প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ২১ অক্টোবর, ২০২৬
প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্যের জন্য পঞ্চগড়ের পরিচিতি দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে প্রতিবছর বিশেষ করে অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত আকাশ পরিষ্কার থাকলে হিমালয় পর্বতমালার তৃতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
এই দৃশ্য দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন অসংখ্য প্রকৃতিপ্রেমী। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার এ যাত্রা তাদের জন্য কতটা স্বস্তিদায়ক? পঞ্চগড়ে পর্যটন সম্ভাবনা অনেক।
তবে শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য থাকলেই পর্যটনের পূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়। কাঞ্চনজঙ্ঘা ঘিরে পর্যটকদের আগমন স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পরিবহন, খাবারের দোকান, আবাসন ও ক্ষুদ্র ব্যবসার প্রসারের মাধ্যমে সৃষ্টি হতে পারে নতুন কর্মসংস্থান।
তবে এ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে পর্যটনকেন্দ্রিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। একজন পর্যটকের ভ্রমণ শুরু হয় গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই যাত্রাপথ থেকে।
সড়কের ভাঙাচোরা অংশ, খানাখন্দ, ধীরগতির যান চলাচল ও দীর্ঘ পথের ক্লান্তি ভ্রমণের আনন্দ অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।
পঞ্চগড়ের বিভিন্ন সড়কের প্রকৃত অবস্থা নিয়মিত পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করাও তাই গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন, সড়ক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কাঞ্চনজঙ্ঘাকে ঘিরে পঞ্চগড়ের পর্যটন আরও সমৃদ্ধ করতে হলে সৌন্দর্যের পাশাপাশি যাত্রাপথের স্বস্তি, নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার টানে মানুষ আসুক পঞ্চগড়ে, আর যাত্রাপথের স্বস্তি ও সুন্দর অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে যাক নিজ নিজ গন্তব্যে এটাই হোক আমাদের প্রত্যাশা।
লেখক : শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজ