
অস্কার ওয়াইল্ডের বিখ্যাত রূপকথা ‘দ্য সেলফিশ জায়ান্ট’ বা স্বার্থপর রাক্ষসের গল্প শোনেননি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। বিশাল প্রাসাদের দেয়ালে নিজেকে বন্দি করে রাখা সেই দানবটি একসময় শিশুদের ভালোবাসতে শেখে, ভালোবাসতে শেখে প্রকৃতিকে। তবে এবার সেই স্বার্থপর রাক্ষসের সঙ্গেই যেন নিজের জীবনের এক অদ্ভুত মিল খুঁজে পেলেন ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রু´িণী মৈত্র।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ভেতরের একরাশ অনুভূতির কথা শেয়ার করে রু´িণী বলেন, ‘আমরা আসলে সবাই দিন দিন একেকজন সেলফিশ জায়ান্ট হয়ে উঠছি।’ শৈশবের স্মৃতি রোমন্থন করে এই অভিনেত্রী জানান, ছোটবেলায় যখন তিনি গল্পটি পড়েছিলেন, তখন সেখানে একটি লাইন তার মনে গভীরভাবে দাগ কেটেছিল।
গল্পে লেখা ছিল- সেই রাক্ষসটি খুব সীমিত কথা বলত, সব কথা বলার অধিকার বা স্বাধীনতা তার ছিল না। রু´িণীর কথায়, ‘ছোটবেলায় ওই লাইনটা পড়ার পর আমি কেমন যেন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। তীব্র এক অনুভূতি নিয়ে দৌড়ে দাদার কাছে চলে গিয়েছিলাম গল্প করতে। কেন জানি না, কথাটা আমার মনে খুব লেগেছিল।’ তার কথায়, ‘আর আজ বাস্তব জীবনে এসে মনে হচ্ছে, আমরা সবাই এখন সেই পর্যায়ে পৌঁছে গেছি। আমাদের নিজেদেরও এখন কথা বলার ওপর নানা সীমাবদ্ধতা বজায় রাখতে হয়। এখন একটা সময় পর আমরা সবাই একেকজন স্বার্থপর রাক্ষসেই পরিণত হয়ে গিয়েছি। যে কোনো কথা বলার আগে এখন আমাদের হাজারবার চিন্তা-ভাবনা করতে হয়। মন খুলে সব কিছু আমরা আর বলতেই পারি না।’