ঢাকা সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

কৃষকের চাহিদাই হোক সার ব্যবস্থাপনার ভিত্তি

কৃষকের চাহিদাই হোক সার ব্যবস্থাপনার ভিত্তি

কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কৃষকের উৎপাদন ব্যাহত হলে তার প্রভাব পড়ে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। তাই কৃষকের প্রয়োজনের সময়, প্রয়োজনীয় পরিমাণে এবং সঠিক দামে সার সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অক্টোবর মাসের জন্য দেশের ৬৪ জেলার চাহিদার বিপরীতে শতভাগ নন-ইউরিয়া সার বরাদ্দের উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের মোট চাহিদা ৩ লাখ ১৪ হাজার ৬১৬ মেট্রিক টন। সমপরিমাণ সার বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলাভিত্তিক চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে এ বরাদ্দ নির্ধারণের ফলে কৃষকের প্রয়োজন অনুযায়ী সার সরবরাহের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কৃষিপ্রধান জেলাগুলোর চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

তবে কাগজে-কলমে শতভাগ বরাদ্দ নিশ্চিত করাই সার ব্যবস্থাপনার চূড়ান্ত সাফল্য নয়। বরাদ্দকৃত সার যথাসময়ে কৃষকের কাছে পৌঁছানো, নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধ করাই হবে প্রকৃত সাফল্যের মাপকাঠি। কোনো এলাকায় বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও কৃষক যদি প্রয়োজনের সময় সার না পান, তাহলে সেই বরাদ্দের সুফল উৎপাদনে প্রতিফলিত হবে না।

এ ক্ষেত্রে রবি ও বোরো মৌসুমের চাহিদা বিবেচনায় আগাম আমদানি, পর্যাপ্ত মজুত, পরিবহন এবং মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদারের উদ্যোগ আশাব্যঞ্জক। সরকারি হিসাবে, এ দুই মৌসুমে সারের মোট চাহিদা ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার মেট্রিক টনের বিপরীতে প্রস্তুত সরবরাহ রয়েছে ৫১ লাখ ৭১ হাজার টন। এ উদ্বৃত্ত সরবরাহের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মজুতের মান, পরিবহনব্যবস্থা ও বিতরণপ্রক্রিয়ার কার্যকারিতাও নিশ্চিত করতে হবে।

একই সঙ্গে ৬৪ জেলায় সার মনিটরিং সেল গঠন এবং ডিলারদের মাধ্যমে সুষম উপ-বরাদ্দের উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন জরুরি। অনিয়ম, মজুতদারি ও অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা থাকতে হবে। কৃষকের অভিযোগ জানানোর সহজ পথ এবং নিয়মিত তদারকি এ ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে আবহাওয়া, সেচ, বীজ ও উৎপাদন খরচের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তাই সার ব্যবস্থাপনাকে এসব বিষয় থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখার সুযোগ নেই। কৃষকের প্রকৃত চাহিদা নিয়মিত যাচাই করে পরিকল্পনা হালনাগাদ করাও প্রয়োজন।

সার বরাদ্দের এ উদ্যোগের সুফল তখনই দৃশ্যমান হবে, যখন দেশের প্রতিটি প্রান্তের কৃষক সময়মতো, ন্যায্যমূল্যে ও নির্বিঘ্নে সার পাবেন। কৃষকের স্বস্তি, উৎপাদনের ধারাবাহিকতা এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হোক সার ব্যবস্থাপনার মূল লক্ষ্য।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত