায় জানাতে হবে— কীভাবে নিজের ঘর ও আশপাশ নিরাপদ রাখা যায় এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
সবচেয়ে বড় কথা, ডেঙ্গু প্রতিরোধ কোনো একক মন্ত্রণালয়, সিটি কর্পোরেশন বা সরকারের দায়িত্ব নয়। এটি নাগরিকদেরও সমান দায়িত্ব। সরকারি উদ্যোগ তখনই সফল হবে, যখন প্রত্যেকে নিজের বাড়ি, কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখবেন এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করবেন।
ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে তিন মাসের এ অভিযানকে তাই নিছক একটি কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি নাগরিক অভ্যাস গড়ে তোলার সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, সমন্বিত উদ্যোগ এবং সচেতন নাগরিক অংশগ্রহণই পারে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কার্যকরভাবে কমাতে।